আবরারের খুনিদের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি, একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন না বুয়েট শিক্ষার্থীরা

দশ দিনের মধ্যেই তদন্ত রিপোর্ট

  ঢাবি প্রতিনিধি ৩০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আবরার ফাহাদ
আবরার ফাহাদ। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের খুনিদের স্থায়ী বহিষ্কার না করা পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্তে অনড় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি ১০ দফা দাবি পূরণ না হলে পুনরায় আন্দোলনে ফেরার হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

আগামীতে যারা বুয়েটে ভর্তি হবে তাদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা। মঙ্গলবার বিকালে বুয়েট শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব ঘোষণা আসে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, যতদিন দাবি মানার বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না আসছে ততদিন আন্দোলন প্রত্যাহার হবে না। বুয়েটে প্রশাসনিক কার্যক্রম চললেও বৃহত্তর স্বার্থে যেন আর কোনো আবরার নির্যাতনের শিকার না হয় সে লক্ষ্যে একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেবে না শিক্ষার্থীরা। কিছুদিনের সেশনজটের আশঙ্কা থাকলেও আমরা একটি নিরাপদ বুয়েট ক্যাম্পাস রেখে যেতে চাই।

সায়েম আরও বলেন, আমাদের দাবির অন্যতম ছিল-দায়ের করা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে স্বল্পতম সমেয়র মধ্যে নিষ্পত্তি করার জন্য বুয়েট প্রশাসনকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রশাসনকে সক্রিয় থেকে সমস্ত প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তার আপডেট আমাদের সাধারণ ছাত্রদেরকে জানাতে হবে।

যখন এটি বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাবে তখন তা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালকে হস্তান্তর করা হবে। ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী অন্তরা তিথি বলেন, ১০ দফা দাবির মধ্যে ২ দফা মানা হয়েছে। বাকি ৮ দফা না মানা পর্যন্ত ক্লাসে ফিরবে না শিক্ষার্থীরা।

মাঠ পর্যায়ে আন্দোলন স্থগিতের ১৩ দিন পার হয়েছে। আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ১০ দফা পূরণে বুয়েট প্রশাসন তৎপর নয়। তাই আবারও আন্দোলনে নামবে শিক্ষার্থীরা।

অন্তরা তিথি বলেন, আমাদের দাবি ছিল বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা। যেহেতু বুয়েটে এটা নিষিদ্ধ করেছে কিন্তু যারা এটি অমান্য করবে তাদের কী ধরনের শাস্তি প্রদান করা হবে তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

অন্তরা তিথি আরও বলেন, ‘শুধু ভিসি স্যারের জবাবদিহিতা ও শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো দাবি পুরোপুরি মানা হয়নি। যদিও অন্য দাবিগুলোর ব্যাপারে কাজ চলছে।’

এদিকে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক (ডিএসডব্লিউ) অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, তদন্ত কমিটি পুরোদমে কাজ করছে। আমরা আশা করছি ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ হবে। এরপর ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সভা ডেকে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আমরা জড়িতদের সাজা দিতে পারব।

আন্দোলনকারীদের অন্য দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, অন্য যেসব দাবি রয়েছে, তার মধ্যে যেগুলো আমাদের হাতে রয়েছে তার সবগুলোই বাস্তবায়ন করেছি। শিক্ষার্থীরা সেটি দেখেছে এবং স্বস্তি প্রকাশ করেছে। কিন্তু কিছু দাবির বাস্তবায়ন তো আমাদের হাতে নেই।

পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সব বিভাগের ক্লাস ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এরপর পরীক্ষা শেষে নতুন সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু সেটি আমরা এখনই নিচ্ছি না। শিক্ষার্থীদের মূল দাবি অপরাধীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার। সেটি বাস্তবায়ন হলেই আশা করছি শিক্ষার্থীরা একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরবে।

বুয়েটের শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবির মধ্যে ছিল- আবরারের খুনিদের বিকাল ৫টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার; আবরারের পরিবারের সব ক্ষতিপূরণ ও মামলার খরচ বুয়েটকে বহন এবং এই মর্মে অফিসিয়াল নোটিশ ১১ প্রদান; মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্বল্প সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য বুয়েট প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ; বুয়েট প্রশাসনকে সক্রিয় থেকে সব প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং ছাত্রদের আপডেট রাখা; অবিলম্বে চার্জশিটের কপিসহ অফিসিয়াল নোটিশ প্রদান।

দাবির মধ্যে আরও রয়েছে- বুয়েটের সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ; বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির ঘটনার সময় অনুপস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরূপ আচরণের জবাব; আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগের নামে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর সকল প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধ; পূর্বে ঘটা এমন ঘটনার প্রকাশ এবং পরে ঘটা এমন ঘটনার প্রকাশের জন্য কমন প্ল্যাটফর্ম তৈরি; নিয়মিত প্রকাশিত ঘটনা রিভিউ করে দ্রুততম সময়ে বিচারের ব্যবস্থা; এই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বুয়েটে বিআইআইএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার; শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে প্রত্যাহার।

প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বিষয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে খুন হন আবরার ফাহাদ। ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে ৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ।

৬ অক্টোবর রাতে শিবির সন্দেহে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ইতিমধ্যে পুলিশ ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। ১৩ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এদের মধ্যে ১৯ জনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। আবরারের খুনিদের বিচারসহ ১০ দফা দাবিতে টানা আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা।

ঘটনাপ্রবাহ : বুয়েট ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×