যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে পাংশা পৌরসভার মেয়র: পৌরবাসী কর দিচ্ছে বলেই সেবা দিতে পারছি

  হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ী প্রতিনিধি ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাংশা পৌরসভার মেয়র আবদুল আল মাসুদ
পাংশা পৌরসভার মেয়র আবদুল আল মাসুদ

পাংশা পৌরসভার যাত্রা শুরু ১৯৯০ সালে। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভাটির আয়তন ১২৫২ বর্গকিলোমিটার। এখানে ৩৬ হাজার ৭৩৭ জন লোকের বাস। মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজারের কিছু বেশি। ২০১৮ সালের ৯ মে এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা লাভ করে।

বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল আল মাসুদ। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি বিএনপি’র চাঁদ আলী খানকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন।

দায়িত্ব পালনের সাড়ে তিন বছরে তিনি বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার, সড়কে বাতি স্থাপনসহ উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করেছেন। তারপরও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা।

বৃষ্টি হলেই শহরের রাস্তায় পানি জমে। জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। শিশুদের জন্য পার্ক নেই। ফুটপাতগুলো দখলে থাকায় পথচারীদের হাঁটাচলায় অসুবিধা হয়। এ নিয়ে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোক্তার হোসেন বলেন, ‘রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জিল্লুল হাকিমের প্রচেষ্টায় পৌরসভাটির অনেক উন্নয়ন হলেও জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়েই গেছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু করা দরকার।’

ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘গত সাড়ে তিন বছরে রাস্তাঘাট নির্মাণ, বিদ্যুতায়নসহ অনেক কিছুই হয়েছে। কিন্তু আমাদের শিশুদের বিনোদনের জন্য কোনো শিশুপার্ক হয়নি। একটি শিশুপার্ক হলে পৌরসভার মানুষ উপকৃত হবে।’

এসব অভিযোগের জবাব ও নিজের সফলতার কথা জানাতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন মেয়র আবদুল আল মাসুদ। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের সাড়ে তিন বছরে অনেকগুলো রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার করেছি। সড়ক বাতি স্থাপন করেছি। পৌরসভার অধিকাংশ ঘরবাড়িতে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, পাংশা জর্জ হাইস্কুল সরকারিকরণে ভূমিকা রেখেছি। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মহিলা মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করেছি। শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা করেছি। কয়েকটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এগুলোর আওতায় ড্রেনেজ নির্মাণ, ৩টি পানির লাইন স্থাপন করা হচ্ছে। যেসব বাড়িতে বিদ্যুৎ যায়নি সেসব বাড়িতেও শিগগিরই বিদ্যুৎ চলে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তার অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয়েছে। যা বাকি আছে তা মেয়াদকালের মধ্যেই শেষ করতে পারব বলে আশা করছি।’

মেয়র বলেন, ‘অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শিশুপার্ক নির্মাণ করতে পারছি না। তবে আমার চেষ্টা অব্যাহত আছে। সরকারি সহায়তা পেলে শিশুপার্ক নির্মাণসহ জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ করব। জলাবদ্ধতা দূর করতে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নয়া হয়েছে।’

সেবা পেতে পৌরসভার টেবিলে টেবিলে ঘুষের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পৌরসভা সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত একটি পৌরসভা। সেবা পেতে ও কাজ পেতে কাউকে ঘুষ দিতে হয় না।’

পৌর মেয়র বলেন, ‘পৌরবাসী ঠিকমতোই কর দিচ্ছে। যে কারণে ভালোভাবে তাদের সেবা দিতে পারছি। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করে থাকি। লেখাপড়ার মানোন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। পৌরসভা থেকে গরিব-মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়া হচ্ছে। হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবা কমিটির সদস্য হিসেবে স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে ভূমিকা রাখছি। পৌরসভার পক্ষ থেকে ইপিআই টিকাদান কেন্দ্র পরিচালনা করে নাগরিকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ৯টি ওয়ার্ডে ৯ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ দিয়েছি। তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করে চলেছে। ঝোপঝাড় পরিষ্কার করাসহ নিয়মিত মশক নিধনের জন্য ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পানির বিল ও পৌরকর ডিজিটাল পদ্ধতিতে নেয়া হচ্ছে। হোল্ডিং সংখ্যাও বেড়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র মাসুদ বলেন, ‘জনগণ চাইলে এবং দল মনোনয়ন দিলে আবারও প্রার্থী হব। আমার লক্ষ্য পাংশা পৌরসভাকে আধুনিক পৌরসভায় রূপ দেয়া।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×