প্রতিশ্রুতির চেয়েও বেশি কাজ করেছি: হোসেনপুর পৌরসভার মেয়র

  মো. মসিউর রহমান সুমন, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হোসেনপুর পৌরসভার যাত্রা শুরু ২০০৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। আয়তন ৫.৪৬ বর্গকিলোমিটার। ব্রহ্মপুত্র নদ ঘেঁষে গড়ে উঠা এ পৌরসভায় ৩০ হাজার লোকের বসবাস। ভোটার সংখ্যা ১৭ হাজার ৬৭৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ৮১৫ ও নারী ভোটার ৮ হাজার ৮৬২ জন।

২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পৌরসভাটি খ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। বর্তমান মেয়র সাবেক জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য মো. আবদুল কাইয়ুম খোকন। ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ হোসেন হাছুকে পরাজিত করে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। দায়িত্ব নিয়ে গত সাড়ে ৩ বছরে উন্নয়নমূলক অনেক কাজ তিনি করেছেন। এনেছেন ইতিবাচক অনেক পরিবর্তন। তারপরও কিছু সমস্যা রয়ে গেছে।

পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, হোসেনপুর পৌরসভা দ্বিতীয় শ্রেণির হওয়ায় ট্যাক্স বেড়েছে কিন্তু নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি। আমার আমলে পরিচ্ছন্নতা কর্মী ছিল ১৭ জন, এখন রয়েছে মাত্র তিনজন। ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য স্থায়ী জায়গা নেই। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে বাসাবাড়ি নির্মাণ হচ্ছে। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজনের তুলনায় কম। নিয়মবহির্ভূতভাবে যেখানে-সেখানে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। থানার সামনে থেকে ধুলজুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তাটির বেহাল অবস্থার কারণে এ এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। বর্তমান মেয়রের সময়কালে ১, ২, ৪, ৫ ও ৯নং ওয়ার্ডে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি।

৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। তারপরও কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা দরকার।

এসব অভিযোগের জবাব দিতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন পৌর মেয়র আবদুল কাইয়ুম খোকন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তার চেয়ে বেশি কাজ করেছি। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম নির্বাচিত হলে পৌরসভাকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করব। দায়িত্ব গ্রহণের ১ বছরের মাথায় এ প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছি। পৌরসভাকে দুর্নীতিমুক্ত করেছি। গত সাড়ে ৩ বছরে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তাঘাট উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। হোসেনপুর হাসপাতাল মোড় হতে নতুন বাজার পর্যন্ত দুই লেন বিশিষ্ট রাস্তা ও রাস্তার মাঝখানে রোড ডিভাইডারসহ এলইডি স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে মাস্টার ড্রেন নির্মাণ করেছি। ডিজিটাল সেবা প্রদানের জন্য ডিজিটাল সেন্টার খোলা হয়েছে। পৌর এলাকাকে যানযট ও মাদকমুক্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দরিদ্র মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান ও টিকা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি স্বীকার করেন- কিছু সমস্যা এখনও রয়ে গেছে, অপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা নির্মাণ করায় অনেক এলাকার রাস্তা সরু। অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশের উপায় নেই। স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে পৌরবাসী সচেতন না হলে এ সমস্যার সমাধান হবে না।

কর বাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কর বৃদ্ধি করেছি পৌরবাসীর সেবা দেয়ার জন্য। সরকারি বিধিমালার পরিপ্রেক্ষিতে কর নির্ধারণ করা হয়েছে। অনেক পৌরসভা আছে যারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না। কিন্তু বেতন-ভাতা নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির বিষয়ে তিনি বলেন, রাজস্ব আয়ের স্বল্পতার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য অপসারণের জন্য চাহিদা মোতাবেক জনবল নিয়োগ করতে পারেনি। রাস্তার পাশে কোনো উন্মুক্ত জায়গা না থাকায় ডাস্টবিন নির্মাণ করতে পারিনি। তবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করছি আমার মেয়াদের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান করতে পারব।

পানি নিষ্কাশন, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ত্রুটির বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন কিছু ড্রেন নির্মাণ করেছি। পুরাতন ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করছি। এর ফলে শহরে তেমন জলাবদ্ধতা নেই। পর্যায়ক্রমে পুরো পৌর এলাকায় ড্রেন নির্মাণ করা হবে।

অবৈধভাবে ফুটপাত দখল প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ফুটপাতে যারা ব্যবসা করেন তারা অত্যন্ত গরিব মানুষ। একথা ভেবেই তাদের উচ্ছেদ করা হয়নি। তাদের একটি নির্ধারিত জায়গায় পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। তবে সব সমস্যা একবারে সমাধান করা সম্ভব নয়। পর্যায়ক্রমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।

পৌরসভায় টোকেন দিয়ে যানবাহনে চাঁদাবাজির বিষয়ে মেয়র বলেন, আমরাতো চাঁদা তুলছি না। পৌরসভা থেকে স্ট্যান্ড ইজারাও দেয়া হয়নি। এ নিয়ে বহুবার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হয়েছি। তবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

নিয়মবহির্ভূতভাবে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বিষয়ে মেয়র বলেন, গ্যাস ব্যবসায়ীদের ডেকে সতর্ক করা হবে। তারপরও কাজ না হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। বাজারে অতিরিক্ত টোল আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইজারাদারদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছে।

পর্যাপ্ত সড়ক বাতি না থাকার বিষয়ে মেয়র আবদুল কাইয়ুম খোকন বলেন, আমার আগের মেয়রের আমলে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে সোডিয়াম বাতি লাগানো হয়েছিল। এগুলো নিুমানের হওয়ায় দু-এক বছরেই এসব সোডিয়াম বাতি নষ্ট হয়ে যায়। সম্প্রতি হোসেনপুর হাসপাতাল মোড় হতে নতুন বাজার পর্যন্ত এলইডি স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো পৌরসভা আলোকিত হবে।

বাসস্ট্যান্ড না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ করার মতো জায়গা নেই। জমি ক্রয় করে বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ করব।

আগামী দিনের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, পৌর এলাকাকে সুন্দরভাবে সাজানোর স্বপ্ন দেখি। পার্ক তৈরি করার পরিকল্পনা আছে। পৌর স্টেডিয়াম, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত