ব্রিটেনে আগাম সাধারণ নির্বাচন ১২ ডিসেম্বর

  যুগান্তর ডেস্ক ৩১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রিটেন

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর অবশেষে প্রথমবারের মতো কোনো সিদ্ধান্তে সংসদের সমর্থন পেলেন বরিস জনসন। তার প্রস্তাবিত ১২ ডিসেম্বর আগাম সাধারণ নির্বাচনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন সংসদ সদস্যরা।

ব্রেক্সিট কার্যকরের মেয়াদ বাড়ানোর পর এবার এ বিষয়ে জনসমর্থনের পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন তারা। ১৯২৩ সালের পর এই প্রথম ডিসেম্বরে ক্রিসমাস ডে-র আগে ভোট হতে যাচ্ছে ব্রিটেনে।

বিবিসি বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) ইস্যুতে টানা কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর মঙ্গলবার আগাম নির্বাচনের পক্ষে ঐকমত্যে পৌঁছান ব্রিটিশ সংসদ সদস্যরা। হাউস অব কমন্সে ব্রিটিশ সরকারের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছে ৪৩৮টি, বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন মাত্র ২০ জন।

৬৫০ সদস্যবিশিষ্ট নিুকক্ষে বিলটি পাস হতে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন ছিল। বিলটি এখন উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে অনুমোদনের জন্য উঠবে। দু-চার দিনের মধ্যেই এটি আইনে পরিণত হতে পারে। তাহলে নির্বাচনী প্রচারের জন্য মাত্র পাঁচ সপ্তাহ সময় পাবে রাজনৈতিক দলগুলো।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ব্রিটেনের জনগণের ব্রেক্সিট এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতামত দেয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি আশা করছেন, বেক্সিট চুক্তি এবং বর্তমান সংসদে অচলাবস্থা নিরসনে তাকে নতুন করে ম্যান্ডেট এনে দেবে এ নির্বাচন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর দফতর ডাউনিং স্ট্রিট থেকে জানানো হয়, বিদ্রোহের কারণে কনজারভেটিভ পার্টির (টোরি পার্টির উত্তরসূরি) বহিষ্কৃত ২১ সংসদ সদস্যের অর্ধেককে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তারা কনজারভেটিভ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারবেন।

অপরদিকে প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, দেশ সংস্কার এবং জনগণের স্বার্থরক্ষা করার জন্য এই নির্বাচন বর্তমান প্রজšে§র কাছে একটি সুযোগ। তিনি জানান, তার দল দেশের সত্যিকারের পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে উচ্চাকাক্সক্ষী আর জোরালো প্রচার শুরু করবে, যা ব্রিটেনে আগে কখনও দেখা যায়নি। উদারপন্থী লিবডেম ও স্কটল্যান্ডের এসএনপি দলও ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ মেনে নিয়েছে।

রয়টার্স বলছে, ব্রেক্সিট সংক্রান্ত অচলাবস্থার জন্য কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রীরা বারবার ব্রিটিশ সংসদকে দায়ী করে আসছেন। একমাত্র চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ হলেও এতকাল তারা কোনো পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ঐক্য দেখাতে পারেননি।

এবার সেই প্রবণতা ভেঙে আগাম নির্বাচনের পথ সুগম করে দিলেন। প্রধানমন্ত্রী বরিসের আশা, ভোটারদের বিপুল সমর্থন পেয়ে তিনি সরকার গড়তে পারবেন। সে ক্ষেত্রে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তিনি ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদন করিয়ে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তা কার্যকর করতে পারবেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে উল্টো ফলও হতে পারে। বরিসের পূর্বসূরি থেরেসা মে-ও ২০১৭ সালে আগাম নির্বাচন দিয়ে বিপুল জনসমর্থনের আশা করেছিলেন। কিন্তু তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে উল্টো জোট সরকার গড়তে বাধ্য হয়। এবারের ভোটে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভদের পরাজয় ঘটলে বা কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×