মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

চাকরিতে অষ্টম থেকে ওপরের গ্রেডেও কোটা থাকবে না

  যুগান্তর রিপোর্ট ২১ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মন্ত্রিসভা
মন্ত্রিসভা। ছবি: পিআইডি

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নন-ক্যাডার অষ্টম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা বণ্টন পদ্ধতি সংক্রান্ত পরিপত্র সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার তেজগাঁও কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এর ফলে ওই পদগুলোতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো কোটা থাকবে না। নিয়োগ হবে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে।

এছাড়া আকাশ পথে পরিবহন (মন্ট্রিল কনভেনশন) আইন-২০২০, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন-২০১৯ এর খসড়াসহ মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পরিপত্র সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদনের ফলে সরকারি চাকরিতে প্রথম শ্রেণিতে সরাসরি নিয়োগে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের মতো প্রথম থেকে অষ্টম গ্রেডের চাকরির নিয়োগেও কোনো কোটা থাকবে না।

কোটা পদ্ধতি বাতিল করে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র নিয়ে সরকারি কর্ম-কমিশন (পিএসসি) স্পষ্টীকরণ চাইলে ১ম-৮ম গ্রেডের নিয়োগে কোটা নিয়ে এ মতামত দেয়া হয়। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে, নবম থেকে যত উপরের গ্রেডেই যাক, সরাসরি নিয়োগে কোনো কোটা পদ্ধতি থাকবে না।’

কোটা বাতিল করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়, ‘৯ম গ্রেড (আগের প্রথম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩ম গ্রেডের (আগের দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হবে। এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হল।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পিএসসি গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি ৮ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে, নাকি আগের কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, তা স্পষ্ট করার অনুরোধ জানিয়েছিল।

কোটা বাতিলের পরিপত্রে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডে নিয়োগে কোটা না রাখার বিষয়টির উল্লেখ থাকলেও ৮ম-১ম গ্রেডে নিয়োগে কোটার বিষয়ে কিছু বলা ছিল না। প্রসঙ্গত, জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এ শ্রেণির পরিবর্তে গ্রেড উল্লেখ করা হয়েছে এবং আগের ১ম শ্রেণির পদ বলতে ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের পদকে বোঝানো হয়েছে।

আকাশপথে দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ বাড়ছে : আকাশপথে পরিবহনের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় যাত্রীর মৃত্যু বা আঘাতপ্রাপ্ত এবং ব্যাগেজ নষ্ট বা হারানোর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বৃদ্ধি করে একটি আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এ আইন কার্যকর হলে আকাশপথে দুর্ঘটনায় মৃত্যু, আঘাত এবং লাগেজ হারিয়ে গলে যাত্রীদের ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়বে। বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হলে বর্তমানে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ২০ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা। নতুন খসড়ায় বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে ১ কোটি ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৩৩৪ টাকা ক্ষতিপূরণের বিধান রাখা হয়েছে।

আকাশপথে পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো দুর্ঘটনায় যাত্রীর মৃত্যু বা আঘাতপ্রাপ্ত হলে এবং ব্যাগেজ নষ্ট বা হারানোর ক্ষেত্রে ওয়ারশ কনভেনশন-১৯২৯ এর আলোকে আমাদের দেশে বর্তমানে প্রচলিত দ্য ক্যারেজ বাই এয়ার অ্যাক্ট-১৯৩৪, দ্য ক্যারেজ বাই এয়ার (ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন) অ্যাক্ট-১৯৬৬ এবং দ্য ক্যারেজ বাই এয়ার (সাপ্লিমেন্টারি কনভেনশন) অ্যাক্ট-১৯৬৮ আইন আছে।

এ তিনটি আইনের আলোকে প্রাণহানি, আঘাত ও ব্যাগেজ বা কার্গো বা হারানোর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ খুবই নগণ্য ছিল এবং ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি সময়সাপেক্ষ ছিল। এ কারণে ২০১৭ সালে নেপালে প্লেন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা নামমাত্র ক্ষতিপূরণ পান। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ১৯৯৯ সালে মন্ট্রিল কনভেনশন গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ওই কনভেনশনে ১৯৯৯ সালেই স্বাক্ষর করে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ফ্লাইট বিলম্বের কারণে পরিবহনকারীর দায় ২০ ডলারের পরিবর্তে পাঁচ হাজার ৭৩৪ ডলার। ব্যাগেজ বিনষ্ট বা হারানোর জন্য প্রতি কেজিতে ২০ ডলারের পরিবর্তে এক হাজার ৩৮১ ডলার। আর কার্গো বিনষ্ট বা হারানোর জন্য প্রতি কেজিতে ২০ ডলারের পরিবর্তে আইনে হবে ২৪ ডলার।

যাত্রীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে তার সম্পত্তির বৈধ প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিবর্গের মধ্যে এ আইনের বিধানাবলী মোতাবেক ক্ষতিপূরণের অর্থ ভাগ করা যাবে। সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজ পক্ষ বা বিমাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অথবা আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে।

জরিমানা দিয়ে ট্রাভেল এজেন্সি নবায়নের সুযোগ : নির্ধারিত সময়ের পর জরিমানা দিয়ে ট্রাভেল এজেন্সি নবায়নের সুযোগ ও শাখা খোলার বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন-২০১৯’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশের ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩’ প্রণয়ন করা হয়। প্রণীত আইনটিতে বেশ কয়েকটি বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকায় ট্রাভেল এজেন্সির সেবা প্রদান ও বিদ্যমান আইনের বিধানসমূহ বাস্তবায়নকালে ক্ষেত্রবিশেষে নানারকম জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সনদ নবায়নের আবেদন করতে না পারলে ওই এজেন্সির নবায়নের আর সুযোগ থাকে না। মালিকানা হস্তান্তরের বিধান নেই। নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের অর্থদণ্ড প্রদানের ক্ষমতা না থাকায় সামান্য অপরাধের জন্য এজেন্সির নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করতে হচ্ছে। এছাড়া ট্রাভেল এজেন্সির শাখা খোলার বিধান নেই।

এ কারণে বিদ্যমান আইন যুগোপযোগী করাসহ আইনটির কতিপয় ধারা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের ‘পরিবহন’ অর্থ আকাশ, নৌ, সমুদ্র বা সড়ক পথে পরিবহনের স্থলে ‘জলপথ, স্থলপথ, আকাশ পথে পরিবহন’ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন আবেদন করা না হলে বিধি দ্বারা নির্ধারিত জরিমানা দিয়ে নবায়নের আবেদন দাখিল করতে পারবে বলে বিধান রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭৫.২৬ শতাংশ : ২০১৯ সালের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) মন্ত্রিসভায় নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ছিল ৭৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলে তা অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা।

এ প্রসঙ্গে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯টি মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। এতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ৯৭টি। বাস্তবায়ন করা হয়েছে ৭৩টি। ২৪টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এ সময়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭৫ দশমিক ২৬ শতাংশ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×