যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র

আধুনিক ও সেবাধর্মী পৌরসভা গড়াই আমার লক্ষ্য

  শাহরিয়ার আলম সোহাগ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) ০১ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র

কালীগঞ্জ পৌরসভার যাত্রা শুরু ১৯৯০ সালের ১৪ মার্চ। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভাটির আয়তন ১৫.৮৩ বর্গকিমি.। এখানে ৭৭ হাজার ৭৮০ জন লোকের বাস। মোট ভোটার ৩৮ হাজার ৫৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৯ হাজার ৯৮২ জন এবং নারী ভোটার ১৮ হাজার ৬০৬ জন।

এটি একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বিজুকে পরাজিত করে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। এর আগে মেয়র ছিলেন মকছেদ আলী বিশ্বাস। তার মৃত্যুতে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নতুন মেয়র আশরাফুল আলম দায়িত্ব পালনের মাত্র সাত মাসে কিছু কাজ করে জনগণের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ। বর্তমানে তিনি যে সমস্যাগুলো ফেস করছেন তা হল- জলাবদ্ধ, যানজট, ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা না থাকা ইত্যাদি। এখানে শিশুদের জন্য কোনো পার্ক নেই। জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের বিনোদনের ব্যবস্থাও নেই।

পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাবলু রহমান বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পানি জমে। ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা দরকার।’

এসব অভিযোগের জবাব ও পৌরসভা নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানাতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন নতুন মেয়র আশরাফুল আলম। তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচনের সময় জনগণকে কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেইনি। সুন্দর ও পরিকল্পিত শহর গড়তে চেষ্টা করে যাচ্ছি। নির্বাচিত হওয়ার পরপরই যানজট নিরসনের জন্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। যা সর্বজন গ্রহণযোগ্য হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র ৭ মাস। এ সময় কিছু কাজ করেছি। কিছু কাজ চলমান আছে। শহরে একটি শহীদ মিনার, লেক পার্ক ও কসাইখানা নির্মাণের কাজ চলমান আছে। একটি আধুনিক পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছি।’

মেয়র বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। শিশুদের জন্য পার্ক নির্মাণে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। শহরের ইজিবাইক চলাচল খুব শিগগিরই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে। মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত যাত্রীবাহী বাসগুলোকে টার্মিনালে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কালীগঞ্জ পৌরসভা সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত। পৌরসভার কাজ লটারির মাধ্যমে বণ্টন করা হয়। কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নেব।’

মেয়র বলেন, ‘কালীগঞ্জ শহরটি এই অঞ্চলের মাদকের রুট হিসেবে পরিচিত। বর্তমান সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। তার সহযোগিতা নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। সমস্যাটা এখন আর আগের মতো নেই। মাদকমুক্ত শহর গড়তে আমি বদ্ধপরিকর।’

আশরাফুল আলম বলেন, ‘সময় পেলেই ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যাই। পৌরবাসীর মুখ থেকে সমস্যার কথা শুনি। দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদানসহ নানা সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। বাল্য বিবাহ রোধে সভা-সেমিনার অব্যাহত রেখেছি। শহরের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ঠিকমতো সেবা পাচ্ছে কিনা সে খোঁজখবর নিই।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঝিনাইদহ-৪ আসনে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কালীগঞ্জের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হয়েছে। নতুন নতুন রাস্তা নির্মাণ হয়েছে। যেখানে বিদ্যুৎ ছিল না সেখানে বিদ্যুৎ গেছে।’

আশরাফুল আলম আরও বলেন, ‘একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও সেবাধর্মী পৌরসভা গড়াই আমার লক্ষ্য। এখনও মেয়াদের অনেক সময় বাকি আছে। আশা করছি এ সময়ের মধ্যে আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×