বিএনপিতে নতুন প্রাণের সৃষ্টি হয়েছে

মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিতে নতুন প্রাণের সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তারেক রহমানের ৫৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার বিকালে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিএনপিকে গোছানোর কাজ প্রায় শেষ করে এনেছেন।

বিএনপির মধ্যে নতুন প্রাণ সৃষ্টি করেছেন। এ দুঃসময়ে হাজার হাজার মাইল দূর থেকে তিনি দলকে সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। আসুন আজ তার জন্মদিনে আমরা তাকে শুভেচ্ছা জানাই, তার শতায়ু কামনা করি।

সেই সঙ্গে এ শপথ করি যে, আমরা যে কোনো মূল্যে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব এবং দেশের গণতন্ত্র মুক্ত করে নিয়ে আসব।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের যৌথ উদ্যোগে এ আলোচনা সভা হয়।

সংগঠনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর হেলালের সভাপতিত্বে ওবায়দুর রহমান চন্দন ও নাজমুল হাসানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান, বিশেষ সহকারী শামুসর রহমান শিমুল বিশ্বাস, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা কায়সার কামাল, শহীদুল ইসলাম বাবুল, আবদুল খালেক, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ।

২০০২ সালে চীন সফরে তারেক রহমানের উদ্দেশে তৎকালীন চীনা প্রধানমন্ত্রীর উক্তি স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, চীনা প্রধানমন্ত্রী সে সময় যে উক্তিটি করেছিলেন সেটা আমার কাছে অত্যন্ত সিগনিফিকেন্ট মনে হয়।

তিনি বলেছিলেন, ওয়েল ইয়াং ম্যান। কেরি দ্য ফ্ল্যাগ অব ইয়োর ফাদার অ্যান্ড ইয়োর মাদার। আজ আমি বলতে চাই, সেই পতাকাটা কিসের পতাকা? সেই পতাকা হচ্ছে স্বাধীনতার পতাকা, স্বাধীনতা সংরক্ষণের পতাকা।

সেই পতাকা হচ্ছে গণতন্ত্রের পতাকা, সেই পতাকা হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার পতাকা, সেই পতাকা হচ্ছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের যে স্বকীয় দর্শন সেই দর্শনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পতাকা। আমরা তারেক রহমানকে সেভাবেই জানি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বলা হচ্ছে। শাসকগোষ্ঠী বলছে, তারাই এটাকে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে নিয়ে গেছে। কিন্তু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই ২০০১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু করেছিলেন।

ইউনিয়ন পর্যায় থেকে সব তথ্য ডাটাবেস করে রেখেছিলেন। কিন্তু এক-এগারোতে সব নষ্ট করা হয়।’

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সারা বিশ্বে তন্ন তন্ন করে খুঁজেছেন, কোথাও কোনো দুর্নীতির চিহ্ন খুঁজে পাননি।

জোর করে আজ তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। খালেদা জিয়াকেও একইভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, একটা দানবের হাতে দেশ পড়েছে। সব কিছু তছনছ করে দিচ্ছে। অর্থনীতি বলতে কিছু নেই। দাবি করে যে, উন্নয়নের রোল মডেল নাকি বাংলাদেশ। অথচ দেখা যাচ্ছে ঋণ, ঋণ আর ঋণ।

চতুর্দিকে ঋণে সরকার একেবারে পূর্ণ হয়ে গেছে। শেয়ার মার্কেট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে যাচ্ছে, ব্যাংক থেকে লুট হয়ে যাচ্ছে। মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সম্পূর্ণ দলীয় লোকজনদের ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে। এভাবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য, গণতন্ত্রকে মুক্ত করার জন্য, দেশকে রক্ষার জন্য আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।

আসুন তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবাই দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্যদিয়ে আমরা পরাজিত করি এ দানবীয় সরকারকে এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি- এ হোক আমাদের শপথ।

এ শপথ করলে তা হবে তারেক রহমানের জন্য সবচেয়ে বড় জন্মদিনের উপহার।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×