খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি কাল, উৎকণ্ঠায় বিএনপির নেতাকর্মীরা

  হাবিবুর রহমান খান ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ফটো

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন প্রশ্নে আপিল বিভাগের শুনানি আগামীকাল। জামিন হবে কিনা- তা নিয়ে বেশ উৎকণ্ঠায় আছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

কি আদেশ দেন তা জানতে আদালতের দিকে তাকিয়ে আছেন তারা। বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনায় চেয়ারপারসন জামিন পাবেন বলে প্রত্যাশা দলটির।

এদিকে ৫ ডিসেম্বর আদালতে অপ্রীতিকর ঘটনায় বেশ সতর্ক বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। আগামীকাল শুনানির আগে বা শুনানিকালে এজলাস প্রাঙ্গণে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে- সেদিকে সতর্ক থাকতে সবাইকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আগামীকাল আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হবেন নেতাকর্মীরা। আদালতের ভেতরে এবং বাইরে ব্যাপক শোডাউন করা হবে। শুধু রাজধানীতে নয়, সারা দেশে নেতাকর্মীদের আগামীকাল যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে নানা টালবাহানা করছে সরকার। তার জামিন আটকে দিতে সরকার নগ্ন হস্তক্ষেপ করছে। তাদের ইন্ধনেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ গত শুনানিতে তার স্বাস্থ্যের রিপোর্ট আদালতে জমা দেননি।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খুবই অসুস্থ। নেতাকর্মীরা খুব উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় আছে। মানবিক কারণে তার জামিন দেয়া উচিত। সরকার কোনো হস্তক্ষেপ না করলে আগামীকাল আদালতে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।

খালেদা জিয়ার মামলার আইনজীবী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ সঠিক রিপোর্ট দেবেন বলে আশা করি। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে মানবিক কারণে তার জামিন চেয়েছি। তিনি বলেন, আমরা এখনও বিচার বিভাগকে বিশ্বাস করি। বিশেষ করে সুপ্রিমকোর্ট ন্যায়বিচার করবেন, আইনের শাসন কায়েম থাকবে বলে আশা করি। বিচার বিভাগের ওপর আমাদের কোনো ক্ষোভ নেই। আমাদের ক্ষোভ অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের ভূমিকার বিরুদ্ধে। বিচার বিভাগ থেকে আমাদের যে বিচার পাওয়ার কথা ছিল তা অ্যাটর্নি জেনারেলের কারসাজিতে পাচ্ছি না।

সূত্র জানায়, আগামীকালের শুনানি ও রায়ের পর পরবর্তী করণীয় চূড়ান্ত করবে বিএনপি। উচ্চ আদালত থেকে চেয়ারপারসনের জামিন না হলে রাজপথে সক্রিয় হওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে দলটির। ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মাঠে নামা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেয়া হবে ধাপে ধাপে কঠোর কর্মসূচি। এরপর চূড়ান্তভাবে সরকার পতনের এক দফায় যাওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে দলটির হাইকমান্ডের।

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যুগান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তাই তার জামিন পাওয়া ন্যায়সঙ্গত অধিকার। দলের সব স্তরের নেতাকর্মীরা চেয়ারপারসনের জামিন নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন। আমরা আশা করি উচ্চ আদালত সবকিছু বিবেচনা করে সঠিক রায় দেবেন।

তিনি বলেন, আমরা তো আন্দোলন করতে চাই না। চেয়ারপারসনের মুক্তি হলে রাজপথে নামব কেন। আমরা এখন আদালতের দিকে তাকিয়ে আছি। তার জামিনের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া দেখে কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানান, চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে মোট ৩৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি মামলায় জামিন হয়েছে। আগামীকাল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানি। এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ১৪ নভেম্বর আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। পরে ১৮ নভেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় জামিন আবেদনটি আপিল বিভাগে কার্যতালিকাভুক্ত হয়। এরপর ২৮ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়। এদিন আগামী ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত জামিন শুনানি মুলতবি করেন আদালত।

এ সময়ের মধ্যে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত।

৫ ডিসেম্বর বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়ার মেডিকেল প্রতিবেদন আদালতে দাখিল না করে এ জন্য সময় চান। আদালত ১২ ডিসেম্বর শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করে এর আগেই মেডিকেল প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের এমন আদেশের প্রতিবাদে এজলাসের ভেতরে হট্টগোল করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। চরম বিশৃঙ্খলার এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আজ স্বাস্থ্যগত রিপোর্ট জমা : আজ রিপোর্ট জমা দেয়া হবে কি না, জানতে চাইলে মঙ্গলবার রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া যুগান্তরকে বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অবশ্যই নির্ধারিত সময়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত রিপোর্ট জমা দেয়া হবে। বুধবার (আজ) সকালে মেডিকেল বোর্ড উপাচার্যের দফতরে রিপোর্ট নিয়ে আসবে। তারপরই সেই রিপোর্ট আদালতে পাঠানো হবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত