উন্নয়নে রেকর্ড তারপরও যানজট: গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়র

  এসএম হুমায়ূন কবীর, গোপালগঞ্জ ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কাজী লিয়াকত আলী লেকু
কাজী লিয়াকত আলী লেকু। ছবি-যুগান্তর

গোপালগঞ্জ পৌরসভার যাত্রা শুরু ১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভার আয়তন ১৩.৮২ বর্গকিলোমিটার। এখানে দেড় লাখের বেশি লোকের বাস। মোট ভোটার ৩৫ হাজার ৯৩৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৮১৭ জন এবং মহিলা ভোটার ১৮ হাজার ১২০ জন।

১৯৯৬ সালে এটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। বর্তমান মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী লিয়াকত আলী লেকু। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (আ’লীগ বিদ্রোহী) শেখ মুশফিকুর রহমান লিটনকে পরাজিত করে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালনের পৌনে চার বছরে অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন করেছে তিনি। রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার,

ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিশু পার্ক নির্মাণ, শতভাগ বিদ্যুতের ব্যবস্থাসহ অসংখ্য কাজ তিনি করেছেন। তারপরও কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের শিক্ষার্থী মিতালী বেগম (২১) জানান, যানজটের কারণে পৌর এলাকার জনগণকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়। শহরের বিসিক ব্রিজ থেকে কোর্ট এলাকা পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। এ কারণে মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

সিপিবির জেলা সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আবু হোসেন বলেন, ‘কেবল উন্নয়ন হলেই হবে না। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। উন্নয়ন কাজের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঠিকাদাররা সিডিউলে উল্লিখিত শর্ত মেনে কাজ করেন না। ফলে কাজের গুণগতমান ঠিক থাকে না। এ ব্যপারে কর্তৃপক্ষের সতর্ক দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।’

পৌরসভার বাসিন্দা সাথী বেগম (৩৫) বলেন, ‘শহরের মানুষের চিত্তবিনোদনের জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। অধিকাংশ সড়কে বাতি নেই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি রয়েছে। যত্রতত্র ময়লা ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।’ ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এজেড আমিনুজ্জামান রিপন বলেন, ‘পৌর এলাকার মানুষ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও পানি পাচ্ছে। কিন্তু মাদক উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে।’

এসব অভিযোগের জবাব ও নিজের সফলতার কথা জানাতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন পৌর মেয়র কাজী লিয়াকত আলী লেকু। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব নিয়ে উন্নয়নে রেকর্ড গড়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশীর্বাদ এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নির্দেশনা ও সার্বিক সহযোগিতার কারণে এটা করা সম্ভব হয়েছে। আমার লক্ষ্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শৈশব স্মৃতিবিজড়িত গোপালগঞ্জ শহরকে একটি আধুনিক বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা।’

মেয়র বলেন, ‘২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩ হাজার ৬শ’ ৭৪ মিটার সড়ক, ২ হাজার ২শ’ ৪২ মিটার ইউ ড্রেন ও ৫ হাজার ৯৬ মিটার পাইপ ড্রেন নির্মাণ ও শেখ রাসেল শিশু পার্ক নির্মাণ করেছি। চাঁদমারি সড়ক, মার্কাস মহল্লা পাড়া এবং শামসুল হক সড়কে আরসিসি ও কার্পেটিং রাস্তা ও ড্রেনের নির্মাণ কাজসহ ৪টি প্যাকেজের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বব্যাংক ও এডিপির অর্থায়নে প্রায় ১৭৫ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান আছে।

ইতিমধ্যে অনেক প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। মিউনিসিপ্যাল গভর্নেন্স সার্ভিসেস প্রজেক্টের (এমজিএসপি) আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ১১টি প্যাকেজের মধ্যে ৬ হাজার ৮শ’ ৬ মিটার আরসিসি রাস্তা ও ৬ হাজার ৪শ’ ২৩ মিটার আরসিসি ড্রেন, জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেকের ওপর কুয়াডাঙ্গা পয়েন্টে ২৭ মিটার দৈর্ঘ্যরে ফেন্সি ব্রিজ, লেক পুনঃখনন ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ, শহরের পাঁচুড়িয়ায় নিউমার্কেট, পাবলিক হল সুপার মার্কেট ও পোস্ট অফিস মোড়ে আধুনিক কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের কাজ চলছে।

এছাড়া এডিবির অর্থায়নে ইউজি-৩ প্রকল্পের আওতায় ৬০ কোটি টাকার রাস্তা ও ড্রেনের কাজ চলমান রয়েছে। আরও ৪৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন পাওয়া গেছে। লেকের পশ্চিম পাড়ে ৬ মিটার চওড়া সড়ক ও ফুটপাত নির্মাণ এবং চাপাইল ঘাট ও ফকিরকান্দি এলাকায় দুটি ফেন্সি ব্রিজ নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন আছে।

শহরের যনজট কমাতে বিকল্প সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এবং বাস টার্মিনাল সম্প্রসারণে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। শহরের বড় বাজার ভেঙে সেখানে আধুনিক মার্কেট নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। প্ল্যান এবং ডিজাইনের কাজ শেষ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আরবান হেলথ কেয়ার প্রজেক্টের মাধ্যমে পৌর এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা বিশেষ করে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হচ্ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে (এলআইইউপিসি) প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।’

মেয়র বলেন, ‘পৌরবাসী দীর্ঘদিন উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। এখন তারা উন্নয়ন দেখছে। কাজ করতে গেলে কমবেশি ত্রুচি হতেই পারে। তবে ত্রুটিবিচ্যুতি সংশোধন করে এগিয়ে যাচ্ছি। অধিকাংশ কাজের গুণগত মান ভালো। পৌরসভাকে দুর্নীতিমুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করছি।’

লিয়াকত আলী লেকু বলেন, ‘আধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিপূর্বে একটি শিশু পার্ক নির্মিত হয়েছে। শহরের সর্বস্তরের মানুষের বিনোদনের জন্য আরও একটি আধুনিক পার্ক নির্মাণ কাজ শিগগিরই শুরু হবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় দেয়া প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই বাস্তবায়ন করেছি। অসমাপ্ত কাজ বাকি সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।’

মাদক প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, এ ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। তবে এই সমস্যার সমাধান করা একার পক্ষে সম্ভব নয়। যুব সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

মেয়র জানান, পৌর এলাকা সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গেজেট নোটিফিকেশনের অপেক্ষায় আছে। সীমানা বাড়ার ফলে পৌরসভার আয়তন হবে ৩০.৭০ বর্গমিটার। এতে পৌরসভার ওয়ার্ডের সংখ্যাও বেড়ে যাবে। অনেক মানুষ আধুনিক নাগরিক সুবিধার আওতায় আসবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পৌরসভাটি সিটি কর্পোরেশনে রূপন্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। আগামী নির্বাচনে অংশ নেবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জনগণ আমার কাজে সন্তুষ্ট। সততা ও কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। মানোনয়ন পেলে অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নেব।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×