জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা

নথির জন্য অপেক্ষা

এ সপ্তাহে আসতে পারে-দুদক আইনজীবী * ইচ্ছে করেই বিলম্ব -খন্দকার মাহবুব

  আলমগীর হোসেন ০৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কারাগারে খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতের নথি হাইকোর্টে আসতে পারে চলতি সপ্তাহে। এমন আশ্বাস দিয়েছেন দুদকের আইনজীবী। নথি পাওয়ার পর এ মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আদেশ দেবেন আদালত। তবে এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। তাদের অভিযোগ, সরকার ইচ্ছে করেই নথি পাঠাতে বিলম্ব করছে। খালেদা জিয়াকে সরকার সহজে মুক্ত হতে দেবে না।

২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি শেষে আদালত বলেছিলেন বিচারিক আদালতের নথি আসার পর আদেশ দেবেন। এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার আপিল গ্রহণ করে আদেশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে থাকা এ মামালার যাবতীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে চলছে খালেদা জিয়ার আপিল কার্যক্রম।

জানা যায়, ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের আদেশ বিচারিক আদালতে পৌঁছেছে। সে মোতাবেক ১৫ দিন শেষ হবে আগামী ১১ মার্চ রোববার। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক সব প্রক্রিয়া শেষে হাইকোর্টে নথি আসবে।

এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি জামিন শুনানি শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমি আদালতে বলেছি, নিু আদালতের নথিটা আসুক, সুপ্রিমকোর্টে অনেক মেশিন আছে অতি অল্প সময়ে পেপারবুক তৈরি করা হবে এবং পেপারবুক শুনানির পর মামলাটা দ্রুত নিষ্পত্তি করা যাবে। আমি আরও বলেছি, এতিমের টাকা আত্মসাৎ করার চেয়ে বড় অপরাধ কিছু হতে পারে না। একজন সরকারপ্রধান এ দায়িত্ব কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান যুগান্তরকে বলেন, চলতি সপ্তাহে বিচারিক আদালতের নথি হাইকোর্টে আসতে পারে। তিনি বলেন, সাধারণত বিচারিক আদালতের নথি সংশ্লিষ্ট পেশকার (বেঞ্চ সহকারী) দেখে তা বিচারকের সামনে নোট দিয়ে পাঠান। তারপর সংশ্লিষ্ট বিচারক তা ভালো করে দেখে অনুমোদন দিয়ে থাকেন। এতে দশ পনেরো দিন লাগতে পারে। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার।

নথি না আসায় ২৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, খালেদা জিয়াকে সরকার সহজেই মুক্ত হতে দেবে না। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ মামলার নথি তলব করে হাইকোর্ট আদেশ দেয়ার পর তা নিু আদালত থেকে আসার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময়ই যথেষ্ট ছিল। তবে আমি মনে করি আজই (২৮ ফেব্রুয়ারি) মামলার নথি হাইকোর্টে আসবে। আর যদি না আসে, তাহলে আমরা মনে করব সরকার ইচ্ছে করেই নথি আসতে বিলম্ব ঘটাচ্ছে।

শনিবার খালেদার জিয়ার অন্যতম আইনজীবী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, সরকার চায় না খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্ত হোক। যেখানে হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে সেখানে ইচ্ছে করইে সরকার নথি পাঠাতে বিলম্ব করছে।

এদিকে বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) মোকাররম হোসেন ২৫ ফেব্রুয়ারি যুগান্তরকে বলেছিলেন, হাইকোর্টের নথি তলবের আদেশের কপি বিচারিক আদালতে পৌঁছেছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আপিল করা হয়। আপিল আবেদনে নিু আদালতের দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে ৪৪টি যুক্তি দেখানো হয়। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচারিক আদালতের দণ্ড স্থগিত চাওয়া হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতে খালেদা জিয়াকে দেয়া জরিমানার আদেশও স্থগিত করা হয়। এছাড়া আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদন ২৫ ফেব্রুয়ারি শুনানির জন্য রাখেন। আদেশে এ মামলায় বিচারিক আদালতের নথি তলব করে ১৫ দিনের মধ্যে তা হাইকোর্টে পাঠাতে সংশ্লিষ্ট আদালতকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

ঘটনাপ্রবাহ : কারাগারে খালেদা জিয়া

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter