ইভিএমে ৫০ শতাংশের কম হলে ব্যালটে পুনরায় ভোট হওয়া উচিত: ইসি

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইসি মাহবুব তালুকদার
ইসি মাহবুব তালুকদার। ফাইল ছবি

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) যদি ৫০ শতাংশ ভোট না পড়ে, তাহলে ব্যালট পেপারে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা উচিত। এজন্য নির্বাচনী বিধি-বিধান পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে। তিনি বলেন, যে কোনো নির্বাচনে শতকরা ৫০ ভাগ ভোট না পড়লে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এজন্য বিশ্বের অনেক দেশে ৫০ শতাংশের কম ভোট পড়লে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হয়।

বুধবার নির্বাচন ভবনে আয়োজিত ঢাকার দুই সিটি ভোটের আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত বৈঠকে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। তার পরপরই সিইসি বক্তব্য রাখলেও তিনি এসব অভিযোগের কোনো জবাব দেননি। তবে বলেছেন, কোন ফোরামে কোন বক্তব্য দেয়া উচিত- এ বিবেচনা বোধ সবার থাকা উচিত।

মাহবুব তালুকদার বলেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে সব কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। এতে ২২ দশমিক ৯৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ইভিএমবিহীন ব্যালট পেপারে যে ২৯৪টি আসনে ভোট হয়েছে, ভোটের হার যেখানে ছিল শতকরা ৮০ ভাগ, সেখানে ইভিএম ব্যবহারে ২৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ কম ভোট পড়েছে। এর কারণ ভোটারদের মনে আছে ইভিএম ভীতি।

অন্যদিকে ইভিএমে জাল ভোট প্রদান প্রতিহত করা এক বিরাট সমস্যা। বুথ দখল করে বা গোপন কক্ষে গিয়ে জাল ভোট প্রদানের ঘটনা অবশ্যই প্রতিহত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য নির্বাচন কর্মকর্তাদের সম্মিলিতভাবে গোপন কক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আবশ্যক। বর্তমান সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার কমিশনের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা।

নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি বৃদ্ধিও একান্ত অপরিহার্য। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে এ যন্ত্রটির ভবিষ্যৎ। এ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার প্রশ্নবিদ্ধ হলে শুধু নির্বাচন নয়, ইভিএম যন্ত্রটির ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতভেদ আছে উল্লেখ করে মাহবুব তালুকদার বলেন, আগে বিরোধিতা করলেও দুটি কারণে আমি ইভিএমের পক্ষে। যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, এতে ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপারে বাক্স ভর্তি করার সংস্কৃতির অবসান ঘটতে পারে এবং একশ’ ভাগ ভোট পড়ার অভিজ্ঞতারও অবসান হবে। সংসদের ১০৩টি আসনের ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে।

বিশ্বের কোনো নির্বাচনেই এ ধরনের ভোটার উপস্থিতির নজির নেই। রাতে ব্যালট পেপারে বাক্স ভর্তি ও কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়ার অপবাদ থেকে কমিশন মুক্ত হতে চায়। ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকার এ নির্বাচনকে ঘিরে রাজধানীবাসীর উৎসুক্য ও উদ্বেগ অন্তহীন। নির্বাচন নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান প্রক্রিয়া থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার। তবে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থে সংস্কার করতে চায়, জনগণের স্বার্থে নয়। দলীয় স্বার্থে সংস্কার কার্যক্রম কখনও সচল কখনও অচল করে রাখা হয়।

বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা ছাড়া দুই সিটির ভোটের বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি আশাবাদী উল্লেখ করে বলেন, বিগত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে এসবের কিছুই দৃশ্যমান ছিল না। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে নির্বাচন কমিশনের অধীন, তা দৃশ্যমান নয়। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট পুলিশ আইনানুগভাবে কমিশনের কাছে ন্যস্ত, কিন্তু মানসিকভাবে নয়। সেটা না হলে কোনো ফল হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতি উৎসাহী সদস্যদের আইন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে বা প্রয়োজনে নিষ্ক্রিয় থাকতে দেখা যায়।

দুই সিটি নির্বাচনে এ ধরনের ঘটনা থেকে বিরত থাকার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি একান্ত জরুরি। তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর ওয়ারেন্ট ছাড়া কিংবা নতুন ওয়ারেন্ট বা আগের ওয়ারেন্ট দিয়ে গ্রেফতার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের বরখেলাপ। জরুরি ক্ষেত্রবিশেষ ছাড়া গ্রেফতার কার্যক্রম নির্বাচনের পরে হলে অসুবিধা কি? অনেক সময় এসব গ্রেফতারে কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার পূর্বশর্ত। নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে এ দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়।

এজন্য সরকার, সরকারি দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হলে তার দায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর পড়বে। আর তারা প্রশ্নবিদ্ধ হলে তার দায় কমিশনের ওপর বর্তাবে। প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করে কলঙ্কিত হতে চাই না। ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পুলিশ নিরপেক্ষ না থাকলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।

নির্বাচনে কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এক ও অভিন্ন সত্তা। তাই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত করে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থার সংকটও কাটাতে হবে। রেফারির ওপর আস্থা না থাকলে খেলার জয়-পরাজয় কোনো দলের কারও জন্যই সুখকর হবে না।

তিনি বলেন, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন হচ্ছে মুজিববর্ষে। এ নির্বাচন সুন্দর, সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত করার মাধ্যমে জাতির জনকের প্রতি সর্বোত্তম উপায়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন-২০২০

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×