রিফাত হত্যাকাণ্ড: শিশু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

  বরগুনা ও দক্ষিণ প্রতিনিধি ০৯ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রিফাত

বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়েছে।

বুধবার সকালে আসামিদের উপস্থিতিতে বরগুনার শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগ পড়ে শুনিয়ে বিচারক ১৩ আসামিকে ফের শোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একজন কিশোর জামিনে থাকলেও অভিযোগ গঠনের সময় উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বুধবার বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে মামলার বাদী আবদুল হালিম দুলাল শরীফের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। সাক্ষ্য দেয়ার একপর্যায়ে বাদী কান্নায় ভেঙে পড়েন।

মামলার ৭৫ জন সাক্ষীর মধ্যে এটাই প্রথম সাক্ষ্য গ্রহণ। এ সময় আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ৯ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে মিন্নির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ভুবন চন্দ্র হাওলাদার জামিন বাতিলের আবেদন করেন। আদালত এটি আজ বৃহস্পতিবার আদেশের জন্য রেখেছেন। এদিন আরও তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন আদালত।

শিশু আসামিদের নিজেদের নির্দোষ দাবি : বুধবার সকালে শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান অভিযোগ পড়ে শোনান। এ সময় তারা সবাই সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রার্থনা করেন। আদালত তাদের প্রার্থনা নামঞ্জুর করেন। তিনজন শিশু আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

পরবর্তী তারিখ ১৩ জানুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত। হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত প্রিন্স মোল্লাও আদালতে উপস্থিত হয়।

শিশু আসামিরা হল- রাশেদুল হাসান রিশান ফরাজী, অলিউল্লাহ অলি, জয় চন্দ্র সরকার চন্দন, তানভির হোসেন, নাজমুল হাসান, রাতুল সিকদার জয়, মারুফ মল্লিক, রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার, আবদুল্লাহ রায়হান, সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ ওরফে মহিবুল্লাহ, প্রিন্স মোল্লা, রাকিবুল হাসান নিয়ামত, নাঈম ও আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ। শিশু আসামি আরিয়ান হোসেন শ্রাবণের আইনজীবী শাহজাহান মিয়া বলেন, শ্রাবণ সম্পূর্ণ নির্দোষ।

২৬ জুন সকাল ১০টায় শ্রাবণ ক্লাসে ছিল। হত্যাকাণ্ডের ধারেকাছেও ছিল না। শ্রাবণ শুধু ০০৭ গ্রুপের সদস্য ছিল। এছাড়া আসামি রিশান ফরাজী, মারুফ মল্লিক ও আরিয়ান হোসেন শ্রাবণের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন।

আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি মোস্তাফিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, রিফাত হত্যা আর ১০টি হত্যার সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডটি দেশ-বিদেশের সবাই দেখেছে। কীভাবে একটি ছেলেকে প্রকাশ্যে অসংখ্য মানুষের সামনে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন দুলাল শরীফ : এর আগে ১ জানুয়ারি বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে মিন্নিসহ ৯ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বুধবার সকালে কারাগার থেকে আসামি রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজী, আল কাইয়ূম রাব্বি আকন, রেজোয়ানুল ইসলাম টিকটক হৃদয়, হাসান, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, কামরুল হাসান সায়মুন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাতকে আদালতে হাজির করা হয়।

জামিনে মুক্ত আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি আদালতে হাজির ছিলেন। বেলা ১০টায় সাক্ষ্য দিতে উঠেন মামলার বাদী দুলাল শরীফ। বাদী দীর্ঘ সময় নিয়ে ছেলে হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে বাদীকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা জেরা শুরু করলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

কিছুক্ষণ পর ৭ আইনজীবী আবার তাকে জেরা শুরু করেন। বাদী বলেছেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না তবে ফোন পেয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে তার শরীরে অসংখ্য কোপের জখম দেখতে পাই। রিফাত যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল। তখন রিফাত ১২ জন আসামিসহ আরও ১২-১৩ জনের নাম বলেছে। এছাড়া রিফাত শরীফকে কোপানোর ভিডিও ফুটেজ দেখেছি।

পরে বাদী যুগান্তরকে বলেন, আমি আমার ছেলের হত্যার বিশদ বর্ণনা দিতে পেরেছি আদালতে। ন্যায়বিচারের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। রাষ্ট্রপক্ষের পিপি ভুবন চন্দ্র হাওলাদার যুগান্তরকে বলেন, মামলার বাদী সব কিছুই নির্ভুলভাবে আদালতে উপস্থাপন করতে পেরেছেন। আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি কীভাবে এই মামলায় জড়িত হয়েছে, তা-ও বর্ণনা দিতে পেরেছেন। পিপি বলেন, মিন্নি জামিনে গিয়ে জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেছে। মিন্নি ও তার দলবল সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমতাবস্থায় মিন্নি বাইরে থাকলে সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে ভয় পাবে।

ঘটনাপ্রবাহ : রিফাতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×