হয়রানি বন্ধে প্রাথমিকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে শিক্ষক বদলি

  মুসতাক আহমদ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বদলি

ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ ও হয়রানি বন্ধে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য অনলাইনে বদলি আবেদন নেয়া হবে। সফটওয়্যারের মাধ্যমে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত বদলি কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে সফটওয়্যারের পাশাপাশি নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। তবে নতুন পদ্ধতি চালুর আগে পুরনো নীতিমালার অধীনেই শিক্ষক বদলি করা হবে।

জানা গেছে, শিক্ষক বদলি নীতিমালা ও সফটওয়্যার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বদরুল হাসান বাদলের নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি নীতিমালা তৈরির কাজ করছে এবং সফটওয়্যার তৈরির দেখভাল করছে। অতিরিক্ত সচিব বদরুল হাসান যুগান্তরকে জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভোগান্তিমুক্ত সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সফটওয়্যার তৈরিতে বুয়েটের সহায়তা নেয়া হচ্ছে। এটি তৈরির পর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে।

পরিপূর্ণভাবে প্রয়োগের উপযোগী হলে ২০২০ সালের যে কোনো সময় নতুন নীতিমালার আলোকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বদলি কার্যক্রম শুরু হবে।

জানা গেছে, বর্তমানে শিক্ষকরা বদলির জন্য উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে আবেদন করেন। আন্তঃবিভাগ ও সিটি কর্পোরেশনে বদলির জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। ফলে প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাস বদলি কার্যক্রমে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বদলি নিশ্চিত করতে অনেক শিক্ষক ক্লাস ফেলে তদবিরে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ভোগান্তির পাশাপাশি ঘাটে ঘাটে তাদের টাকা ঢালতে হয়। জটিল প্রক্রিয়া হওয়ায় একশ্রেণির দালালও তৈরি হয়েছে। শিক্ষকনেতাদের কাছেও অনেকে ধরনা দেন। প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছেও তাদের যেতে হয়।

সূত্র জানায়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিক্ষক বদলির একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এটির ওপর মতামত নেয়া হবে। এ লক্ষ্যে শিগগিরই বৈঠক হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রস্তাবিত নীতিমালায় বিশেষ প্রয়োজনে শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম বছরজুড়ে অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সাধারণ বদলি আগের মতোই রয়েছে। বদলির আবেদনে শিক্ষকরা পদায়নের তিনটি কর্মস্থলের নাম দেবেন। এরপর নীতিমালা অনুসারে সফটওয়্যার আবেদনকারীর পদায়নস্থলের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিহ্নিত করবে। এতে বলা হয়, একটি কর্মস্থলে একজন শিক্ষককে ন্যূনতম তিন বছর থাকতে হবে। এরপর শূন্য থাকা সাপেক্ষে তিনটি বিদ্যালয়ে বদলির জন্য তিনি আবেদন করতে পারবেন। জেলা সদর ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলে বদলি হওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে এ ধরনের ইস্যুতে চাকরিজীবনে একবার সুবিধা নেয়া যাবে। উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশনের বাইরে থেকে সর্বাধিক ১০ শতাংশ শূন্য পদে সংশ্লিষ্ট শহরে বদলি হওয়া যাবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উপজেলার বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে বদলি শিক্ষকদের হালনাগাদ তালিকা রেজিস্টারে সংরক্ষণ করবেন। তবে বৈবাহিক কারণে বদলির ক্ষেত্রে এ শর্ত প্রযোজ্য হবে না।

প্রতিবন্ধী শিক্ষক, নদীভাঙন অথবা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শিক্ষকের বসতভিটাবিলীন হলে ও শিক্ষকের ওপর নির্ভরশীল প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এছাড়া বিভাগীয় অথবা জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকরা বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। তবে বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত শিক্ষিকা, বিবাহ বিচ্ছেদজনিত মামলা থাকলে একবার এ সুবিধা গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক কারণে বদলি, সমন্বয়, পারস্পরিক সমঝোতায়, সংযুক্তি, বিশেষ কারণে বছরজুড়ে সুবিধামতো যে কোনো স্থানে বদলি হওয়া যাবে।

নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের উপজেলার তফসিলভুক্ত দুর্গম এলাকার স্কুলে কমপক্ষে ছয় মাস চাকরি করতে হবে। এসব এলাকায় চাকরির অভিজ্ঞদের বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তবে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান জেলার জন্য এটি প্রযোজ্য হবে না।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×