দিনভর বাস ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ: ভোলায় ঐক্য পরিষদের দোয়া মাহফিল হয়নি

  যুগান্তর ডেস্ক ২৬ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভোলায় আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সতর্ক অবস্থান
ভোলায় আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সতর্ক অবস্থান। ছবি: যুগান্তর

ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের শুক্রবারের দোয়া মাহফিল শেষ পর্যন্ত হয়নি। প্রশাসনের অনুরোধে বৃহস্পতিবারই মাহফিল স্থগিত করা হয়।

ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর চরমোনাই পীর মাওলানা ফয়জুল করিম প্রধান অতিথির বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল। এদিকে প্রশাসনের ইঙ্গিত এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শুক্রবার বরিশাল-ভোলা লঞ্চ চলাচল দিনভর বন্ধ ছিল।

পরে বিকাল থেকে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ছাড়া এদিন অভ্যন্তরীণ রুটেও বাস চলাচল বন্ধ ছিল। এ ছাড়া ভোলার ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার বাদ জুমা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন মুসল্লিরা। সমাবেশ থেকে জড়িতদের বিচার দাবি করা হয়েছে। খবর যুগান্তর রিপোর্ট, ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের।

ভোলা ও ভোলা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি জানান, বোরহানউদ্দিনে সংখ্যালঘু যুবকের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে অসৎ উদ্দেশ্যে ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ৪ ব্যক্তির স্মরণে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক (প্রধান মুখপাত্র) মাওলানা মিজানুর রহমান বলেছেন, প্রশাসনের অনুমতি না মেলায় কর্মসূচি বৃহস্পতিবারই স্থগিত করা হয়েছে।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী দোয়া-মাহফিল হওয়ার কথা ছিল শহরের হাটখোলা মসজিদ চত্বরে। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকালে ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যায়য় মাঠে কর্মসূচি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনটি। পরে অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়। কিন্তু জেলা প্রশাসকের অনুমতি না মেলায় এ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। এর আগে ঘোষণা করেও বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করা সম্ভব হয়নি প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে। তবে আন্দোলনকারীদের ঘোষিত ৬ দফা দাবি আদায়ে দেয়া ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটামের শেষদিন ছিল শুক্রবার।

এ প্রসঙ্গে সংগঠনের নেতারা বলেন, এরই মধ্যে ৬ দফার বেশিরভাগই বাস্তবায়িত হয়েছে। এদিকে শুক্রবারও জেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির টহল অব্যাহত ছিল। সরকারি স্কুল মাঠটিও ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দখলে। শুক্রবারের কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও যে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের ইঙ্গিতে জেলার সব অভ্যন্তরীণ রুট এবং ভোলা-বরিশাল রুটে দিনভর লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

ভোলার বিআইডব্লিউটিসিটির কর্মকর্তা বলেছেন, প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে আমরা ভোলা-বরিশাল লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছিলাম। পরে বিকাল থেকে লঞ্চ চলাচল ফের শুরু হয়েছে। ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, শুক্রবার সরকারি স্কুল মাঠে দোয়া-মাহফিলের অনুমতি না থাকায় তা করা হয়নি। শহরে কিছুটা উত্তেজনা আছে। যার কারণে আমরা পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রেখেছি এবং পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও এতে যুক্ত আছেন। সার্বিক বিবেচনায় ভোলার পরিস্থিতি এখন অনেকটাই শান্ত আছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, সকাল থেকে যাত্রীবাহী বাস ও লঞ্চ বন্ধ থাকলেও দুপুরের পর থেকে সেগুলো স্বাভাবিক হয়েছে।

আটক আরও ৩ : ভোলায় সন্দেহভাজন ৩ জনকে শুক্রবার দুপুরে পুলিশ আটক করেছে। এরা হলেন : দৌলতখান উপজেলার কলাকোপা মাদ্রাসা এলাকার সিহাবউদ্দিন (২৫), মো. শাহীন (২৭) এবং মনপুরা উপজেলার মো. রাসেল। ভোলা থানার ওসি এনায়েত হোসেন জানান, সরকারি বালক স্কুল সংলগ্ন আবহাওয়া অফিস সড়ক এলাকায় সিহাব ও শাহীন সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিল। রাসেলকে আটক করা হয় কেজাহান মার্কেট এলাকা থেকে। এদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সিহাব ও শাহীন জানায়, তারা জুমার নামাজ পড়তে ভোলায় এসেছিলেন।

রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ : এদিকে ভোলায় ধর্ম অবমাননা ও পুলিশের গুলিতে চার ব্যক্তির নিহতের প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকার বায়তুল মোকাররমসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার বাদ জুমা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন মুসল্লিরা।

যুগান্তর রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভোলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে শুক্রবার বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ইসলামী যুব আন্দোলন ঢাকা মহনগর দক্ষিণ। প্রথমে তারা বায়তুল মোকাররম থেকে মিছিল নিয়ে পল্টনের দিকে যাত্রা করে। পল্টন মোড়ে পৌঁছার পর মিছিলটি পুলিশি বাধার মুখে ফের বায়তুল মোকাররমের দিকে ফিরে আসে। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে তারা কর্মসূচি শেষ করে। সমাবেশে সভপতিত্ব করেন যুব আন্দোলন ঢাকা মহনগর দক্ষিণের সভাপতি মানসুর আহমদ সাকী। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ।

তিনি ধর্ম অবমাননা আইন পাস, জড়িতদের গ্রেফতার করে বিচার এবং অজ্ঞাতনামা তৌহিদি জনতার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। বক্তব্য দেন ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কেএম আতিকুর রহমান, ইসলামী যুব আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা নেছার উদ্দীন, ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা শেখ মো. নুর-উন-নবী, হোসাইন মো. কাওছার বাঙালি, মাহবুব আলম, ইলিয়াস হাসান, মল্লিক ইশতিয়াক মো. আল আমিন, মুফতি শরীফুল ইসলাম, নগর উত্তর সভাপতি মুফতি আবু তালহা প্রমুখ।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটিতে কেন্দ্রীয় রেলওয়ে জামে মসজিদের সামনে নারায়ণগঞ্জ হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে বাদ জুমা সমাবেশ হয়।

মসজিদের সামনে ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন নেতারা। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর ও জমিয়তের মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমী। বিশেষ অতিথি ছিলেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা খতিবে বাঙাল খ্যাত জোনায়েদ আল হাবিব। নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের আমীর ও ডিআইটি মসজিদের খতিব আবদুল আউয়ালের সভাপতিত্ব ও হেফাজতের জেলা সমন্বয়ক ফেরদাউসুর রহমানের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন রফিকুল ইসলাম, আবদুল কাদির, আজিজুল হক, জাকির হোসাইন কাশেমী, মনির হোসাইন কাশেমী, সিরাজুল মামুন, ইসমাইল হোসেন সিরাজী, ওমর ফারুক, শাব্বির হোসেন প্রমুখ।

এ ছাড়া ইসলাম নিয়ে কটূক্তির বিচার দাবিতে ইসলামী আন্দোলনের উদ্যোগে মানিকগঞ্জ, দিনাজপুরের বিরামপুর, নরসিংদীর পৌরসভার সামনে, নোয়াখালীর কবিরহাটে এবং উলামা মাশায়েখ পরিষদ ও ইসলামী আন্দোলনের উদ্যোগে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার সিটি পয়েন্ট ও ধোপাদীঘির পাড় এলাকা, উলামা মাশায়েখ পরিষদের উদ্যোগে যশোর-খুলনা মহাসড়কের নওয়াপাড়ায় মানববন্ধন, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের উদ্যোগে নোয়াখালীর চাটখিল এবং সাধারণ মুসল্লিরা সাভারের আশুলিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।

ভোলার ঘটনায় নাশকতার চেষ্টায়, বিএনপির চার নেতা গ্রেফতার : ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, ভোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা বিএনপি ও জামায়াতের ২০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেছে মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন : যুবদল নেতা আকমল খান (৪৮), ভরাডোবা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শামছুল হুদাবাবুল (৪০), শ্রমিক দল নেতা সফিকুল ইসলাম (৩৫) ও ভালুকা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রদল নেতা এসএম ফিরোজ আহমেদ (৩০)। ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন জানান, ভোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা নাশকতার চেষ্টা করছিল। এ অভিযোগে ২০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে ভালুকা মডেল থানার এসআই মতিউর রহমান বাদী হয়ে নাশকতা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করেছেন। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×