দেবিদ্বারে গোমতী থেকে বালু উত্তোলন চলছেই

চক্রের খুঁটির জোর কোথায়- প্রশ্ন এলাকাবাসীর * ঝুঁকিতে নদী রক্ষা বাঁধ, দুই পারের মানুষ

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লা

কুমিল্লার দেবিদ্বারে গোমতী নদীর মাটি ও বালু লুটে নিচ্ছে প্রভাবশালী চক্র। উপজেলার অন্তত ১০ স্থানে এ নদীর তলদেশ থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করছে চক্রটি। এতে নদী রক্ষা বাঁধ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। আচমকা ভাঙনে ভিটেমাটি বিলীন ও ফসলি জমি ধ্বংসের শঙ্কায় রয়েছেন দুই পারের বাসিন্দারা।

উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু এখনও থামেনি মাটি-বালু তোলা। উপজেলার জাফরগঞ্জ, খলিলপুর, লক্ষ্মীপুর, বারেরা, হামলাবাড়ী, বালীবাড়ী, দেবিদ্বার, আবদুল্লাহপুর, বড় আলমপুর, বিনাইপাড় এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে দেদার তোলা হচ্ছে বালু ও মাটি।

গোমতী নদীর উৎপত্তিস্থল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের অমরপুর, উদয়পুর, সোনাইমুড়ীর বিশাল জলাশয় থেকে। নদীটি কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কটকবাজার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে বুড়িচং, দেবিদ্বার, মুরাদনগর, তিতাস ও দাউদকান্দি হয়ে মেঘনা নদীতে মিলিত হয়েছে। বাংলাদেশ অংশে নদীটির দৈর্ঘ্য ৮৩ কিলোমিটার।

স্থানীয়রা জানায়, এক সময় কুমিল্লার মানুষের জন্য এ নদী দুঃখ-দুর্দশার কারণ ছিল। কিন্তু নদীর দুই পাশে বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর তা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য আশীর্বাদে পরিণত হয়। সময়ের পরিক্রমায় নদীটি এখন ভূমিদস্যু ও প্রভাবশালী বালু সিন্ডিকেটের দখলে।

স্থানীয়রা জানান, বালু ও মাটি উত্তোলনকারীদের মধ্যে রয়েছেন- বিনাইপাড়ের আজিজ মিয়া ও মনু মিয়া, চান্দপুরের জাকির হোসেন, শাকিল মিয়া, কালিকাপুরের আলামিন ও জাফরগঞ্জের অপু।

ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়া জানান, গোমতী নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলনে যেমন বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়ছে, তেমনি আমাদের ফসলি জমিগুলোও ধ্বংসের মুখে রয়েছে।

রসুলপুরের ইউনুস মিয়া, সিরাজুল ইসলাম ও সুন্দর আলী জানান, নদী ভাঙন ও মাটি ধসের বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আমাদের বাড়ি-ঘর ও ফসলি জমি নিয়ে আমরা উদ্বেগে আছি। প্রশাসন যেন ওই চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় সেটাই প্রত্যাশা করছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাব জোনাল কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন জানান, বেড়িবাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে ট্রাক্টর চলাচল এবং বালু ও মাটি বহনের ফলে বাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়া যে কোনো সময় নদীপারে বড় ধসের সৃষ্টি হতে পারে। ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু ও মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছি।

সম্প্রতি দুদক যে অভিযান চালায় তাতে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. হেলাল উদ্দিন শরীফ। তিনি জানান, অভিযান চালানোর সময় নদী সাঁতরে ১০ ড্রেজার ব্যবসায়ী পালিয়ে যান। তবে চরবাকর ও খলিলপুর থেকে ৫ ড্রেজার ব্যবসায়ীকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

এছাড়া দুটি ট্রাক্টর ও মেসার্স সাথী এন্টারপ্রাইজের একটি ট্রলারসহ ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়। সূত্র জানায়, সর্বশেষ ১৪ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসন খলিলপুরে অভিযান চালায়। সেখান থেকেও জব্দ করা হয় কয়েকটি ড্রেজার।

গোমতীর মাটি উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন এ আসনের সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল। নদী সুরক্ষায় কঠোর হওয়ার জন্য তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।

উপজেলা প্রশাসন ও দুদকের অভিযান এবং এমপির নির্দেশের পরও মাটি ও বালু চক্রের দৌরাত্ম্য না থামায় এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন- ‘তাদের খুঁটির জোর কোথায়’। তারা তা খুঁজে বের করার দাবি তুলেছেন। নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নদী, বাঁধ ও পারের বাসিন্দাদের রক্ষায় দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বানও জানান বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান বলেন, গোমতী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন জঘন্য অপরাধ। যে কোনোভাবে হোক তা বন্ধ করা হবে। এর সঙ্গে জড়িতদের কিছুতেই ছাড় দেয়া হবে না।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×