খুলনায় কার্বন কারখানার দূষণে নাকাল জনজীবন

  আহমদ মুসা রঞ্জু, খুলনা ব্যুরো ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা কার্বন কারখানা
কার্বন কারখানা। ছবি: সংগৃহীত

খুলনার রূপসা উপজেলায় অবৈধভাবে কার্বন কারখানা গড়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। কারখানাটির বায়ু ও পানিদূষণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। নানা রোগে তারা আক্রান্ত হচ্ছেন। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পাঁচ বছর ধরে অনুমোদনহীন কার্বন কারখানাটি চললেও প্রশাসন নীরব। সরকারি বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও এলাকাবাসী কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।

জানা গেছে, রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের তিলক গ্রামে ৪/৫ বছর আগে প্রায় ১০ একর জায়গার ওপর মমকো কার্বন ফ্যাক্টরি গড়ে ওঠে। কাঠ ও পাটকাঠি পুড়িয়ে প্রথমে কয়লা তৈরি করা হয়।

এরপর এ কয়লাগুঁড়ো প্রক্রিয়াজাত করে কার্বন তৈরি করা হয়। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা কারখানার ধোঁয়া ও ছাই পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষেতখামার, আবাসিক স্থান, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং পুকুর-জলাশয় ছাইয়ে ছেঁয়ে যায়।

গ্রামটিতে গিয়ে দেখা গেছে, কারখানার পাশ ঘেঁষে প্রতিষ্ঠিত আশরাফুল জাকারিয়া কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা কারখানার ধোঁয়ার কারণে ক্লাসে থাকতে পারছে না। এমন অবস্থায় অনেক সময় ক্লাস বন্ধ করে দেন অধ্যক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির সুপার মো. আহসান উল্লাহ বলেন, কারখানাটি একেবারে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কারখানাটি চালু থাকায় এর ধোঁয়ায় ভরে যায় পুরো এলাকা।

শীতকালে উত্তরের বাতাসের সঙ্গে কারখানার ধোঁয়া ও ছাই সরাসরি মাদ্রাসায় এসে পড়ে। এ সময় ছাত্ররা ক্লাসে বসতে পারে না। বাধ্য হয়ে ছুটি দিতে হয়। প্রচণ্ড ধোঁয়ায় গত বছর কয়েকজন ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হয়েছে। কারখানাটি তিনি বন্ধের দাবি জানান।

ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার এসএম আলমগীর হোসেন শ্রাবণ বলেন, কারখানাটি তৈরি করার সময় গ্রামবাসীরা প্রতিবাদ করেছিল। এখন আমরা পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।

তিনি বলেন, কারখানাটির কারণে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হতে বসেছে। এর ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারণে আশপাশের গাছে ফুল ও ফল কম ধরছে। জলাশয়ের পানিতে ছাইয়ের প্রলেপ পড়ে। এ কারণে পুকুর ও চিংড়ির ঘেরে মাছের উৎপাদন কমে গেছে। এছাড়া বেশির ভাগ জমির ধান চিটে হয়ে যাচ্ছে। কারখানাটি বন্ধে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ৬ জানুয়ারি কারখানার ম্যানেজার মো. সোহাগের সঙ্গে কথা হয়।

তবে প্রতিবেদকের পরিচয় পেয়ে তিনি কারখানার বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

একপর্যায়ে তিনি অফিস কক্ষের দরজা বন্ধ করে চলে যান। কারখানার বিষয়ে খুলনা-৪ আসনের এমপি সালাম মুর্শেদীর বড় ভাই আজাদ আবুল কালাম বলেন, কারখানাটির জন্য স্থানীয় মানুষ অতিষ্ঠ। এর মালিককে কখনও পাওয়া যায় না। অদৃশ্য ক্ষমতাবলে কারখানাটি চলছে। প্রশাসনের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, খুলনা জেলার মধ্যে রূপসায় প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়ের সংখ্যা বেশি। শুধু নৈহাটি ইউনিয়নে ১৪০০’র মতো প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়ে রয়েছে। দূষণের কারণেই প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়ে জন্ম নিচ্ছে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

লোকালয়ে কারখানা তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, এমন কারখানার কথা তিনি জানেন না। এখনও কেউ বিষয়টি জানায়নি। এ বিষয়ে অবশ্যই পদক্ষেপ নেব।

পরিবেশ অধিদফতর খুলনার পরিচালক সাইফুর রহমান খান বলেন, লোকালয়ের মধ্যে এমন কারখানার অনুমোদন পরিবেশ অধিদফতর থেকে দেয়া হয়নি। কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×