তিন করখেলাপির ব্যাংক হিসাবে বিশেষ নজরদারি

  হামিদ বিশ্বাস ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এনবিআর
এনবিআর। ফাইল ছবি

করখেলাপির দায়ে তিন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে বিশেষ নজরদারি বাড়াতে সব বাণিজ্যিক ব্যাংকে নোটিশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তাদের হিসাবে যে কোনো ধরনের টাকা জমা থাকলে তা থেকে কেটে কর ফাঁকি ও জরিমানা বাবদ সমপরিমাণ টাকা সঙ্গে সঙ্গে রাজস্ব বোর্ডে পাঠাতে বলা হয়েছে।

৩ অক্টোবর ৫১টি ব্যাংকে এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তিন ব্যক্তির কাছে জরিমানাসহ মোট করখেলাপির পরিমাণ ১ কোটি ৭৩ হাজার ৯২৪ টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, কর ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা বৃদ্ধির কারণেই বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। বাজেট ঘাটতি পূরণে ধার করতে হচ্ছে বিদেশি সংস্থা ও দেশীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেয়া বাড়িয়েছে সরকার। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ৫১ দিনেই ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ২৬ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা ধার করেছে সরকার।

প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে তফসিলি ব্যাংক থেকে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক জোগান দিয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। অথচ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের পুরো সময়ে ব্যাংক থেকে সরকার ধার করেছিল ২৬ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা।

রাজধানীর উত্তরার অধিবাসী মিসেস রোকসানা বেগমের কাছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পাওনা টাকার পরিমাণ ১৭ লাখ ৬৮ হাজার ৩০ টাকা। তার স্বামীর নাম আলমগীর কবির। উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের অপর করখেলাপির নাম মো. নজরুল ইসলাম।

পিতা মো. আবদুল মান্নান। তার বিরুদ্ধে ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৮০৩ টাকা কর ফাঁকির অভিযোগ এনবিআরের। অপর করখেলাপির নাম সালমান এস আলম। পিতা কর্নেল (অব.) শামসুল আলম। তিনি উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের অধিবাসী। তার বিরুদ্ধে ৪৯ লাখ ৯৫ হাজার ৯১ টাকা কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ১৪৩ ধারা অনুযায়ী অবিলম্বে করখেলাপিদের ব্যাংক হিসাবে কোনো টাকা জমা থাকলে উল্লিখিত সমপরিমাণ টাকা ঢাকার কর অঞ্চল-৯, কর সার্কেল-১৯৪ এর উপ-কর কমিশনারের কার্যালয় বরাবর পে-অর্ডারের মাধ্যমে পাঠাতে বলা হয়েছে।

একইভাবে তাদের হিসাবে বর্তমানে না থাকলেও ভবিষ্যতে কোনো টাকা জমা হওয়ামাত্র আদেশটি কার্যকর হবে। এ নোটিশ পাওয়ার পরও উল্লিখিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে করখেলাপির টাকা আদায় ছাড়া কোনো লেনদেন অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এর দায়ভার নিতে হবে।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘দেশের চার কোটি লোকের কর দেয়ার সামর্থ্য আছে। তাদের বেশির ভাগই স্বতঃপ্রণোদিতভাবে কর দেন না। আমরা তাদের কর জালে আনার উদ্যোগ নিয়েছি।’

চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, রাজস্ব আদায় বাড়াতে এবার নতুন কোনো কর আরোপ করছি না। দেশে চার কোটি নাগরিক মধ্যম আয়ের অন্তর্ভুক্ত।

অথচ আয়কর দিচ্ছেন ২০-২২ লাখ লোক। এ সংখ্যা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এক কোটিতে নিয়ে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিয়ে যেতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অপচয় রোধ করা প্রয়োজন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×