তানোর পৌর মেয়র মিজানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে

  ইমরান হোসাইন, তানোর (রাজশাহী) ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তানোর পৌর মেয়র মিজানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে

রাজশাহীর তানোর পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের কাছে দাখিল করা হয়েছে।

পাশাপাশি এই অভিযোগ বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছেও দেয়া হয়েছে। ১১ নভেম্বর তানোর পৌরসভার সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর মোমেনা আহম্মেদ অভিযোগ দায়ের করেন।

এতে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এডিপি ফান্ডের এক কোটি ও বিশেষভাবে ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। এর মধ্যে ৮৮ লাখ ৯০ হাজার ৩৮৪ টাকার টেন্ডার হয়। আর অবশিষ্ট ৫১ লাখ ৯ হাজার ৬১৬ টাকা মেয়র বিভিন্ন ভুয়া বিল ভাউচার করে কোটেশন বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়াও রিং পাইপ বরাদ্দ, গাছে রঙ ও হাট-বাজার উন্নয়ন করার নামে ২০১৯-২০ অর্থবছরের এডিপি ফান্ডের প্রায় ৮০ লাখ টাকা কোনো কাজ ছাড়াই আত্মসাৎ করেন মেয়র।

উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান মেয়র নির্বাচিত হন। দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় ৪ বছরে পৌর এলাকায় উন্নয়ন বলতে কিছুই হয়নি। রাস্তা-ঘাটের অবস্থা করুন। ড্রেনেজ ব্যবস্থা বলতে কিছুই নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাট-বাজারে ও বিভিন্ন মোড়ে পানি জমে। ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নেই। এসব কারণে পৌরবাসী মেয়রের ওপর চরমভাবে ক্ষুব্ধ।

কাউন্সিলর মোমেনা আহম্মেদ জানান, নগর অবকাঠামো প্রকল্পের তিন কোটি ২৫ লাখ টাকার টেন্ডার গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দু’টি পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়। তিনি টেন্ডার কমিটির সদস্য হলেও তার কোনো স্বাক্ষর নেয়া হয়নি। অনিয়ম করে মেয়র টেন্ডার কাজ পাইয়ে দেন তার আস্থাভাজন ঠিকাদারকে। এরপর ঠিকাদার ইচ্ছেমতো অনিয়ম করে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, ‘২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত ২৪ হাজার জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করা হয়। প্রতিটির নিবন্ধন ফি ৫০ টাকা হিসেবে মোট টাকা হয় ১২ লাখ। কিন্তু পৌর তহবিলে জমা করা হয়েছে মাত্র এক লাখ। মেয়র তার অফিস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় বাকি ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া পৌরসভার নিজস্ব দুটি রোড রোলার ভাড়া খাটিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা আয় হয়। কিন্তু মেয়র পৌর তহবিলে মাত্র দুই লাখ টাকা জমা দেখান। বাকি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে কম দর দেখিয়ে চলতি অর্থবছরে তিনটি হাটের ইজারা প্রদান করা হয়। মেয়র তার আস্থাভাজন লোকদের ইজারা পাইয়ে দেন। এভাবে বছরে তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকা তসরুফ করেন। সরকারি বিধি-বিধান তোয়াক্কা না করে তিনটি কোল্ড স্টোর হতে মোটা টাকা উৎকোচ নিয়ে পৌর তহবিলে মাত্র ২০ হাজার টাকা আয় দেখান। এখানে মেয়র আত্মসাৎ করেন প্রায় সাত লাখ টাকা।

২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত ঠিকাদার লাইন্সেস নবায়ন, সিডিউল বিক্রয় ও বিভিন্ন সার্টিফিকেট ফি প্রদান বাবদ আয় হলেও পৌর তহবিলে জমা না করে মেয়র ও সংশ্লিষ্টরা আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়াও জিআইজেড প্রকল্পে বরাদ্দকৃত পাঁচটি কম্পিউটারের মধ্যে তিনটি কম্পিউটারের কোনো হদিস নেই।

পৌরসভার দুটি মোটরসাইকেল গত পাঁচ বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকলেও জ্বালানি খরচ বাবদ চার লাখ টাকা পৌর তহবিল থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে মশক নিধনের জন্য আট লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়।

দু-এক জায়গায় লোক দেখনো স্প্রে করে ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করা হয়। গোল্লাপাড়া বাজারে মাছ পট্টির সংস্কার কাজে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। অথচ পৌর তহবিলের তুলে নেয়া হয় ১১ লাখ টাকা।

এভাবে অনিয়ম-দুর্নীতি করে মেয়র তানোর সদরে বিলাসবহুল বরেন্দ ভবন নির্মাণ করেছেন। ৪০ লাখ টাকা মূল্যের গাড়িতে চড়েন তিনি। এসব দুর্নীতিতে সহায়তা করে পৌরসভার কার্যসহকারী মাহবুব আলম রাজশাহী নগরীতে ২২ লাখ টাকায় প্লট কিনেছেন। এ ছাড়াও বাইপাস নামক স্থানে ১০ লাখ টাকায় জমির প্লট কিনেছেন।

জানতে চাইলে রাজশাহী দুর্নীতি-দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে পৌর মেয়র মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। পৌর কার্যালয়ে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হয়নি। আমার অগোচরে দুর্নীতি হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।’ এ কথা বলেই তিনি মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×