আ’লীগ সরকার সবকিছুই খেয়ে ফেলছে: মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মির্জা ফখরুল
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগ সরকার সবকিছুই খেয়ে ফেলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সেলিম আল দীনের লেখা ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ নাটকে দেখেছি প্রধান চরিত্র সবকিছু খেয়ে ফেলে। তার পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা, এ জন্য সে চেয়ার, টেবিল, কাগজপত্র সবকিছু খেয়ে ফেলে। এই সরকারও ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’র মধ্যে পড়েছে। তারা সবকিছুই খেয়ে ফেলছে। মেগা প্রজেক্টের সব খেয়ে ফেলছে। এখন সাধারণ মানুষের পেঁয়াজ আর লবণ নিয়ে টানাটানি শুরু করেছে।

রাজধানীর সুপ্রিমকোর্ট বার অডিটোরিয়ামে শুক্রবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৫তম জন্মদিন উপলক্ষে সভার আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবক দল।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকারের একটাই উদ্দেশ্য- যে কোনো প্রকারে ক্ষমতায় থেকে শুধু লুটপাট করা। নিজেরা বিত্তশালী হওয়া এবং অর্থসম্পদ বিদেশে পাচার করে সন্তানদের, তাদের পরিবারকে নিরাপদ রেখে দেয়া। দেশের মানুষের কথা চিন্তা করার তাদের কোনো অবকাশ নেই। তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষ চায় এ সরকার চলে যাক। এ মুহূর্তে গেলে আরও ভালো। কারণ মানুষ আর পারছে না। ১০ বছর বিএনপিকে পিটিয়েছে। এখন সাধারণ মানুষকে পেটানো শুরু করেছে পেঁয়াজ, লবণ সবকিছু দিয়ে। দাম এমন পর্যায়ে বাড়াচ্ছে যেখানে সাধারণ মানুষের জীবন দুঃসহ হয়ে পড়েছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে ‘পাহাড়ের মতো শক্তিশালী’ ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা গোটা বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করছি। আমরা দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে এমন এক গণআন্দোলন সৃষ্টি করব যে, গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন, গণতন্ত্র মুক্তি পাবে। এটা আমাদের বিশ্বাস। আমরা জানি- এটা হবেই।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আমাদের একতাবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী হতে হবে। সেই শক্তি নিয়ে আমরা ক্ষমতায় যাব। আমরা অতীতে পেরেছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা গণতন্ত্র উদ্ধার করেছি। আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশকে মুক্ত করেছি। ঠিক একইভাবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে অবশ্যই দেশনেত্রীকে মুক্ত করে গণতন্ত্র মুক্ত করতে সক্ষম হব।

সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, অনেকে বলেন- এটা স্বৈরাচার সরকার। এটা তো স্বৈরাচারের বাবা, ফ্যাসিবাদ। এরশাদ ছিল স্বৈরাচার, তখন তো এ অবস্থা ছিল না। আইয়ুব খান ছিল স্বৈরাচার, ডিকটেটর, তখনও এ অবস্থা ছিল না। এ সরকার ফ্যাসিস্ট। এক ব্যক্তি, আর কিচ্ছু নেই।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে আলো দেখতে পাই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজ যখন আমাদের অনেকের মধ্যে হতাশা কাজ করছে, অনেকের মধ্যে একটা ভয়-ভীতি-ত্রাস আসছে, তখন তিনি (তারেক রহমান) সেই সুদূর থেকে লালমনিরহাটের একটি গ্রামের নেতাকে ফোন করে বলছেন, কেমন আছেন, ভালো আছেন তো। সাহস হারাবেন না, আমরা সবাই আছি। অনেকে মনে করেন, উনি শুধু আমাদের নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন। না। তিনি প্রায়ই দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গেও কথা বলছেন। এভাবে তিনি উজ্জীবিত করছেন গোটা জাতিকে।

নেতাকর্মীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ ১০-১২ বছর আমরা এ অবস্থার মধ্যে আছি। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। নেলসন ম্যান্ডেলা ২৭ বছর জেলে ছিলেন। অং সান সু চি দীর্ঘদিন গৃহবন্দি ছিলেন। শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের জয় হয়েছে, গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছে।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী আজ কারাগারে। কারাগারে নিজের জন্য নয়, তিনি কারাগারে আমাদের জন্য। এ দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য তিনি কারাগারে। কেন? সবাইকে জামিন দেন, দেশনেত্রীকে জামিন দেন না। কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি যারা একই মামলায় জামিনে আছেন। দেশনেত্রীকে সরকার ভয় পায় বলেই তাকে জামিন দিতে চায় না। দেশনেত্রী যদি বাইরে থাকেন তাহলে যে অপকর্মগুলো সরকার করছে, মেগা প্রজেক্ট থেকে মেগা লুট করছে, মানুষের সব অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে, ভোট করছে নিজের ইচ্ছামতো, সেটা আর পারবে না।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, গোলাম সারোয়ার, ইয়াসীন আলী, নুরুল ইসলাম নয়ন, সাদরেজ জামান, এসএম জিলানী, ফখরুল ইসলাম রবিন, গাজী রেজওয়ান হোসেন রিয়াদ, নজরুল ইসলাম, রফিক হাওলাদার, সাইদুর রহমান সাঈদ প্রমুখ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]ail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×