চট্টগ্রাম বন্দরে বে-টার্মিনাল নির্মাণ কাজ শিগগিরই শুরু হচ্ছে না

  মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম বন্দরে বে-টার্মিনাল নির্মাণ
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের বহুল আলোচিত বে-টার্মিনাল নির্মাণ কাজ শিগগিরই শুরু হচ্ছে না। প্রকল্পটি নিয়ে নতুন করে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। এটি শেষ হতে আরও ১ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। এ সময়ের মধ্যে বে-টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করাও সম্ভব হবে না।

ফলে বহুল কাঙ্ক্ষিত বে-টার্মিনাল পেতে অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হচ্ছে। এদিকে, বে-টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতিতে বন্দর ব্যবহারকারীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। বে-টার্মিনালটি নির্মাণের প্রস্তাব দিয়ে বিভিন্ন দেশের সাতটি প্রতিষ্ঠান কাজ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

আগ্রহ প্রকাশ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি করতে আগের সমীক্ষাটি যথেষ্ট না হওয়ায় নতুন করে সমীক্ষা চালাতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে। প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণও শেষ হয়নি।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম যুগান্তরকে বলেন, বে-টার্মিনাল শব্দটি শুনতে শুনতে আমরা বিরক্ত হয়ে গেছি। বুঝতে পারছি না এটা কবে হবে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন যে হারে বাড়ছে তাতে বর্তমান অবকাঠামো দিয়ে তা সামাল দেয়া সম্ভব নয়। তাই বে-টার্মিনাল নির্মাণের বিকল্প নেই। দ্রুত এর কাজ শুরু করতে হবে।

এখন পণ্য খালাসের জন্য প্রতিটি জাহাজকে গড়ে ৭-৮ দিন এমনকি আরও বেশি সময় বন্দরে বসে থাকতে হয়। নতুন টার্মিনাল না হলে এ সমস্যা দিন দিন আরও প্রকট হবে।

নগরীর পতেঙ্গা-হালিশহর এলাকায় সাগর উপকূল ঘেঁষে বে-টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। একে বলা হচ্ছে আগামীর বন্দর। ৮৭১ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন ও সরকারি জমি ছাড়াও সমুদ্র থেকে জেগে উঠা আরও এক হাজার ৬০০ একরসহ দুই হাজার ৫০০ একর জমিতে টার্মিনালটি নির্মাণের কথা রয়েছে।

এটি চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান অবকাঠামোর চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ বড় হবে।

দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান অবকাঠামো ৪৫০ একর জমির ওপর নির্মিত। এ বন্দরে বর্তমানে সাড়ে ৯ মিটার গভীরতা ও ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যরে বড় জাহাজ প্রবেশ করতে পারে না। নতুন টার্মিনাল হলে ভিড়তে পারবে ১২ মিটার গভীরতা ও ২৮০ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যরে জাহাজ।

ফলে বন্দরে প্রতি বছর যে পরিমাণ আমদানি-রফতানি পণ্য হ্যান্ডলিং হচ্ছে, বে-টার্মিনালে হ্যান্ডলিং হবে তার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি পণ্য।

বে-টার্মিনালের জন্য ব্যক্তি মালিকানাধীন ৬৮ একর ভূমি এরইমধ্যে অধিগ্রহণ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে ইয়ার্ড ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নেয়া হলেও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে ডিপিপি আটকে থাকায় কাজটি থমকে আছে।

এপ্রিলে প্রকল্পের অবশিষ্ট ৮০৩ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমতি মিলেছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াটি করছে। তবে এ কাজে খুব বেশি অগ্রগতি নেই। বন্দর সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।

এ পরিমাণ অর্থ বন্দরের একার পক্ষে জোগান দেয়া সম্ভব নয়। তাই প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে জিটুজি (সরকারের সঙ্গে সরকারের) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে এটি কারা বাস্তবায়ন করবে তা এখনও নির্ধারণ হয়নি।

যদিও বিদেশি সাতটি প্রতিষ্ঠান বে-টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিষ্ঠান সাতটি হল- পোর্ট অব সিঙ্গাপুর অথরিটি (পিএসএ), সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ড, সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে, ভারতের আদানি গ্রুপ, ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস, চীনের চায়না মার্চেন্টস গ্রুপ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই গ্রুপ।

বে-টার্মিনাল দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত চট্টগ্রাম বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাফিউল আলম যুগান্তরকে বলেন, প্রকল্পটির কাজ কোনো প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হবে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

চুক্তি করতে গেলে নতুন করে সমীক্ষা চালাতে হবে। এরইমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের ডিটেইলড ফিজিবিলিটি স্টাডি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ কাজে আগ্রহী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রস্তাব (এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট) চাওয়া হয়েছে। ৫ ডিসেম্বর ছিল প্রস্তাব জমা দেয়ার শেষ দিন।

২১টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হবে। সমীক্ষার সময় ৯ মাস ধরা হয়েছে। আর এ কাজের জন্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

২০১৬ সালে জার্মান প্রতিষ্ঠান শেল হর্নের নেতৃত্বে ওই দেশের এইচপিসি হামবুর্গ পোর্ট কনসালটিং এবং বাংলাদেশের কেএস কনসালট্যান্টস লিমিটেড যৌথভাবে এ প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা) করে।

নতুন করে কেন আবার সমীক্ষা চালাতে হচ্ছে জানতে চাইলে বন্দরের এক কর্মকর্তা বলেন, তখন পিপিপি ও জিটুজি ভিত্তিতে প্রকল্পের কাজ করা হবে- এমন সিদ্ধান্ত ছিল না।

এ সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি করতে নতুন করে সমীক্ষা চালাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক আগে বে-টার্মিনালের জন্য প্রস্তাবিত সরকারি খাসজমি অধিগ্রহণের অনুমতি পাওয়া গেছে। এ নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কাজ করছে। তারা ভূমি অধিগ্রহণ করবে। আমরা ভূমির মূল্য পরিশোধ করব।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×