পেঁয়াজের বাজারে সুখবর নেই

দেশি পেঁয়াজের কেজি ২৪০-২৬০ টাকা

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসার পরও ঝাঁজ কমছে না। এখনও আকাশচুম্বী দরে বিক্রি হচ্ছে দেশি পেঁয়াজ।
ফাইল ছবি

নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসার পরও ঝাঁজ কমছে না। এখনও আকাশচুম্বী দরে বিক্রি হচ্ছে দেশি পেঁয়াজ।

নতুন পেঁয়াজের ধাক্কায় দাম সহনীয় হওয়ার প্রত্যাশায় প্রতিদিনই বাজারে গিয়ে হতাশ হচ্ছেন ভোক্তা। রোববার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৪০-২৬০ টাকা।

আগের দিনও একই দরে বিক্রি হয় পণ্যটি। তবে পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ ২৪০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। এ ছাড়া খুচরা পর্যায়ে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১৩০-২২০ টাকা এবং পাইকারিতে ১১০-১৯০ টাকা। তবে মুড়িকাটা নতুন পেঁয়াজের দাম ছিল ১৫০-১৮০ টাকা।

এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর নয়াবাজারে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন পেঁয়াজের দাম জিজ্ঞেস করতেই বিক্রেতা বলেন- দেশি পেঁয়াজের কেজি ২৬০ টাকা।

দাম শুনে অনেকটা বিরক্ত আনোয়ার পাশের দোকানে গিয়ে জানতে চাইলে প্রতি কেজি ২৫০ টাকা হাঁকেন বিক্রেতা আলাউদ্দিন। আনোয়ার বলেন, ২৩০ টাকায় দেয়া যায় কি না। তাহলে আধা কেজি নেব।

বিক্রেতা সাফ জানিয়ে দিলেন- এক দাম, নিলে নেন, না নিলে চলে যান! ঠিক ওই সময়ই আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে দেশে নয়ছয় চলছে। তদারকি যারা করবে তারাও যেন উদাসীন।

মন্ত্রণালয়ের কর্ণধাররা পেঁয়াজ নিয়ে একেক দিন একেক কথা বলেছেন। কিন্তু দাম কমানোর কোনো পদক্ষেপই দৃশ্যমান নয়। অসাধুদের লাগাম টানা যাচ্ছে না।

স্কুল ছুটির পর দুপুর ১২টায় সন্তানকে নিয়েই কারওয়ান বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা তানিয়া সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, দাম কমছেই না। দেশি পেঁয়াজ কিনতে সাহস পাচ্ছি না। আমদানি করা পেঁয়াজের দামও আকাশছোঁয়া।

মনে হচ্ছে সবাই যেন হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে। আর আমাদের মতো ভোক্তার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে।

এদিন ঢাকার কারওয়ান বাজার, নয়াবাজার, শান্তিনগর কাঁচাবাজার ও রামপুরা বাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ২১০-২২০ টাকা, মিসরের পেঁয়াজ ১৫০-১৬০ টাকা, চীনের পেঁয়াজ কেজি ১৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বাজারে প্রতি কেজি দেশি নতুন পেঁয়াজ (মুড়িকাটা) বিক্রি হয় ১৫০-১৮০ টাকা।

জানতে চাইলে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, পেঁয়াজের দাম সহনীয় করতে তদারকি বাড়াতে হবে। শুধু পাইকারি ও খুচরায় তদারকি করলে চলবে না।

যেখান থেকে এই দুই বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহ করা হয়, সেখানেও নজরদারি বাড়াতে হবে। যাতে দাম নিয়ে কেউ কারসাজি না করতে পারে। এ ছাড়া আগামীর কথা চিন্তা করে সরকারকে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করতে হবে।

কীভাবে দেশি পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানো যায় সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে। ভারত ছাড়াও অন্যান্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বাড়াতে হবে।

এদিন রাজধানীর পাইকারি আড়ত শ্যামবাজার ও কারওয়ান বাজারের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাইকারি প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ২৪০-২৫০ টাকা, মিয়ানমার ও পাকিস্তানি পেঁয়াজ ১৭০-১৮০ টাকা, চীন থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ কেজি ১১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কথা হয় পাইকারি ব্যবসায়ী আসরাফের সঙ্গে।

তিনি বলেন, অল্প পরিমাণে পেঁয়াজ ছাড়া হচ্ছে। দামও বেশি। বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসার পরও আমদানিকারকরা পেঁয়াজের দর কমাচ্ছে না। বেশি দরে এনেই বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, পেঁয়াজের বাজারে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। কিন্তু আমাদের জনবলের সংকট রয়েছে।

তবে ভোক্তার স্বার্থে অধিদফতরের তদারকি টিম মোকাম থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা বাজারে তদারকি করছে। একাধিক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও সহায়তা করছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×