ভিসিবিরোধী আন্দোলন : জাবিতে ৬০ গজের ‘পটচিত্রে’ প্রতিবাদ

শিক্ষামন্ত্রীর পিএসের কাছে দুর্নীতির তথ্য জমা দিলেন চার শিক্ষক * শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশ

  জাবি প্রতিনিধি ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাবিতে ৬০ গজের ‘পটচিত্রে’ প্রতিবাদ
জাবিতে ৬০ গজের ‘পটচিত্রে’ প্রতিবাদ। ছবি: যুগান্তর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভিসির পদত্যাগ দাবিতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনকারীরা শুক্রবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমবেত হন।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেখানে তারা ৬০ গজের প্রতিবাদী ব্যঙ্গচিত্র ‘পটচিত্র’ অঙ্কন করেন। এরপর বিকাল ৪টার দিকে পটচিত্র নিয়ে তারা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন।

এদিকে রাত ১২টার দিকে ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিবের (পিএস) কাছে জমা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার হাসান মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ছয় পাতার অভিযোগপত্র এবং সঙ্গে প্রায় ৭০ পাতার নথি সংযুক্ত করা হয়েছে।

সেগুলো আমিসহ চার শিক্ষক শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. আলিম খানের কাছে জমা দিয়েছি। অপর তিন শিক্ষক হলেন- অধ্যাপক তারেক রেজা, অধ্যাপক ফজলুল করিম পাটোয়ারী ও আবু সাঈদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান চয়ন।

রঙ-তুলির ক্যানভাস ‘পটচিত্রে’ বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান উঠে আসে। এতে ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবি, দুর্নীতির চিত্র, হল বন্ধসহ নানা অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়।

জাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, এর আগে ৩০ গজের পটচিত্র আমরা এঁকেছিলাম। সেটা ছিঁড়ে ফেলার প্রতিবাদে এবার আমরা ৬০ গজের পটচিত্র এঁকেছি।

আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, ভিসির দুর্নীতিসহ নানা অসঙ্গতি পটচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে। ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কনে অংশ নেয়া শিল্পীরা জানান, প্রতিবাদের অন্যতম ভাষা পটচিত্রে নানা বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

জাবি চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত জানান, রঙের মাধ্যমে আমাদের দাবিগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অনাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এটা একটি শৈল্পিক প্রতিবাদ। চলমান আন্দোলনের ঘটনাগুলো চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিদা শহিদ বলেন, ভিসির চরিত্র চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। তার দুর্নীতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, নারী নিপীড়কদের প্রশ্রয়, শিক্ষাকে ব্যবসায় রূপান্তর ইত্যাদি বিষয় ওঠে এসেছে।

আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক রাকিবুল রনি বলেন, নৈতিকস্খলন ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ভিসিকে অপসারণ না করা পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।

বিকালে যুগান্তরকে আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু বলেন, সকাল থেকে আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। পাশাপাশি চিত্রাঙ্কন করা হয়েছে। দুর্নীতিবাজ ভিসি অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।

রাত ৮টার দিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদ থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।

শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশ : ঢাবি প্রতিনিধি জানান, শুক্রবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগে এক প্রতিবাদ সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যায়ের ভিসির অপসারণ ও তার দুর্নীতির বিচার দাবি করা হয়েছে।

জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত সমাবেশে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন অভিভাবকরা এ দাবি জানান। ভিসির দুর্নীতি প্রমাণ করা শিক্ষার্থীদের কাজ নয় বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ, শ্রম ইন্সটিটিউটের আহ্বায়ক গোলাম মোরশেদ মিলন, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবিরসহ জাবির সাবেক শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, লেখক ও সচেতন অভিভাবকরা।

প্রতিবাদ সমাবেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে যোগ্য ভিসি নিয়োগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানানো হয়। এ সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন তারা।

দুর্নীতির তদন্ত না করায় চলমান আন্দোলন ভিসিবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেবে বলে তারা মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে অভিযোগকারীদের শাস্তি দেয়া হবে। কিন্তু অভিযোগকারী তো ছাত্রলীগের নেতারা। শাস্তি দিতে হলে ছাত্রলীগের নেতাদের দিতে হবে।

ছাত্রলীগের নেতারা অভিযোগ করার পর জনগণ জানতে পারে জাবিতে বড় ধরনের দুর্নীতি হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দাবি জানিয়েছি দুর্নীতির তদন্ত করা হোক।

আমি নিজে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি কিন্তু তদন্ত করা হয়নি। ভিসি দুর্নীতি না করলে তদন্ত কমিটি করতে তার অসুবিধা কোথায়?

লিটন নন্দী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ছাত্রসমাজ লজ্জিত। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন ভাগবাটোয়ারা না মেলায় আন্দোলন হচ্ছে। সত্যি কথা বলতে ভাগবাটোয়ারা করা আওয়ামী লীগের অভ্যাস।

এ অভ্যাস অন্যদের নেই। সমাবেশে জাবির সাবেক শিক্ষার্থী একরামুন্নিছা বলেন, জাহাঙ্গীরনগরের বর্তমান ঘটনা সারা দেশের আন্দোলনের প্রতিফলন।

পেটোয়া বাহিনী, হেলমেট বাহিনী দিয়ে সরকার সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে দমানোর চেষ্টা করছে; কিন্তু সরকার কখনও তা পারবে না।

ঘটনাপ্রবাহ : জাবিতে অনিয়ম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×