ধানের শীষের গণজোয়ার দিবাস্বপ্নের মতো: ওবায়দুল কাদের

  যুগান্তর রিপোর্ট ২১ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ধানের শীষের গণজোয়ার দিবাস্বপ্নের মতো। এর কোনো বাস্তবতা নেই।

১ ফেব্রুয়ারি বোঝা যাবে গণজোয়ার কোনদিকে- ধানের শীষের পক্ষে, না নৌকার পক্ষে, সেটা সেদিন প্রমাণ হবে। তিনি বলেন, দিবাস্বপ্ন দেখে তো লাভ নেই। তারা দিবাস্বপ্ন দেখতে পারেন, এ রকম দিবাস্বপ্ন ও গণজোয়ারের কথা জাতীয় নির্বাচনের আগেও তারা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সোমবার দুপুরে সমসাময়িক ইস্যুতে প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ধানের শীষের গণজোয়ার এসেছে- বিএনপির এমন মন্তব্যের সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের।

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, নির্বাচন নিয়ে বিএনপি ছাড়া আর কেউ অভিযোগ করবে না। কারণ বিএনপির এখন রাজনীতিই হচ্ছে অভিযোগ আর নালিশের।

তারা বিরোধী দল হিসেবে দেশের সবচেয়ে ব্যর্থ। তারা রাজপথে আন্দোলন করে বিরোধী দল হিসেবে সফলতা পায়নি। নির্বাচনেও তারা পরাজিত ও ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা নালিশনির্ভর দলে পরিণত হয়েছে। যে কোনো ব্যাপারে অভিযোগ ও নালিশ করা তাদের মজ্জাগত হয়ে গেছে এবং এটি তারা করছে।

ভোট কারচুপির অভিযোগের বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, তারা ভোট কারচুপির কথা ভোট গণনা পর্যন্ত বলতে থাকবে। এটা তাদের পুরনো অভ্যাস। চট্টগ্রাম ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে জিতেই গেছে, তারপরও দেখা গেছে তাদের প্রার্থী রাস্তায় বসে গেছে ভোট কারচুপির প্রতিবাদে। বলে গেছে, ভোটে কারচুপি হয়েছে। অথচ পরে দেখা গেল, তারাই জিতেছে। এসব অভিযোগ থেকে বিএনপিকে নিবৃত করার জন্য তাদের গ্যারান্টি দিতে হবে যে জয়ের মালা তাদেরই।

সেটা নির্বাচন কমিশন যদি আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ হয়, বিএনপির জেতার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বলেই যাবে। বিএনপিকে গ্যারান্টি দিতে হবে নির্বাচনে আপনারা জিতবেন, তাহলে যদি বন্ধ হয় এসব কল্পিত অভিযোগ। মির্জা আব্বাস সকালে বলছেন, কারচুপি হলে সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দেবেন- এর জবাবে কাদের বলেন, মির্জা আব্বাসের মনে যে কী আছে, তা আমরা কি কেউ জানি?

সিটি নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে কি না তা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার নিজেরই তো অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির সেক্রেটারি জেনারেল আজ প্রচারণা চালাচ্ছেন, আমি আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি পারছি না। নিজের ক্ষেত্রে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আমি সেক্রেটারি জেনারেল, আরেকটা পার্টির সেক্রেটারি জেনারেল ক্যাম্পেইন করবে, আমার প্রধান প্রতিপক্ষ দলের, অথচ আমি ক্যাম্পেইন করতে পারছি না, ভোট চাওয়ার কোনো ক্যাম্পেইনেও অংশ নিতে পারছি না।

আমি আমাদের নির্বাচনী অফিসগুলোয় পর্যন্ত যাইনি। আমি নিয়ম মেনে চলছি। দলীয় প্রার্থীদের জন্য ভোটের প্রচারে অংশ নিতে না পারায় হতাশা জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমার তো একটু কষ্ট আছে। আমি যেতে পারছি না। যতক্ষণ নিয়ম আছে মেনে চলব। পরেরটা পরে দেখা যাবে।

স্থানীয় নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিদের প্রচারে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরিতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করা হবে কি না- এ প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, সংসদের কথাটা বলতে গেলে নানা কথা আসে, পৃথিবীর কোনো উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিরা ক্যাম্পেইন করতে পারে না- এ রকম বিধান নেই। আমাদের এখানে এটা কেন হল, তা তো জানি না।

তারা এটা কেনই বা রাখছেন, তা-ও জানি না। তবে নির্বাচনের আগে আরপিও সংশোধনের দাবি তুলবেন না বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রথম আলো ইস্যুতে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আদালতের বিষয়। আমরা এই ইস্যুতে কিছু বলতে চাই না। আদালত যদি জামিন দেয় দেবে। জামিন দেয়ার এখতিয়ার আদালতের। বিচার বিভাগ স্বাধীন কর্তৃত্বপূর্ণ। তাদের যে ক্ষমতা রয়েছে, সেখানে আমাদের সরকার বা দলের কিছু বলার নেই।

গ্রেফতারি পরোয়ানা বাস্তবায়নের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কি না- জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী বলেন, গ্রেফতারি পারোয়ানা আদালত থেকে দিয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। যা হবে আদালতে হবে। জামিন দিলেও আদালত দেবে, মুক্তি দিলেও আদালত দেবে।

সরকারের এখানে ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোনো ব্যাপার নেই। আমরা কেন এখানে জড়াতে যাব? সরকারের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্বের কিছু নেই। একটা ঘটনা ঘটেছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে। তার ভিত্তিতে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। তারা আবার জামিন নিয়েছে। এটা সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে দুই লেনের সড়কগুলোর উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত