দুই মেগা প্রকল্পের গতিপথে জটিলতা

সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তে পরিবর্তন হচ্ছে এক্সপ্রেসওয়ের নকশা * প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয়বৃদ্ধির আশঙ্কা

  হামিদ-উজ-জামান ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে দুই মেগা প্রকল্প কর্ণফুলী টানেল

চট্টগ্রামের দুই মেগা প্রকল্প কর্ণফুলী টানেল ও চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের অ্যালাইনমেন্ট (গতিপথ) নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নকশা ও কর্ণফুলী টানেলের প্রস্তাবিত নকশার ভিন্নতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা জটিল হবে।

এ ছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের শেষ প্রান্ত ও কর্ণফুলী প্রকল্পের শেষ প্রান্ত বর্তমানে কর্ণফুলী টানেলের নির্মাণাধীন জি-১ রোডে হলে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে এক্সপ্রেসওয়ের নকশা পরিবর্তন করা জরুরি। সম্প্রতি এ জটিলতা এড়াতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর এক্সপ্রেসওয়ের নকশা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে মেয়াদ ও ব্যয়বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের পরিচালক মো. হারুনুর রশীদ বুধবার যুগান্তরকে বলেন, কিছুটা জটিলতা তৈরি হলেও এখন আর তা নেই। আমরা সমন্বিতভাবেই এ সমস্যার সমাধান করছি। সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই সমস্যা কেটে যাবে।

সূত্র জানায়, ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় সমন্বয় সভা। এতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের অ্যালাইনমেন্টটি কর্ণফুলী টানেল ও চিটাগং আউটার রিং রোডের অ্যাপ্রোচ রোডের অ্যালাইনমেন্টের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের পরিচালক বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা ডিজাইন অনুযায়ী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের শেষ প্রান্ত কর্ণফুলী টানেলের নির্মাণাধীন জি-১ রোডে হলে যানজট সৃষ্টি হবে।

তাই এর পরিবর্তে সুবিধাজনক স্থান নির্ধারণের অনুরোধ করছি। তিনি আরও বলেন, কর্ণফুলী টানেলের সামনে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংশোধিত নকশা অতিদ্রুত সেতু কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। এরপর সেতু কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা ফেন্সিং দিয়ে কাজ শুরু করার অনুমতি দিতে পারবে।

সভায় সেতু কর্তৃপক্ষের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও কর্ণফুলী টানেলের সিনিয়র কন্সালটেন্ট কবির আহমেদ জানান, কর্ণফুলী টানেলের নির্মাণাধীন জি-১ রোডটি সি-বিচের সংযোগ সড়ক সংলগ্ন হওয়ায় যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। তাই এটি কর্ণফুলী টানেল ও বিমানবন্দর সংযোগ সড়কের সুবিধাজনক স্থানে নির্ধারণ করার অনুরোধ জানাচ্ছি। এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান প্রকৌশলী জানান, বর্তমানে সল্ট গোলায় বিদ্যমান রাস্তার মাঝখানে ১২ মিটার নিরাপত্তা ফেন্সিং দিয়ে ফ্লাইওভারের কাজ শুরু হয়েছে।

ওই অংশে ফেন্সিংয়ের বাইরে রাস্তা প্রশস্তকরণের পর বর্তমানে গাড়ি চলাচলের জন্য ২৫ ফুট রাস্তা রয়েছে। যা অপর্যাপ্ত এবং কোনো কোনো জায়গায় পিডিবির বৈদ্যুতিক পোল থাকায় বিদ্যমান রাস্তার প্রশস্ততা ১৯ ফুটে দাঁড়িয়েছে। ফলে দুটি ট্রেইলর চলাচল করা সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সল্টগোলা থেকে সিমেন্ট ক্রসিং অংশে কাজ শুরু হলে বন্দর অচল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বারিক বিল্ডিং থেকে সল্টগোলা ক্রসিং অংশে ফ্লাইওভারের অ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তিত অ্যালইনমেন্টের মতো সল্টগোলা থেকে সিমেন্ট ক্রসিং পর্যন্ত অংশে ফ্লাইওভারের অ্যালাইনমেন্ট বিদ্যমান রাস্তার বাইরে স্থানান্তর করে কাজ করার অনুরোধ জানান।

সমন্বয় সভায় অংশ নেয়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আগে থেকেই সমন্বিতভাবে প্রকল্পগুলো তৈরি করা গেলে এরকম জটিলতা এড়ানো যেত। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সময়ই বিষয়গুলো ভেবে দেখা দরকার ছিল। এখন নকশায় পরিবর্তন করতে একদিকে যেমন সময় বাড়ছে, তেমনি ব্যয় বাড়ারও আশঙ্কা থেকে যায়।

সূত্র জানায়, বর্তমানে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ডিজাইন পরিবর্তন করা হলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য আর ২ কিলোমিটার বাড়বে। ফলে প্রকল্পের মেয়াদও বাড়বে। বর্তমানে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হচ্ছে ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের মেয়াদ রয়েছে।

অন্যদিকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের প্রথম টানেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০১৫ সালের নভেম্বরে অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২০ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটি সম্ভব না হওয়ায় সম্প্রতি প্রকল্পটি সংশোধনের মাধ্যমে মূল অনুমোদিত ব্যয় থেকে ১ হাজার ৯৪৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ১০ হাজার ৩৯১ কোটি ১০ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ও মেয়াদ আড়াই বছর বাড়িয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×