মানবতাবিরোধী অপরাধ

গাইবান্ধার পাঁচ রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড : খুশি এলাকাবাসী

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাইবান্ধার পাঁচ রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড : খুশি এলাকাবাসী

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গাইবান্ধার ৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

সর্বোচ্চ সাজার আদেশ পাওয়া ৫ আসামি হলেন মো. রঞ্জু মিয়া, আবদুল জব্বার মণ্ডল, মো. জাছিজার রহমান খোকা, মো. আবদুল ওয়াহেদ মণ্ডল ও মো. মনতাজ আলী বেপারি ওরফে মমতাজ। তাদের মধ্যে কেবল রঞ্জু মিয়া রায়ের সময় আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা পলাতক রয়েছে।

আসামিরা সবাই গাইবান্ধা সদর উপজেলার নান্দিনা ও চক গয়েশপুর গ্রামের বাসিন্দা। একাত্তরে তারা সবাই ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় সদস্য। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষ নিয়ে তারা রাজাকার বাহিনীতে নাম লেখান এবং ওই এলাকার বিভিন্ন গ্রামে যুদ্ধাপরাধ ঘটান বলে উঠে এসেছে এ মামলার বিচারে।

১৭৬ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত বলেছেন, আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা চারটি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগেই আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল। তাদের অপরাধ বিবেচেনা করে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, এ রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ। এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা সর্বোচ্চ আদালতে যাব। কারণ আমার যিনি মক্কেল, মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল ১৪ বছর। শান্তিবাহিনী গঠন বা রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেয়ার বয়স তখন তার ছিল না। তিনি এ মামলার পলাতক চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন।

তাদের বিষয়ে বলেন, রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে তাদের এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, রায়ের এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন আসামিরা। তবে সেই সুযোগ নিতে হলে পলাতকদের আগে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এ মামলায় মোট আসামি ছিলেন ৬ জন। তাদের মধ্যে আজগর হোসেন খান মামলার তদন্ত চলাকালেই মারা যান।

রায়ে খুশি এলাকাবাসী, দ্রুত কার্যকরের দাবি : একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৫ রাজাকারের ফাঁসির রায় দিয়েছেন মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক যুদ্ধ অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দীর্ঘদিন পর বিচার পাওয়ায় খুশি শহীদ পরিবার, হামলা ও নির্যাতনের শিকার পরিবার, মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী। রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি তাদের।

মঙ্গলবার এলাকায় এক আনন্দমুখর পরিবেশ ও মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা গেছে। মামলার বাদী সাহাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, আমার জীবনের একটি শ্রেষ্ঠ ঘটনা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এ রায় পেয়েছি আমরা। এখন এসব রাজাকারের দ্রুত ফাঁসি চাই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×