শিক্ষার্থীদের ৩ দফা দাবি: দুই সপ্তাহ সময় নিল বুয়েট প্রশাসন

চার্জশিট গ্রহণ, চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

  যুগান্তর রিপোর্ট ও ঢাবি প্রতিনিধি ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আবরার ফাহাদ
আবরার ফাহাদ। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে ২ সপ্তাহ সময় নিয়েছে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। সোমবার বুয়েট ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীরা এ তথ্য জানান।

এদিকে ইতিমধ্যে তিন দফা দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। এখন বাস্তবায়নে যে সময় লাগে তারপরই শিক্ষার্থীরা একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান।

এদিকে সোমবার আবরার হত্যা মামলায় পুলিশের দেয়া চার্জশিট (অভিযোগপত্র) গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন- ছাত্রকল্যাণ দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও শিক্ষকরা। আলোচনা শেষে বুয়েট শিক্ষার্থীরা জানান, ভিসি প্রথমে ৩ সপ্তাহ সময় চান দাবিগুলো বিবেচনা করার জন্য। পরে সেখানে উপস্থিত ডিনরা বলেছেন দুই সপ্তাহের মধ্যে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

ফলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে ২ সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তিন দফা বাস্তবায়ন হলে তারা একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরবে। এর আগে ১৪ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে তিনটি দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

দাবিগুলো হল- মামলার অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বুয়েট থেকে স্থায়ী বহিষ্কার, বুয়েটের আহসানউল্লাহ, তিতুমীর ও সোহরাওয়ার্দী হলে আগে ঘটে যাওয়া র‌্যাগিংয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি, সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি এবং র‌্যাগিংয়ের জন্য সুস্পষ্টভাবে বিভিন্ন ক্যাটাগরি ভাগ করে শাস্তির নীতিমালা প্রণয়ন করার পর একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে অনুমোদন করে বুয়েটের অধ্যাদেশে সংযোজনের জন্য পরবর্তী ধাপগুলোয় পাঠানো।

সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলেন বুয়েটের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের শিক্ষার্থী শীর্ষ সংশপ্তক। সংশপ্তক বলেন, আমরা প্রশাসনের দেয়া প্রস্তাব মেনে নিয়েছি। তারা যদি ২ সপ্তাহের মধ্যে আমাদের দাবিগুলো পূরণ করতে পারে তাহলে আমরা আসন্ন টার্ম পরীক্ষা দেব।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘দাবিগুলোর বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আশা করছি, আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে আমরা সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারব। সর্বোচ্চ ৩ সপ্তাহ লাগতে পারে। এরপরেই একাডেমিক কার্যক্রমসহ সব স্বাভাবিক হবে।

চার্জশিট গ্রহণ : আবরার ফাহাদ রাব্বী হত্যা মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে এ মামলার পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এছাড়া আসামিদের গ্রেফতারসংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া আসামিরা হল- বুয়েট শিক্ষার্থী মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম ও মোস্তবা রাফিদ। আসামিদের মধ্যে প্রথম তিনজন মামলার এজাহারভুক্ত ও পরেরজন তদন্তে আগত আসামি।

এদিন কারাগারে থাকা ২১ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরা হল- মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মেহেদী হাসান রবিন, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মো. মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মো. আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুর রহমান, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, এএসএম নাজমুস সাদাত, ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত ও এসএম মাহমুদ সেতু। এর আগে ১৩ নভেম্বর আদালতে এ মামলার চার্জশিট দাখিল করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে এ চার্জশিট দেয়া হয়। এর মধ্যে ১১ আসামি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। বাকি ১৪ জন বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত থাকায় চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

চার্জশিটে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শিবির সন্দেহে আবরারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নির্মমভাবে পিটিয়ে তাকে হত্যা করে। রুমমেট মিজানের দেয়া আবরারের বিরুদ্ধে শিবির করার তথ্যের ভিত্তিতে তাকে নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : বুয়েট ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×