হংকংয়ে ‘ছোট’ নির্বাচনে গণতন্ত্রপন্থীদের বড় জয়

  যুগান্তর ডেস্ক ২৬ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হংকংয়ে নির্বাচন
হংকংয়ে নির্বাচন। ফাইল ছবি

চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ে জেলা পরিষদ (ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল) নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়েছে গণতন্ত্রপন্থীরা। ১৮টি কাউন্সিলের মধ্যে ১৭টিতেই জয়লাভ করেছে তারা। হংকংয়ে জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণত জনগণের আগ্রহ দেখা না গেলেও এবারের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন।

একটি বিলকে কেন্দ্র করে বেইজিংবিরোধী টানা আন্দোলনের মাঝে এই নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও রায়কে দেখা হচ্ছে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে। ভোটের ফল নিয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন হংকংয়ের প্রশাসক ও চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এএফপি বলছে, রোববারের ভোটের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী ৪৫২টি জেলা পরিষদ আসনের মধ্যে গণতন্ত্রপন্থী প্রার্থীরা ৩৮৮টিতে জয় পেয়েছেন। বেইজিংপন্থী প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ৫৯টিতে। বাকি ৫ আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ফল অনুযায়ী, হংকংয়ের ১৮ জেলা পরিষদের ১৭টিই এখন গণতন্ত্রপন্থীদের দখলে চলে এসেছে।

বিবিসি বলছে, বেইজিংবিরোধী আন্দোলন শুরুর পর এই প্রথম হংকংয়ে কোনো নির্বাচন হল। গত কয়েক মাসের মধ্যে রোববারই ছিল সংঘাত বা সহিংসতাহীন প্রথম সাপ্তাহিক ছুটির দিন। অথচ এদিন আরও বেশি সহিংসতার শঙ্কা করা হচ্ছিল। এবার প্রায় ৭৪ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে রেকর্ড ৪১ লাখ লোক ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। এর মধ্যে ২৯ লাখেরও বেশি লোক ভোট দিয়েছে। ভোট পড়ার হার ছিল ৭১ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৫ সালের নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৪৭ শতাংশ।

ভোটের ফলাফলে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লামের নেতৃত্বের সমালোচনা এবং চলমান বিক্ষোভের প্রতি জনসমর্থনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কয়েক মাস আগে লাম হংকংয়ে একটি বিতর্কিত বন্দি প্রত্যর্পণ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়ার পর এর বিরোধিতায় বিক্ষোভ শুরু হয়, যা সহিংস রূপ নিয়েছে। হংকং সরকার ও বেইজিংয়ের ধারণা ছিল, এ নির্বাচন তাদের প্রতি তথাকথিত ‘নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ’ ভোটারদের সমর্থনকে তুলে ধরবে, কিন্তু তা হয়নি।

ভোটে বেইজিংপন্থীদের বিশাল পরাজয়ের পর সোমবার এক বিবৃতিতে ক্যারি লাম বলেন, নির্বাচনের ফলের প্রতি সরকার শ্রদ্ধাশীল। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের অসন্তুষ্টি এবং সমাজের গভীরে নিহিত সংকটের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই ফলাফলে। সরকার জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে শুনবে এবং বিবেচনা করবে।

আসন হারানো প্রার্থীদের মধ্যে বিতর্কিত বেইজিংপন্থী জুনিয়াস হো বলেছেন, স্বর্গ-মর্ত্য ওলটপালট হয়ে গেছে। অপরদিকে সোমবার জাপান সফররত চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সাংবাদিকদের সামনে হংকংয়ের নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটাই শেষ ফল নয়। এটি কোনো ঘটনাও নয়। হংকং চীনেরই অংশ। হংকংকে অস্থিতিশীল করার কোনো চেষ্টা সফল হবে না।

হংকংয়ের জেলা পরিষদ কাউন্সিলরদের খুব সামান্য রাজনৈতিক ক্ষমতা থাকে। তারা মূলত স্থানীয় ইস্যু- যেমন গণপরিবহনের রুট বা পয়ঃনিষ্কাশনের মতো বিষয় নিয়ে কাজ করেন। মূলত রাজনৈতিক ক্ষমতা কম থাকার কারণেই এই নির্বাচন নিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে তেমন আগ্রহ থাকে না। তবে এই কাউন্সিলররা ১১৭ জন সদস্যকে নির্বাচন করেন, যারা ১২০০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে যাবেন, যে কমিটি হংকংয়ের প্রধান প্রশাসককে নির্বাচন করবে।

যাকে পরে চীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেয়। সর্বশেষ ভোটের ফলে এবার ওই ১১৭ জনের সবাই হতে যাচ্ছেন গনতন্ত্রপন্থী নেতা। ২০২২ সালে নতুন প্রশাসক নিয়োগের সময় তাদের প্রভাব অনেক বেশি থাকবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×