আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স রোবটিকসে নজর জয়ের

এক মিনিটেই ‘নগদ’ হিসাব সেবার উদ্বোধন * সারা দেশে তরুণদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে * মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিটিসিএলের ফোনে সংযোগ ফি লাগবে না

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জয়
সচিবালয়ে মঙ্গলবার ‘এক মিনিটে নগদ হিসাব’ সেবা উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। ছবি: যুগান্তর

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উন্নয়নের লক্ষ্যে এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও রোবটিকসে বিশেষ নজর দেয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

মঙ্গলবার বিকালে হোটেল র‌্যাডিসনে সিআরআইয়ের আয়োজনে ‘ডিজিটাল ফিউচার অন ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বাংলাদেশের তরুণরাও যাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জন করতে পারেন, সেজন্য সরকারের আইসিটি বিভাগের এলআইসিটি প্রকল্প থেকে রোবটিকস, আইওটি ও এআই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এগুলোর ওপর স্পেশালি গুরুত্ব দিয়েছি এবার। এ বিষয়গুলোয় প্রশিক্ষণ ও রিসার্চ ফ্যাসিলিটি করে দিলে এক্সপার্টিজের দিক থেকে আমরা অন্য দেশ থেকে এগিয়ে যাব। এসব বিষয় নতুন, খুব বেশি বিশেষজ্ঞ নেই। নিজেদের উদ্যোগে রিসার্চ করলে এসব সেক্টরে আমাদের সম্ভাবনা আছে। দেশেই সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনাও জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

প্রযুক্তির দিক থেকে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যের কথা জানিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, এআই, রোবটিকস, মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইনে ফোকাস করছি, দীর্ঘ মেয়াদে তা সহযোগিতা করবে। তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে আরও বেশি বরাদ্দ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ডিজিটাল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা শীর্ষক নতুন একটি প্রকল্পের আওতায় দেশের সব স্কুল-কলেজে ওয়াইফাই জোন করা হচ্ছে বলে জানান সজীব ওয়াজেদ জয়। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রশিক্ষণগুলো আরও বেশি ঢাকার বাইরে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি।

সারা দেশে তরুণদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে : সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে তরুণদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়, এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সারা দেশে নিয়ে যাওয়া হবে। দেশজুড়ে তরুণদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তিনি বলেন, প্রতিবছর সরকারের আয় বাড়ছে, তরুণদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার জন্য বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইসিটির প্রশিক্ষণগুলো ঢাকার বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে। ঢাকার বাইরেও এ ধরনের অনুষ্ঠান করা হবে। ফ্রিল্যান্সার কীভাবে হওয়া যায়, এ প্রশিক্ষণও দেয়া হবে। জয় বলেন, যারা কোনোদিন স্কুলে যায়নি, ঝরে পড়েছে; তাদের জন্য বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেয়া হবে। সবার পক্ষে শিক্ষা নিয়ে কর্মসংস্থান করা সম্ভব নয়। তাই শিক্ষার বাইরে থাকাদের জন্য প্রকল্প নেয়া হবে।

তিনি বলেন, সব বিষয়ই নতুন। আমাদের বেশি বিশেষজ্ঞ নেই। নিজেদের উদ্যোগে রিসার্চ করলে এসব সেক্টরে আমাদের সম্ভাবনা আছে। আমরা যেসব সিস্টেম ব্যবহার করি, সেগুলো বিদেশি। লং-টার্ম সহযোগিতার মাধ্যমে বিদেশিদের ওপর যাতে নির্ভরশীল হয়ে থাকতে না হয়, সে উদ্যোগ নেয়া হবে।

আজকের তরুণদের দেখে আমি গর্বিত- এমন মন্তব্য করে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, তারা সরকারের কাছে হাত পেতে নয়, দেশ গড়তে তারা নিজেরাই আজ এগিয়ে এসেছে।

তিনি বলেন, আমরাই পারি, আমাদের তরুণরাই পারে। তারা নিজ উদ্যোগে দেশকে এবং দেশের মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে তরুণদের কাছ থেকে দেশ নিয়ে তাদের ভাবনার কথা শোনেন সজীব ওয়াজেদ। এ সময় তরুণদের বেশকিছু প্রশ্নের উত্তরও দেন তিনি।

বর্তমানে কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম এককভাবে শহরকেন্দ্রিক নয় জানিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে সজীব ওয়াজেদ বলেন, আমরা দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে ইন্টারনেট ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ফাইবার অপটিক্যাল লাইন পৌঁছে দিচ্ছি।

এখন পর্যন্ত আড়াই হাজার ইউনিয়নে তা পৌঁছে গেছে। সেই সঙ্গে স্টার্টআপ তৈরি, ইনোভেশন এবং উদ্যোক্তা তৈরির জন্য নেয়া সরকারি প্রশিক্ষণগুলো কিছুদিনের মধ্যেই সারা দেশ থেকে আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি। স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে সব স্কুলে একটি করে ওয়াই-ফাই জোন করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

এ সময় সজীব ওয়াজেদ বর্তমান তরুণদের অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, আপনার সন্তানকে নিজ পায়ে দাঁড়াতে শেখান। ২৫ বছর বয়সে কেউই বাচ্চা বা শিশু থাকে না।

অথচ আমার দেশে ২৫ বছর বয়সী একজন নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খুলতে পারে না। তাহলে ভবিষ্যতে তারা নিজ পায়ে কবে দাঁড়াবে! তাদেরকে চাকরির কথা না বলে নিজ উদ্যোগে কাজ করতে বলুন। তাদের ভুল করতে দিন। কেননা নিজের ভুল থেকে যে শিক্ষা হয়, তা আমরা সহজে ভুলি না।

এ সময় উপস্থিত তরুণদের গ্রহণ করা বেশ কিছু উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে সজীব ওয়াজেদ বলেন, শুধু বিসিএসের চিন্তা করা স্বার্থপরের মতো এক চিন্তা। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অফিস। নিজের পরিবার নিয়ে ভালো থাকা। তারপর পেনশন।

কিন্তু আপনি সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, তা থেকে আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আপনার আয় থেকে আয়কর লাভ করে রাষ্ট্র। আপনার প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের আয় থেকে রাষ্ট্র আয় পাবে। রাষ্ট্র সেই আয় দেশের জনসাধারণের জন্য কাজে লাগাতে পারবে। তাই নিজ উদ্যোগে কাজ করুন। আপনারা নিজে কোম্পানি খুলুন।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার শাহ আলী ফারহাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের সমন্বয়ক তন্ময় আহমেদ ও ২০১৭ সালের জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী জহির ইকবাল নান্নু।

এছাড়া বিগত তিনবার জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী, ইয়াং বাংলার জেলা কো-অর্ডিনেটর, ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর ও স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এক মিনিটেই ‘নগদ’ হিসাব : বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন সেবা ‘নগদ’-এ মাত্র এক মিনিটে হিসাব খোলার সুবিধা উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে এক অনুষ্ঠানে এ সেবা উদ্বোধন করেন তিনি।

বাংলাদেশের জনগণের জন্য আর্থিক সেবা খাতকে আরও সহজ ও নিরাপদ করতে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদন সেবা ‘নগদ’কে ‘পরিচয়’ অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে সংযুক্ত করে হিসাব খোলা যাবে। আগে যে কোনো মোবাইল অ্যাকাউন্টের জাতীয় পরিচয়পত্র শনাক্ত করতে ৫ দিন সময় লাগত।

এ ছাড়াও সজীব ওয়াজেদ জয় অনুষ্ঠানে বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট, টেলিটকের উদ্যোগে আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদফতরের ‘আইএসবিএন বারকোড’ সেবা ও ওয়েবভিত্তিক অনলাইনকরণ, টেলিটকের টেলি-পে সেবা এবং টেসিসের নতুন পণ্য ল্যাপটপ ও মোবাইল উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, নগদের এমডি তানভীর মিশুকসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা।

সচিবালয়ে বৈঠক শেষে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বিটিসিএলের ল্যান্ডফোনের সংযোগ ফি মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, বিটিসিএল ল্যান্ডফোনে মাসিক ভাড়া ১৮০ টাকা আগেই তুলে দেয়া হয়েছে এবং ১৫০ টাকায় সারা মাস কথার সুযোগ আগেই দেয়ার কথা হয়েছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে যারা নতুন সংযোগ গ্রহণ করবেন এবং পুনঃসংযোগ নেবেন, তাদের কোনো ফি দিতে হবে না। বিনামূল্যে সংযোগ নিতে পারবেন।

ল্যান্ডফোনে সংযোগ ফি মওকুফের সুযোগ কতদিন থাকবে জানতে চাইলে মোস্তাফা জব্বার বলেন, এখন থেকে ২০২০ সাল পুরোটা চলবে এবং আজ থেকে কার্যকর করা হবে।

পুনঃসংযোগের ক্ষেত্রে বকেয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বকেয়াটা তো দিতে হবে। হয়তো দেখা যাবে, তেমন কোনো ফি দিতে হবে না।

ফিক্সড ফোনের সংখ্যা দিন দিন কমছে জানিয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, আজকের সিদ্ধান্তের ফলে বহুজন এটাকে ব্যবহার করবে। এখন ল্যান্ডফোন থেকে মোবাইল ফোনে কথা বলা যাবে মাত্র ৫২ পয়সায়।

এ ফোনের সঙ্গে ইন্টারনেট সেবাও দেয়া হচ্ছে, যা দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড দিতে সক্ষম হচ্ছে। বিটিসিএলের তৃণমূল পর্যন্ত সেবা দেয়ার সক্ষমতা রয়েছে। ফিক্সড ফাইভ-জি বিটিসিএলের মাধ্যমে দিতে চেষ্টা করা হবে।

বিটিসিএলের পরিচালক (জনসংযোগ ও প্রকাশনা) মীর মোহাম্মদ মোরশেদ জানান, বিটিসিএল ফোন সংযোগ নিতে ঢাকায় এক হাজার টাকা জামানত, এক হাজার টাকা সংযোগ ফি ও ১৫০ টাকা ভ্যাটসহ ২ হাজার ১৫০ টাকা দিতে হয়। চট্টগ্রামে সংযোগ ফি ৫০০ টাকা এবং দেশের অন্যান্য স্থানে সংযোগ ফি ৩০০ টাকা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×