যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কালকিনি পৌরসভার মেয়র

স্থানীয় রাজনীতিতে ঝামেলা থাকায় উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে

  এইচএম মিলন, কালকিনি (মাদারীপুর) ০৩ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কালকিনি

কালকিনি পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৭ সালে। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভাটির আয়তন ৩০ দশমিক ৩০ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ৪১ হাজার ৬০৮ জন। ভোটার ৩১ হাজার ৬১৪। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬ হাজার ১শ’। নারী ভোটার ১৫ হাজার ৫১৪। ২০১৬ সালে পৌরসভাটি ‘ক’ শ্রেণির মর্যাদা লাভ করে। বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. এনায়েত হোসেন।

২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) সবুজ হাওলাদারকে পরাজিত করে ২য় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন। দায়িত্বভার গ্রহণের পর তিনি রাস্তা-ব্রিজ নির্মাণ, ড্রেন সংস্কার, বাস টার্মিনালের সম্প্রসারণসহ উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করেছেন। তারপরও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা। বৃষ্টি হলে শহরের কিছু জায়গায় পানি জমে। ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নেই। জ্যেষ্ঠ নাগারিক ও শিশুদের জন্য কোনো পার্ক নেই। এনিয়ে পৌরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে।

কয়েকজন পৌরবাসীর অভিযোগ, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা ৬নং ওয়ার্ডের উত্তর কাষ্টগর গ্রামের রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এ দাবি আজও পূরণ হয়নি।’ এসব অভিযোগের জবাব ও নিজের সফলতার কথা জানাতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন পৌর মেয়র মো. এনায়েত হোসেন হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘পৌর এলাকার সব জায়গায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। হাসপাতাল রোড, জোনাকান্দি রোড, কাশেমপুর রোডসহ অনেকগুলো সড়ক নির্মাণ ও পাকা করেছি। আরও কিছু রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করেছি। বাকি এলাকায় শিগগিরই বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে যাবে। পৌর কবরস্থান ও শ্মশান নির্মাণ করেছি। মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দির সংস্কারে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। পৌর এলাকায় একটি আধুনিক মাছ বাজার ও একটি কমিউনিটি সেন্টার ও শিশুদের জন্য একটি পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি।’

মেয়র বলেন, ‘পৌরসভাকে দৃষ্টিনন্দন করার জন্য ভুরঘাটা-কালকিনি থানা মোড় পর্যস্ত রাস্তার সৌন্দর্য্য বর্ধনের চিন্তা ভাবনা রয়েছে। পালপাড়া থেকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর হয়ে যে খালটি জোনাদরদি খালে গিয়ে মিশেছে ওই খালটি খননের কাজ চলছে।’ তিনি বলেন, ‘জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটিসহ কিছু সমস্যা এখনও রয়ে গেছে। এগুলো সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছি। মেয়াদ শেষের আগেই সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারব বলে আশা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় রাজনীতিতে ঝামেলা থাকায় পৌরসভার উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। রাজনৈতিক ঝামেলা মুক্ত থাকলে উন্নয়ন কাজ আরও দ্রুত হতো।’ মেয়র বলেন, ‘বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তদের দৌরাত্ম্য যে কোনো মূল্যে বন্ধ করা হবে। মাদকের ছোবল থেকে যুব সমাজকে মুক্ত রাখতে খেলাধুলার ব্যবস্থা করেছি।’

এক প্রশ্নের উত্তরে হাজী মো. এনায়েত হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে হওয়াটাকে সমর্থন করি। কেননা এ নির্বাচন দলীয়ভাবে না হলে একদল থেকে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে নিজেদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়।’ অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি আমার পৌরসভায় কোনো দুর্নীতি হয় না। কোনো দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার স্থান এ পৌরসভায় নেই।’

এনায়েত হোসেন বলেন, ‘জনগণের সেবা করার জন্যই আমি মেয়র হয়েছি। জনগণের বিশ্বস্ত খাদেম হয়ে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। পৌরসভায় যারা সুবিধাবঞ্চিত আছেন তাদের সেবাপ্রপ্তির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখে আমার হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছিলেন, সেই আস্থায় অবিচল থাকতে চাই।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×