সেমিনারে চীনা রাষ্ট্রদূত

রোহিঙ্গা ইস্যুতে একপেশে আচরণ করবে না চীন

সংকটের সমাধানে নিজস্ব রোডম্যাপ * মোবাইল ফোনে সংযুক্তির নতুন ফর্মুলা

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৫ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে কোনো দেশকে চাপ নয়, বরং বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেই এর মোকাবেলা করবে চীন। দেশটি এই ইস্যুতে নিজস্ব রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ করছেও বলে জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে মোবাইল ফোনে সংযুক্তির নতুন ফর্মুলা নিয়ে কাজ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। জাতীয় প্রেস ক্লাবে রোহিঙ্গাবিষয়ক এক সেমিনারে রোববার চীনা রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। ইংরেজি দৈনিক ‘বাংলাদেশ পোস্ট’-এর আয়োজনে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। সেমিনারে বক্তারা রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ তৈরি করতে বড় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

এ ব্যাপারে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার দুই দেশেরই বন্ধু চীন। ফলে দেশটি চায় রোহিঙ্গাদের মতো একটি স্পর্শকাতর ইস্যুর সমাধানে দুই দেশই লাভবান হোক। এক্ষেত্রে কোনো দেশের সঙ্গে একপেশে আচরণ করবে না চীন। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে চীন নিজস্ব রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ করছে।

রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবর্তন ও তা টেকসই হওয়ার ব্যাপারে চীন যথেষ্ট আন্তরিক। লি জিমিং বলেন, গত জুলাইয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা হয়।

দুই বছর ধরে চীন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানের উপায় খুঁজতে বেশ কয়েকবার ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমার।

মিয়ানমার সরকারের প্রতি রোহিঙ্গাদের ‘আস্থার ঘাটতি’ দূর করতে মোবাইল ফোনে সংযুক্তির নতুন ফর্মুলা সামনে আনেন চীনা রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘ওয়ান প্লাস ওয়ান প্লাস টু’ আইডিয়া নিয়ে এসেছি আমি। এক্ষেত্রে একটি রোহিঙ্গা পরিবার একজনকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করবে, যে মিয়ানমারে ফিরে যাবে। চীন তাদের দুটি মোবাইল ফোন দেবে।

একটি ওই প্রতিনিধির কাছে, আরেকটি থাকবে কক্সবাজারে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে। প্রতিনিধিরা মিয়ানমারে গিয়ে যা দেখবে, তা জানাবে শিবিরে থাকা স্বজনদের।

রোহিঙ্গা সংকটে মিয়ানমারের পক্ষ নেয়ায় চীনের প্রতি সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে এমন কথা চালু আছে, চীন যা বলে মিয়ানমার সেই অনুযায়ী কাজ করে। এ থেকে ধারণা তৈরি হয়েছে, অর্থনৈতিক কারণে চীন বোধহয় সব সময় মিয়ানমারের পক্ষে থাকছে। এটা সম্পূর্ণ ভুল।

মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সার্বভৌম দেশ। কী করতে হবে সেটা তাদের বলার অধিকার চীনের নেই। আমরা কোনো দেশকে এমন কোনো কাজ করতে বাধ্য করি না, যেটা তারা করতে চায় না।

সেমিনারে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) স্থানীয় প্রতিনিধি স্টিভেন করলিস বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় কেন্দ্রে যা দেখেছি, তা আমার জীবনের বিরল অভিজ্ঞতা। যাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের শতকরা ৯৭ জনই স্বদেশে ফিরে যেতে চায়। এর আগে তারা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চায়।

মূল প্রবন্ধে কাজী রিয়াজুল হক বলেন, আমরা চাই রোহিঙ্গারা সম্মানের সঙ্গে স্বদেশে ফিরে যাক। দুই বছর ধরে এ কথা বললেও দুর্ভাগ্যজনক সত্য হল, একজন রোহিঙ্গাও স্বদেশে ফিরতে পারেনি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে তিনি কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন।

সেমিনারে নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আবদুর রশিদ বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য সামাজিক, পরিবেশগত এবং রাজনৈতিক নানা ঝুঁকি তৈরি করছে। সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ পোস্টের প্রধান সম্পাদক শরীফ শাহাব উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে টেকসই উপায় বের করতে হবে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সাবিনা ইয়াসমিন সিদ্দিক।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত