সড়ক দুর্ঘটনায় অথৈর মৃত্যু

‘দুঃখগুলো ভাগ করে নেয়ার মতো আর কেউ রইল না’

  আবদুল্লাহ আল মামুন ও কাওসার মাহমুদ ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মনীষা বর্মণ অথৈ
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মনীষা বর্মণ অথৈ

‘আমার অথৈ ছিল আমার পৃথিবী। আমার দুঃখগুলো সে ভাগাভাগি করে নিত। কিন্তু আমার দুঃখগুলো ভাগ করে নেয়ার মতো এ পৃথিবীতে কেউ রইল না।’

সোমবার রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মনীষা বর্মণ অথৈর বাবা অনিল বর্মণ বলেন, ‘আর কোনো বাবা যেন আমার মতো কষ্ট ভোগ না করেন। আমার মেয়েকে তো আর ফিরে পাব না। তবে মেয়ের হত্যাকারী বাসচালকের ফাঁসি চাই।’ মঙ্গলবার তিনি যুগান্তরকে এসব কথা বলেন।

অথৈদের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মিয়া যুগান্তরকে বলেন, সব সময় বাড়ির সবাইকে বিভিন্ন ছলে অথৈ প্রাণবন্ত করে রাখতেন। বছর খানেক আগে তারা এ বাড়িতে এলেও অল্প দিনেই তিনি সবাইকে আপন করে নেন।

রাজধানীর মহানগর মহিলা কলেজের মার্কেটিং বিভাগের বিবিএ তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অথৈর স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে পরিবারের হাল ধরার। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন সোমবার রাতের সড়ক দুর্ঘটনায় চুরমার হয়ে গেছে। বাসচাপায় তার মৃত্যু হয়েছে। একমাত্র মেয়েকে ঘিরে মা-বাবার আশা-আকাক্সক্ষারও ইতি ঘটেছে। দুই ভাই-বোনের মধ্যে অথৈ ছিলেন বড়। শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের জন্য কিশোরগঞ্জের দামপাড়া গ্রামে অথৈর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, শৈশব থেকেই অর্থৈ সবক্ষেত্রে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। থিয়েটার, নাচ, গানের প্রতি অনুরক্ত অর্থৈ স্কুল-কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সর্বাগ্রে থাকতেন।

কয়েকটি মঞ্চনাটকে অভিনয় ছাড়াও কবিতা আবৃত্তি ও ছবি আঁকা ছিল তার নেশা। এতসব কিছুর পরও পার্টটাইম চাকরি করে তিনি অসহায় বাবার অন্ধের যষ্টি হয়ে উঠেছিলেন। বড় হয়ে তিনি সংসারের হাল ধরতে চেয়েছিলেন। ছোট ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে বাবাকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের জন্য কিছু করার তার স্বপ্ন সব স্বপ্নই রয়ে গেল।

মঙ্গলবার সরেজমিন রাজধানীর গেণ্ডারিয়া সতীশ চন্দ্র রোডের ৫৪/বি-এ অথৈদের বাসায় গিয়ে সুনসান নীরবতা দেখা যায়। বাড়ির সবাই শোকে নিথর। মেয়ের শোকে মা ঝর্ণা বর্মণ বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর বিলাপ করে তিনি ডুকরে কেঁদে উঠেন আর বলেন, ‘আমার সোনাকে আমার কাছে এনে দাও।’

লক্ষ্মীবাজারের মহানগর মহিলা কলেজে গিয়ে দেখা যায়, কলেজ ভবনের সামনে অথৈর মৃত্যুতে শোকবার্তা সংবলিত ব্যানার। সহপাঠী ও শিক্ষকরা তার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না। মার্কেটিং বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ফারুক হোসেন যুগান্তরকে বলেন, মেয়েটি সব সময় পড়ালেখার প্রতি মনোযোগী ছিল। কলেজের নবীনবরণ ও বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে তার পারফর্ম ছিল চোখে পড়ার মতো। তার এমন মৃত্যুতে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা শোকাহত বলে তিনি জানান।

কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনিরুল ইসলাম আকন্দ যুগান্তরকে বলেন, অথৈর মৃত্যুতে আমরা স্তব্ধ, শোকাহত। একটি তরতাজা নিষ্পাপ মেয়ে এভাবে অকালে ঝরে গেল। এমন মৃত্যু কারোই কাম্য নয়। আমরা তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। সরকারসহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে আহ্বান তারা যেন ঘাতক বাসটির চালককে আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করেন।

বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা শাহীন ফকির যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় অথৈর বাবা বাদী হয়ে মঙ্গলবার থানায় মামলা করেছেন।

আসামি গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×