যমুনা ফিউচার পার্কে হাইপার মার্কেট ‘হোলসেল ক্লাব’ উদ্বোধন

পাইকারি মূল্যে বিশ্বমানের নিত্যপণ্য আনল যমুনা গ্রুপ

যতদিন বেঁচে আছি, মানুষের সেবা করব-বিশিষ্ট শিল্পপতি নুরুল ইসলাম * যমুনার সব পণ্যের আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে-গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী * ‘আর বিদেশ নয়, দেশের টাকা দেশেই থাকবে’ * কো-ব্র্যান্ড ও প্রি-পেইড কার্ড সুবিধা দেবে ইস্টার্ন ব্যাংক

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হোল সেল ক্লাব
যমুনা ফিউচার পার্কে মঙ্গলবার দেশের সর্বপ্রথম ও সর্ববৃহৎ হাইপার মার্কেট ‘হোলসেল ক্লাব লি.’ সুপারশপের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কেক কাটছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাড. সালমা ইসলাম এমপি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলাম, পরিচালক জাকির হোসেন, যুগান্তর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি সাইফুল আলমসহ অতিথিরা। ছবি- যুগান্তর

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কে চালু হল যুক্তরাষ্ট্রের স্টাইলে হাইপার মার্কেট ‘হোলসেল ক্লাব’। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে পাইকারি মূল্যে ভেজালমুক্ত বিশ্বমানের নিত্যপণ্য পৌঁছে দিচ্ছে দেশের স্বনামধন্য গ্রুপ অব কোম্পানি যমুনা গ্রুপ।

রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে মঙ্গলবার গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম অত্যাধুনিক এই হাইপার মার্কেটের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, এই গ্রুপের প্রতিটি পণ্যের একটি স্বতস্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর নতুন উদ্যোগের ফলে বিদেশে মার্কেট করতে যাওয়ার হার কমে আসবে।

অনুষ্ঠানে যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি নুরুল ইসলাম বলেন, এক ছাদের নিচে ন্যায্যমূল্যে পণ্য পৌঁছে দেয়া আমাদের অঙ্গীকার। এর মাধ্যমে দেশ-বিদেশের নামিদামি ব্র্যান্ডের ৫ শতাধিক পণ্য গ্রাহকের হাতে তুলে দেয়া হবে। তিনি বলেন, শুরু থেকে মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। যতদিন বেঁচে থাকি সেবা করে যাব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যমুনা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলাম, পরিচালক শেখ মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ, পরিচালক জাকির হোসেন, ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার, দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম প্রমুখ।

আরও উপস্থিত ছিলেন যমুনা গ্রুপের পরিচালক মনিকা নাজনিন ইসলাম, সুমাইয়া হোসেন ইসলাম (রোজালিন), কামরুল ইসলাম, মেহনাজ ইসলাম (তানিয়া) প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন যমুনা গ্রুপের পরিচালক (সেলস, মার্কেটিং অ্যান্ড অপারেশনস) ড. মোহাম্মদ আলমগীর আলম।

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, এ অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি আনন্দিত। কারণ যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেব একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এতদূর এগোবে, তা আমরা কল্পনাও করিনি।

যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান এখানে বলেছেন, যমুনা ফিউচার পার্ক প্রকল্প শুরুর সময় অনেকে ওনাকে উপহাস করত। কিন্তু ওনার স্বপ্ন দূরদর্শী ছিল। যে কারণে আজ তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে ওনার সদিচ্ছা ও হিম্মতের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত, আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের কারণে।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যানের বক্তব্য আমার খুব ভালো লেগেছে। উনি বলেছেন, অন্যকে প্রতারিত করে নিজে ভালো থাকা যায় না। সাধারণত ব্যবসায়ীরা এ ধরনের কথা বলেন না। ছোট পরিসরে শুরু করে আজ যমুনা গ্রুপ যে পরিসরে পৌঁছেছে, তা অন্যদেরও আশার সঞ্চার করে।

ঐকান্তিক ইচ্ছা, নিরলস প্রচেষ্টা, সততা এবং অধ্যবসায় নিয়ে যদি কেউ ব্যবসা করেন, তখন তার পথে বাধা থাকে না। অনেক সময় বাধা এলেও সেটি অতিক্রম করা সম্ভব।

যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান চলার পথে নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে এগিয়ে গেছেন- এমন মন্তব্য করে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ওনার মিডিয়াসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত সুখ্যাতির সঙ্গে চলছে। আমার দৃষ্টিতে অন্যান্য গ্রুপের চেয়ে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর আলাদা একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। দেশের মানুষও সেভাবে তাদের গ্রহণ করেছে।

আশা করছি এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। কিন্তু ভেজাল খাওয়ার কারণে রোগের মাত্রা এত বেশি বেড়েছে যে, আয়ুষ্কালের মধ্যেই মারা যাচ্ছে মানুষ। অথবা রোগের কারণে অর্ধমৃত অবস্থায় হাসপাতালে পড়ে থাকতে হয়। যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেছেন, তিনি ভেজালমুক্ত পণ্য দেবেন। এটি আমাকে আশাবাদী করেছে।

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ভেজাল প্রসাধনীর কারণে আমাদের মা, বোন ও সন্তানদের চামড়ায় ক্যান্সার হচ্ছে। চিকিৎসাতেও যা সারছে না। এ ধরনের ক্রান্তিকালে যমুনা গ্রুপ চমৎকার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

তিনি বলেন, আমরা এখন আর ব্যাংকক, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর অস্ট্রেলিয়াসহ কোনো দেশে পারফিউমসহ অন্যান্য পণ্য কিনতে যাব না। যমুনা ফিউচার পার্কে বিশ্বমানের সেবা পেলে অন্য দেশে কেন যাব? এক্ষেত্রে যমুনা গ্রুপের ক্রেডিট থাকবে- দেশের টাকা বিদেশে গিয়ে অনাহূত ব্যয় করা বন্ধ হবে। এটি একটি দেশপ্রেমের কাজ।

যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, আজ এমন একটি উপহার আমি আপনাদের দিতে চাই যা মানুষের কল্পনার বাইরে ছিল। আমারও এটি কল্পনার মধ্যে ছিল না।

এই উপহার হল- একই ছাদের নিচে, একই জায়গায় দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য সবার কাছে পৌঁছে দেয়া। পণ্যের মধ্যে মাছ, মাংস, তরকারি, শাকসবজি থেকে শুরু করে প্রসাধনী পর্যন্ত রয়েছে। তিনি বলেন, সারা পৃথিবী থেকে নামিদামি ব্র্যান্ডের ভেজালমুক্ত পণ্য কালেকশন করে ন্যায্য দামে আপনাদের হাতে পৌঁছানোর দায়িত্ব নিয়েছি আমরা।

আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, শতভাগ ভেজালমুক্ত পণ্য কোনো দরকষাকষি ছাড়া একদামে পাইকারি মূল্যে আপনি নিয়ে যাবেন। এতে কোনোরকম ছলচাতুরী ও ঠগবাজির সুযোগ নেই। কারণ এই চ্যালেঞ্জ নিয়েই যমুনা ফিউচার পার্কে এ ধরনের একটি আয়োজন করেছি। তিনি বলেন, আমি আপনাদের সেবার দায়িত্ব নিয়েছি। যতদিন বেঁচে থাকি সেবা করে যাব।

ওয়াদা থেকে আমি কখনও পেছনে যাব না। আপনারা এখান থেকে নির্ভয়ে জিনিসপত্র নিয়ে আনন্দ সহকারে বাসায় যাবেন। আমার বিশ্বাস দিনশেষে একবার হলেও ভাববেন, যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ফিউচার পার্কে এ রকম একটি আয়োজন করে আমাদের যে ওয়াদা দিয়েছিলেন, তিনি তা রেখেছেন।

যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, আপনাদের দোয়ায় আল্লাহ আমাদের অনেক ভালো পজিশনে রেখেছেন। আমরা ছোট একটি দেশে বাস করি। একে অপরকে চিনি। ভালো-মন্দ নিয়েই আমাদের বাংলাদেশ। সব পেশাতেই ভালো-মন্দ রয়েছে। তবে সবকিছুর মালিক আল্লাহ। তিনি বলেন, কেউ ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে সৎপথে কাজ করলে তার রেজাল্ট পায়।

তার মতে, মানুষের জন্য সবকিছুর আয়োজন করা আল্লাহরই দায়িত্ব। ভাগ্য নির্ধারণ করেন একমাত্র আল্লাহ। আর মানুষের দায়িত্ব হল কাজ করে যাওয়া।

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, কাউকে ঠকিয়ে বা কারও সঙ্গে প্রতারণা করে পৃথিবীতে কেউ কোনোদিন ভালো থাকতে পারেনি। ইতিহাস বলে, কাউকে ঠকিয়ে কিছু সময়ের জন্য আনন্দে থাকা যায়।

কিন্তু অন্যায়ভাবে কাউকে ঠকানো হলে তার রেজাল্ট আপনি অবশ্যই পাবেন। আর এই বিষয়টি মনে রেখেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমি কাজ করে যাচ্ছি। এ কারণেই আমি ওয়াদা দিচ্ছি, ভেজালমুক্ত ন্যায্য দামে প্রতিটি পণ্য আপনাদের সামনে উপস্থিত করব। আমি শুধু আপনাদের ভালোবাসা ও দোয়া চাই।

বিশিষ্ট এই শিল্পপতি বলেন, আমি যখন যমুনা ফিউচার পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলাম, তখন অনেকে বলেছে, এই লোকটার মাথা খারাপ বা বুদ্ধির কোনো ঘাটতি রয়েছে। তা না হলে বাংলাদেশে এত বড় মার্কেট করার উদ্যোগ নিত না। তারা ভাবত বাংলাদেশে মানুষ একবেলা খেয়ে আরেক বেলা না খেয়ে থাকে। এখনও ডাস্টবিনে মানুষ ও কুকুর খাবার ভাগাভাগি করে খায়, সেখানে এত মার্কেট।

উনি ভালো চিন্তাধারার হলে এটা করতেন না। এসব কথা শুনে আমি মনে মনে হাসতাম। আজ প্রমাণ করেছি, আমরা পারি। সারা পৃথিবী থেকে যেসব মানুষ বাংলাদেশে আসে, তারা ফিউচার পার্কে দল বেঁধে আসে। আনন্দ করে। ওইসব বিদেশি বুঝতে পারে, বাংলাদেশ অনেক উচ্চতায় পৌঁছে গেছে।

নুরুল ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালের সেই গরিবের অবস্থায় বাংলাদেশ আর নেই। তিনি বলেন, যমুনা ফিউচার পার্ক এখন আমার নয়, সারা বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের সম্পদ। আমি ম্যানেজার হিসেবে দেখাশোনার দায়িত্বে আছি। সেবা দিয়ে যাচ্ছি। বিদেশিরা যখন এই ফিউচার পার্কের প্রশংসা করে, তখন দেশের সব নাগরিক এর অংশীদার হয়।

এখানে যারা ব্যবসা করেন, তাদের জিজ্ঞাসা করেন, তারা কোনোরকম অসহযোগিতা পায় কিনা। কোনোরকম সমস্যা হলে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াই। আমরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা শত শত লোক এদের নিয়ে ভাবি। সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করি।

তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, এয়ারকন্ডিশন এবং নিরাপত্তাসহ যাবতীয় সেবার বিষয় ভাবছি। এখানে যারা ব্যবসা করেন তারা প্রত্যেকে আমাদের ওপর খুশি এবং দোয়া করেন। তিনি আরও বলেন, আপনারা আমাদের সম্পদ। আপনাদের দোয়া-ভালোবাসা পেলে যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন মানুষের সেবা করব।

ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন ধারণা নিয়ে এসেছে যমুনা গ্রুপ। আর এর অংশীদার হতে পেরে গর্বিত ইস্টার্ন ব্যাংক। তিনি বলেন, হোলসেল ক্লাবের গ্রাহকদের কো-ব্র্যান্ড কার্ড ও প্রি-পেইড কার্ড দিচ্ছি আমরা। এই কার্ডে ক্যাশব্যাক সুবিধাসহ অনেক সেবা পাওয়া যাবে। এটি গ্রাহকের সব প্রত্যাশা পূরণ করবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়- কসমেটিক্স, খাবার আইটেম, কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে একজন মানুষের ব্যবহৃত সব ধরনের পণ্য পাইকারি দরে পাওয়া যাবে। ক্রেতাদের ভিড় এড়াতে থাকবে ৩০টি ক্যাশ কাউন্টার।

যেখানে একসঙ্গে অনেক ক্রেতা তাদের বিল পরিশোধ করতে পারবেন। দুই ধরনের মেম্বারশিপ কার্ড রয়েছে- রেগুলার ও বিজনেস কার্ড এবং এক্সক্লুসিভ কার্ড। রেগুলার ও বিজনেস কার্ডের মূল্য ১ হাজার ৫শ’ টাকা।

এই কার্ডে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাবেন ক্রেতারা। আর এক্সক্লুসিভ ৩ হাজার ৫শ’ টাকা। তবে এর মধ্যে ৩ হাজার টাকার পণ্য গিফট হিসেবে ফেরত দেয়া হবে। এছাড়াও সব ধরনের পণ্যে ডিসকাউন্টের পাশাপাশি বছরে ২ শতাংশ ক্যাশব্যাক পাবেন ক্রেতারা। শুরুতে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

তবে ক্রেতাদের চাহিদার বিবেচনায় তা ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে আজ যমুনা ফিউচার পার্ক বন্ধ থাকলেও ক্রেতাদের সুবিধার্থে বিশেষ ব্যবস্থায় ‘হোলসেল ক্লাব’ খোলা থাকবে।

এরপর যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, যমুনা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, প্রধান অতিথি শ ম রেজাউল করিমসহ সব অতিথি একসঙ্গে দেশের সর্বপ্রথম ও সর্ববৃহৎ হাইপারমার্কেট ‘হোলসেল ক্লাব’ শুভ উদ্বোধন করেন।

অতিথিরা ফিতা কেটে এই শুভযাত্রায় অংশ নেন। পরে অতিথিরা ‘হোলসেল ক্লাবে’র বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এরপর তারা হোলসেল ক্লাবের অনলাইন লাউঞ্জের উদ্বোধনে অংশ নেন। এখানে ইস্টার্ন ব্যাংকের মাধ্যমে হোলসেল ক্লাব বিষয়ক নানা কার্যক্রম ও সেবা দেয়া হবে। ওইদিন লাউঞ্জে ইস্টার্ন ব্যাংকের হোলসেল ক্লাব ভিসা কার্ডেরও উদ্বোধন করা হয়।

হোলসেল ক্লাবের শুভযাত্রা উপলক্ষে এদিন যমুনা ফিউচার পার্কের সেন্ট্রাল কোর্টে অনুষ্ঠিত হয় কনসার্ট। এই অনুষ্ঠানের কারণে ফিউচার পার্কে ছিল হাজার হাজার আগ্রহী দর্শক ও ক্রেতার সমাগম।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, অত্যাধুনিক এই হাইপার মার্কেটে প্রবেশ করেই সবাই তাদের বিস্ময় প্রকাশ করছেন। এক লাখ স্কয়ারফিটের সুপরিসর এই স্থানে থরে থরে সাজানো আছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের সামগ্রী।

গ্রাহকরা বলছেন, কী নেই এখানে। মাছ, মাংস, শাক-সবজি, চাল, ডাল থেকে শুরু করে সব ধরনের দৈনন্দিন বাজার, প্রসাধনী, বেকারি আইটেম, ফলমূল, আসবাবপত্র, রান্নাঘরের সরঞ্জাম, চাদর থেকে শুরু করে ঘরের যাবতীয় পণ্য, শিশুদের খাবার, ওষুধ, বই এমনকি পোষাপ্রাণীর খাবারও রয়েছে স্বপ্নের এই মার্কেটে। আর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় বিশ্বখ্যাত সব ব্র্যান্ড ও দেশি ব্র্যান্ডের পসরা নিয়ে সাজানো হয়েছে হাইপার মার্কেট। প্রথমদিনই দেখা গেছে উৎসুক জনতার ভিড়।

রাজধানীর উত্তরা থেকে ফাহমিদা খানম এসেছিলেন এখানে। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, সত্যি বলছি, এটা অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার। আমার দুই ছেলে আমেরিকাতে থাকে। আমি সেখানে কিছুদিন আগেও গিয়েছিলাম।

সেখানে ভোজ্যতেলসহ নানা খাবারের যে নামি-দামি ব্র্যান্ডগুলো দেখেছি তার বেশিরভাগই এখানে দেখতে পাচ্ছি। ভাবতে ভালো লাগছে যে এসব ব্র্যান্ডের নানা খাবার, প্রসাধনী এখন আমরা হোলসেল ক্লাবেই পাব। রামপুরা থেকে আসা তরুণ সামিরুল আফসার জানান, এত বিশাল জায়গার হাইপারমার্কেট আমাদের দেশেও যে আছে এটা এখনও অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।

অথচ বাস্তবে দেখছি। মনে হচ্ছে একটা ঐতিহাসিক ঘটনার অংশ হয়ে গেলাম। এমন কোনো জিনিস নেই, যা এখানে পাওয়া যাবে না। এখন থেকে নিয়মিত আসব।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×