ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপপ্রয়োগের অভিযোগ

  আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল ব্যুরো ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশাল

ম্যাজিস্ট্রেটের বিকল গাড়ি মেরামতে মিস্ত্রি না পাঠানোয় গ্যারেজের বিদ্যুতের লাইন কেটে তারসহ মিটার নিয়ে গেছে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন।

এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (আজ) সকাল থেকে টানা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বরিশাল নগরীর গাড়ির গ্যারেজ এবং লৌহ ও ইস্পাতের ওয়ার্কশপসমূহ। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা অবশ্য এ অভিযোগ স্বীকার করেননি।

তারা বলছেন, ওই গ্যারেজে মিটার বাইপাস করে বিদ্যুৎ চুরি করায় তারসহ মিটার খুলে আনা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, যে গ্যারেজে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভাগের গাড়ির মেরামতের কাজ চলে সেখানে বিদ্যুৎ চুরির ঘটনাটি বুধবারই কেন ধরা পড়ল? তাছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগের এই ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি বিকল হওয়া, সেখানে মিস্ত্রি না পাঠানোর ১ ঘণ্টার মধ্যেই বা কেন এভাবে প্রশ্নবিদ্ধ অভিযান চালাল বিদ্যুৎ বিভাগ? যদিও এসব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট দফতরের কেউ।

বরিশাল মটর গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির সভাপতি নির্মল চন্দ্র দাস জানান, ‘বুধবার দুপুরে বিদ্যুৎ বিভাগের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমানের গাড়ি চালক সোহেল আমায় ফোন দিয়ে জানান যে পটুয়াখালী শহর থেকে ৪ কি.মি দূরে ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি বিকল হয়েছে। তিনি বরিশাল থেকে একজন মিস্ত্রি পাঠাতে বলেন। পূজার ছুটি শেষে সবাই না আসায় এবং বরিশাল থেকে ঘটনাস্থল প্রায় ৫০ কি.মি দূরে হওয়ায় মিস্ত্রি পাঠানো যাবে না বলে জানিয়ে দেই।

এর ঠিক ২৫-৩০ মিনিট পরই বিদ্যুৎ অফিসের একজন সহকারী প্রকৌশলীর নেতৃত্বে কয়েকজন এসে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার গ্যারেজের বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করে তারসহ দুটি মিটার কেটে নিয়ে যায়। জিজ্ঞেস করলে আমাকে বলা হয় ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে।’

বিকল গাড়ির চালক সোহেল জানান, ‘গাড়ি বিকল হওয়ার সময় ম্যাজিস্ট্রেট স্যার গাড়িতেই ছিলেন। মিস্ত্রি না পাওয়ায় স্যার অন্য গাড়িতে পটুয়াখালী জজ কোর্টে যান।’

অভিযোগ জানতে যোগাযোগ করা হলে বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী জুয়েল রানা বলেন, ‘নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশে লাইন কেটে তারসহ মিটার নিয়ে এসেছি।’ কী কারণে এ নির্দেশ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয়ই ভালো বলতে পারবেন। আমি কিছুই জানি না।’

নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দাবি করেন যে ওই গ্যারেজে মিটার বাইপাস করে বিদ্যুৎ চুরি করায় তারসহ মিটার খুলে আনা হয়েছে

। আজ (বুধবার) ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ঝামেলা হল, আজই বিদ্যুৎ চুরি ধরা পড়ল, ঘটনা কাকতালীয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কী হয়েছে তা আমার জানা নেই। মিটার বাইপাস করার বিষয়টি ধরা পড়ার পর লাইন কেটে তার ও মিটার আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

চুরি প্রমাণ করার জন্য স্থানীয় কোনো সাক্ষী বা বস্তুগত প্রমাণ আপনাদের কাছে আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চুরির আবার প্রমাণ কী? চুরি করেছে আমরা তার মিটার কেটে এনেছি ব্যস।’

গ্যারেজ মালিক নির্মল চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমার গ্যারেজে বহু বছর ধরে বিদ্যুৎ বিভাগের গাড়ি মেরামতের কাজ চলে। বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এখানে প্রতিনিয়তই আসেন। এত বছরেও তারা কেউ দেখলেন না বিদ্যুৎ চুরি, আর আজই সেটা ধরা পড়ল? প্রতি মাসে মিটার রিডার এসে রিডিং নিয়ে যায়। তার চোখেও কিছু ধরা পড়ল না? মিস্ত্রি পাঠাইনি বলেই ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার বিদ্যুতের লাইন কেটে দিয়েছেন। যারা লাইন কাটতে এলো তারা পর্যন্ত বলতে পারেনি, কী কারণে লাইন কাটা হচ্ছে।’

বিষয়টি জানতে বিদ্যুতের ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি তা ধরেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি তার কাছ থেকে।’

বরিশাল গ্যারেজ এবং ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল চৌধুরী বলেন, ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের এমন নমুনা আগে কখনও দেখিনি আমরা। পটুয়াখালী শহরে অনেক গ্যারেজ আছে।

কিন্তু তারপরও ৫০ কিলোমিটার দূরের বরিশাল থেকে গাড়ি মেরামতে মিস্ত্রি না পাঠানোয় এভাবে বিদ্যুতের লাইন কেটে দেয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বরিশাল নগরীর সকল গাড়ি মেরামতের গ্যারেজ এবং সব ধরনের ওয়ার্কশপ বন্ধ থাকবে। তাছাড়া আজ অশ্বিনী কুমার হলের সামনে মানববন্ধন ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের স্মারকলিপি দেব। এই অন্যায়ের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×