জাবি ভিসির অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ

২১ নভেম্বরের মধ্যে হল খুলে দেয়ার দাবি

  জাবি প্রতিনিধি ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভিসি ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর থেকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে মিছিল বের হয়।

মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পুরনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। আন্দোলনকারীরা ২১ নভেম্বরের মধ্যে হলগুলো খুলে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

অপরদিকে ভিসিকে ‘গালিগালাজ’ এবং ‘লাঞ্ছিত করার হুমকি’ দেয়ার অভিযোগে সাত আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এদিন মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সহসভাপতি অলিউর রহমান বলেন, দুর্নীতিবিরোধী চলমান আন্দোলনে হামলা করে ফারজানা ইসলাম তার দুর্নীতিবাজ চরিত্রের প্রকাশ ঘটিয়েছেন।

৭৩-এর অধ্যাদেশকে বারবার লঙ্ঘন করে, সিনেট সদস্যদের তোয়াক্কা না করে একের পর এক শিক্ষার্থীবিরোধী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ নষ্ট করার মধ্য দিয়ে শুধু ভিসিই নন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবেও নিজের অবস্থান হারিয়েছেন।

অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। এ অবস্থায় যারা আন্দোলন করছেন, তারা অনেক কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয় রক্ষার চেষ্টা করছেন। মনে রাখতে হবে, আমরা যদি ভুলপথে হাঁটি, তবে তার মাশুল দিতে হবে।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের হল খালি করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে, তারা ফিরে এসে আবার আন্দোলনে যোগ দেবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাবি ভিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দেয়া হয়েছে, এখন যত দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়, ততই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মঙ্গল।

কিন্তু তা না করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি পুলিশ পাঠিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে, যা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের বিষয়ে সংশয় তৈরি করে।

আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, এখনও তদন্তের কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। হামলা-মামলা করে আন্দোলন বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে।

হুমকি, ভয়ভীতি প্রত্যাখ্যান করে আমরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্কসবাদী) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কায়েস মাহমুদ বক্তব্য দেন।

২১ নভেম্বরের মধ্যে হল খুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

যদি এই সময়ে দাবি মানা না হয়, তবে ২২ নভেম্বর সমাবেশের মধ্য দিয়ে আবার আন্দোলন শুরু করা হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরের দোকানপাট খুলে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’-এর মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান।

এদিকে ভিসি ফারজানা ইসলামকে ‘অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ’ এবং ‘শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত’ করার হুমকি দেয়ার অভিযোগে সাত আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় জিডি করেছে জাবি প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহিন বুধবার ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় ও ছাত্র ফ্রন্ট (মার্কসবাদী) জাবি শাখার সভাপতি মাহাথির মুহাম্মদের নাম উল্লেখ ও আরও পাঁচজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ জিডি করেন।

মাহাথির ও জয় ভিসির বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক।

ভিসিকে হুমকির অভিযোগের বিষয়ে মাহাথির মুহাম্মদ বলেন, এটা মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ। আমরা অনুমতি নিয়েই তার (ভিসি) কার্যালয়ে প্রবেশ করেছি।

আন্দোলনকারীদের ওপর এমন ন্যক্কারজনক হামলার পর আমরা তাকে দায়িত্ব পালন না করতে অনুরোধ জানাই। এটাকে হুমকি হিসেবে সাজানো হয়েছে।

নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কার্যালয়ে শিক্ষার্থীরা কথা বলতে গেলে সেটাকে যদি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে বিষয়টি দুঃখজনক।

এর মধ্য দিয়ে ভিসি কতটা অসহিষ্ণু মনোভাবের তা বোঝা যায়। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি শেখ রেজাউল হক দিপু হক বলেন, জিডি হয়েছে বলে শুনেছি।

এর আগে ১ নভেম্বর সহকারী প্রক্টর মহিবুর রৌফ শৈবালের ওপর হামলার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ঘটনাপ্রবাহ : জাবিতে অনিয়ম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×