বাবুর্চির পদ শূন্য দীর্ঘদিন

চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দিদের রান্না করছে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিরা

  নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দিদের রান্না করছে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিরা

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বাবুর্চি ছাড়াই প্রতিদিন রান্না হচ্ছে সাড়ে ৮ হাজার বন্দির। একজন বাবুর্চি ও দু’জন সহকারী বাবুর্চির পদ থাকলেও তিনটি পদই শূন্য থাকায় কারাগারে আটক বন্দিদের দিয়েই করানো হচ্ছে সব ধরনের রান্নাবান্না।

একইভাবে ৯টি পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পদ থাকলেও এর মধ্যে কর্মরত আছেন ৫ জন। বাকি চারটি পদ শূন্য। এ কারণে কারাগারে টয়লেট পরিষ্কার থেকে শুরু করে সব ধরনের পরিচ্ছন্নতার কাজও করানো হয় আটক বন্দিদের দিয়ে।

এছাড়া কারারক্ষী, ডিপ্লোমা নার্সসহ আরও বেশ কিছু পদ শূন্য রয়েছে। যে কারণে আটক বন্দিদের লাগানো হচ্ছে বিভিন্ন কাজে। যা জেল কোডের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারাগার সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার বন্দিকে প্রতিদিন সকালে নাস্তা, দুপুর ও রাতে ভাত পরিবেশন করা হয়। এর মধ্যে একজন বাবুর্চি ও দু’জন সহকারীর পদ থাকলেও ওইসব পদে নিয়োগ নেই দীর্ঘদিন।

একইভাবে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর ৯টি পদ থাকলেও আছে মাত্র ৫ জন। ৩৫১ কারারক্ষীর পদ থাকলেও আছে ৩১৫ জন। এছাড়া প্যাথলজিস্ট, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, ডিপ্লোমা নার্সের পদ থাকলেও কোনো নিয়োগ নেই। একইভাবে ফার্মাসিস্টের ৩টি পদে আছে ১ এবং ২ সহকারী সার্জনের স্থলে কর্মরত আছেন ১ জন।

সদ্য কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া ইউসুফ তালুকদার নামে এক ব্যক্তি যুগান্তরকে বলেন, কারাগারে নানাভাবে বাণিজ্য হচ্ছে। যেসব বন্দি টাকা-পয়সা দিতে পারে না তাদের দিয়েই টয়লেট পরিষ্কার থেকে শুরু করে রান্নাবান্নাসহ সব কাজ করানো হয়।

বন্দিদের দিয়ে তৈরি রান্নার মান খুব খারাপ। অনেক সময় মুখেও নেয়া যায় না। এ কারণে সচ্ছল বন্দিরা টাকা দিয়ে ক্যান্টিন থেকে খাবার কিনে খায়।

এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আকতার কবির চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন- কারাগারে রান্নায় বিশ্বস্ত, আস্থাভাজন, অভিজ্ঞ এবং নির্ভরশীল মানুষ প্রয়োজন। তা না হলে খাবারে বিষক্রিয়াসহ বিপজ্জনক কিছু ঘটতে পারে। বন্দিদের দিয়ে রান্না করানো মোটেও নিরাপদ নয়; কেননা ওইসব বন্দি আইন না মানার কারণেই কারাগারে গেছেন। কোনো ধরনের অঘটন ঘটলে তখন বন্দিরা যেমন দায় নেবে না তেমনি তাদের দোষারোপ করারও কোনো সুযোগ থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, জেলকোড অনুযায়ী নিরাপদ খাদ্য পাওয়া প্রত্যেক বন্দির অধিকার। কিন্তু অনভিজ্ঞ বন্দিদের দিয়ে কখনও সুস্বাদু রান্না করা সম্ভব নয়। বাবুর্চি নিয়োগ না দিয়ে বন্দিদের দিয়ে রান্না করানোটাও এক ধরনের জেলকোড লঙ্ঘন।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নাশির আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, কারাগারে রান্নাবান্নার সব কাজই করছে বন্দিরা। কারাগারে বাবুর্চির শূন্য পদসহ বিভিন্ন শূন্য পদ পূরণে বিভিন্ন সময়ে চিঠি লেখা হয়েছে। কিন্তু নিয়োগ না হওয়ায় সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের দিয়ে বাধ্য হয়ে রান্নাবান্নাসহ এসব কাজ করানো হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×