চট্টগ্রাম-৮ উপনির্বাচন: ৫ শতাংশ ভোটকে দেখানো হচ্ছে ২২ শতাংশ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান বলেছেন, ভোট পড়ার হার নির্বাচন কমিশন বাড়িয়ে বলছে। মাত্র পাঁচ শতাংশ ভোট পড়লেও নির্বাচন কমিশন বলছে ২২ দশমিক ৯৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। তিনি বলেন, বাকি ভোট ইভিএমের মাধ্যমে ডিজিটাল জালিয়াতি করে দেখানো হচ্ছে। শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে নির্বাচনপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আবু সুফিয়ান এ অভিযোগ করেন। দলীয় পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তিনি ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেন, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার মীর মো. হেলাল উদ্দিন, বিএনপি নেতা আলী আব্বাস, মোস্তাক আহমদ খান, মাহবুবুল আলম, নাজিম উদ্দিন আহমদ, এসএম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, ইসকান্দর মীর্জা, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ, মো. কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবু সুফিয়ান বলেন, উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ, প্রশাসন ও দলীয় সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে ইভিএমের মাধ্যমে ডিজিটাল জালিয়াতি করে জনগণের বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। এ নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে- ইভিএমের মাধ্যমে ভোট ডাকাতি করা যায়। এটি মধ্যরাতের নির্বাচনের মতো আরেকটি কৌশল। ডিজিটাল ডাকাতির পর অভিযোগ করারও সুযোগ নেই। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের লোকজন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সহায়তায় ইভিএম মেশিনের পাসওয়ার্ড নিয়ে বুথে বুথে জাল ভোট দিয়েছে। কেন্দ্র দখল করে ইভিএমের পাসওয়ার্ড নেয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন আবু সুফিয়ান। তিনি জানান, নগরীর হামজারবাগ রহমানিয়া স্কুল কেন্দ্রে বেলা ১২টার সময় ২ নম্বর কক্ষে কয়েকজন বহিরাগত সন্ত্রাসী প্রবেশ করে। তারা নির্বাচন কমিশনের আইটি বিশেষজ্ঞ ও প্রিসাইডিং অফিসার ছোটন চৌধুরীকে নিয়ে সেখানে যান। তার মোবাইল ফোন থেকে নির্বাচন কমিশনের কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করে পাসওয়ার্ড নেন। এ সময় তারা বলেন, ১০ শতাংশ ম্যাচিং কোড দিয়ে তাড়াতাড়ি ভোট দেন। এরপর অন্যজনের আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে জাল ভোট দেয়া হয়। সুফিয়ান আরও বলেন, ‘মৃত ব্যক্তি ও প্রবাসীদের নামেও ভোট দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগের রাতে বিভিন্ন উপজেলার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও সরকারদলীয় নেতারা কেন্দ্র দখল করে। সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেও কেন্দ্র দখল করা হয়েছে। ভোট শুরুর কিছুক্ষণ পর পুলিশের উপস্থিতিতে নৌকার লোকজন ইভিএমের গোপন বুথে অবস্থান নেয়। এ উপনির্বাচনের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে ভোটাধিকার হরণের প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিণত করেছে এ সরকার। আবু সুফিয়ান জানান, বোয়ালখালীর পশ্চিম কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ৭৩৬টি ভোট পান।

একই কেন্দ্রে তিনি উপনির্বাচনে ১১টি ভোট পেয়েছেন। কধুরখীল পাঠানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮৫৭ ভোট পেলেও এবার পেয়েছেন ৪২টি। খিতাপচর ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পেয়েছিলেন ৫৫৬ ভোট, এবার পেয়েছেন ৫ ভোট। বেঙ্গুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পেয়েছিলেন ৫৫৩ ভোট, এবার পেয়েছেন ৮ ভোট। ঘোষিত ফলাফল বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়ে আবু সুফিয়ান বলেন, ‘জনগণের করের টাকা খরচ করে সরকার ও নির্বাচন কমিশন তামাশা করেছে। তামাশার নির্বাচন জনগণ মেনে নেয়নি।’

সংবাদ সম্মেলনে শাহাদাত হোসেন বলেন, ২২ শতাংশ ভোটের মধ্যে আসলে ভোট পড়েছে পাঁচ শতাংশ। ১০ শতাংশ ভোট দিয়েছেন প্রিসাইডিং অফিসার নিজে। বাকি ভোট কেন্দ্র দখল করে পাসওয়ার্ড নিয়ে আওয়ামী লীগের লোকজন দিয়েছে। উল্লেখ্য, জাসদ নেতা মঈন উদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া চট্টগ্রাম-৮ আসনে ১৩ জানুয়ারি উপনির্বাচন হয়েছে। এতে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমেদ ৮৭ হাজার ৩৪৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির আবু সুফিয়ান পেয়েছেন ১৭ হাজার ৯৩৫ ভোট।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত