ঢাবিতে আবারও ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

নেতৃত্ব দেয় ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ আহত ৪

  ঢাবি প্রতিনিধি ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাবিতে রোববার ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা। ছবি: যুগান্তর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগের নেতাকর্মী পরিচালিত ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ হামলায় নেতৃত্ব দেয়। রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এ হামলায় ছাত্রদলের অন্তত চারজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের নামে থাকা ফেসবুক অ্যাকাউন্টের একটি লেখাকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে’ এ হামলা চালিয়েছে বলে জানান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলায় তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

আহতরা হলেন- জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান শাওন, গত ডাকসু নির্বাচনে ওই হলের হল সংসদে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী তারেক হাসান মামুন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মামুন খান ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওবায়দুল্লাহ নাঈম। শ্যামলের নামে থাকা ওই ফেসবুক আইডির ‘বায়ো’তে লেখা আছে- ‘৭৫-এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’। ওই লেখার জন্য ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং তাকে ‘দেখে নেয়া’র হুশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্রলীগের অনেক নেতা।

তবে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক জানান, ওই ফেসবুক আইডিটি ভুয়া (ফেইক)। তার নামে আরও ১০-১২টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তিনি বিষয়টি জানিয়ে ৬ অক্টোবর রাজধানীর তেজগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে সংবাদ সম্মেলনও করেন শ্যামল।

সংবাদ সম্মেলন শেষে মধুর ক্যান্টিনে যান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের সঙ্গে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন না। সেখানে বসার জায়গা না পেয়ে ফ্লোরেই বসে পড়েন তারা। তখন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একটি সংবাদ সম্মেলন হচ্ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংবাদ সম্মেলন শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দিকে তেড়ে যান ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল, মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপসম্পাদক আল মামুন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও স্যার এএফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এএসএম আল সনেট।

ক্যান্টিনের বাইরে এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর রড ও বাঁশ নিয়ে হামলা চালায় ছাত্রলীগের ১৫-২০ নেতাকর্মী। এদের মধ্যে ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউটের সামনে কয়েকজনকে বেদম প্রহার করা হয়। ছাত্রদলের তিন নারী সদস্যকেও লাঞ্ছিত করা হয়। তারা হলেন- সুলতানা জেসমিন জুঁই, কানেতা ইয়া লামলাম ও মানসুরা আলম। তারা ছাত্রদল নেতাদের ছাত্রলীগের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন।

হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে টিএসসি থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। হামলার প্রতিবাদে পরে বিকাল ৪টায় ঢাবি সাংবাদিক সমিতিতে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদল। এ সময় সেখানে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, তাদের পূর্বসূরিরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। আর তারা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চায়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করেছি। বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে আমরা কোনো ছাড় দেব না। ছাত্রদলকে আমরা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। তবে মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের দাবি, তারা কোনো হামলা করেনি, কেবল প্রতিহত করেছে।

ছাত্রলীগ এ হামলার দায় নেবে না বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। তিনি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ওপর এ হামলার দায় চাপান। তিনি বলেন, কোনো ঘটনা ঘটলেই ছাত্রলীগকে দোষারোপ করা ছাত্রদলের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক না কেন- ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিষয়টি জানানো হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্নমত থাকতেই পারে। এটি সবাইকে মেনে নিতে হবে। ছাত্রদের কাছ থেকে ছাত্রসুলভ আচরণ কাম্য।

ছাত্রদলকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের : ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করা, প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেয়া এবং মহান মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করার অপরাধে’ ছাত্রদলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ ঘোষণা দেয়। এ সময় মঞ্চের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হল- প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেয়া এবং মহান মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করার অপরাধে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শ্যামলকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে; বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননাকারী জামায়াত-বিএনপি-শিবির-ছাত্রদলের রাজনীতি সারা দেশে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী ছাত্রদলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত