করোনাভাইরাস: সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

লক্ষ্মীপুর ও বগুড়ায় হচ্ছে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় * অনুমোদন ছাড়া শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র নয়

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাস কোনোভাবেই যেন বাংলাদেশে আসতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বৈঠকে ‘শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইন, ২০২০’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়া ও লক্ষ্মীপুরে একটি করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সংক্রান্ত আইনে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাস নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- আরও সতর্ক থাকতে হবে, খেয়াল রাখতে হবে। চীন হয়ে যারা আসছেন, তাদেরও বিশেষভাকে দেখাশোনা করতে হবে। সবাইকে কেয়ারফুল থাকতে হবে।

বিশেষ করে এয়ারপোর্ট এবং পোর্টে স্পেশাল কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে আমাদের মধ্যে বিস্তার না ঘটতে পারে। ওই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সারা দেশের সরকারি হাসপাতালে অনতিবিলম্বে আইসোলেশন ইউনিট খোলার নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের মধ্যাঞ্চলের উহান শহরে প্রথমবারের মতো প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে।

ইতিমধ্যে বিশ্বের এক ডজনের বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনা কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে ৮০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আরও দুই হাজার ৭৪৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইন, ২০২০’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। নিবন্ধন না করে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। সনদ প্রদর্শন না করা পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা গুনতে হবে।

এ ছাড়া শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে বাধা দিলে ৫০ হাজার টাকা এবং দিবাযত্ন কেন্দ্রে শিশুর নিরাপত্তা ঘাটতি থাকলে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের নিবন্ধন পরিদফতর থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। তিন বছরের জন্য নিবন্ধন দেয়া হবে।

আইনটির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, শিশুদের পরিচর্যার জন্য বিশ্বস্ত সহায়ক সেবাযত্ন কেন্দ্রের অভাব পরিলক্ষিত হওয়ায় এ আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। যেহেতু এখন যৌথ পরিবার প্রথাটা একটু কমে আসছে এবং নারীরা বেশি বেশি করে কাজে ইনভলভ হয়ে যাচ্ছেন সে জন্য তাদের ছোট বাচ্চাদের দেখাশোনা করার জন্য শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।

চার ধরনের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হল : সরকারি ভর্তুকিপ্রাপ্ত; সরকার অথবা সরকারি কোনো দফতর, অধিদফতর, পরিদফতর, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা অথবা কোনো স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা কর্তৃক বিনা মূল্যে পরিচালিত; ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা বা সংঘ বা সমিতি বা কর্পোরেট সেক্টর বা শিল্পখাত কর্তৃক অলাভজনক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের সেবা, পুষ্টি, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, চিকিৎসা, সুরক্ষা, বিনোদন, শিক্ষা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বা অনুরূপ বিষয়গুলোর নির্ধারিত মান বিধি দিয়ে নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর জন্য আলাদা জায়গা রাখতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্যও দিবাযত্ন কেন্দ্রে বিশেষ অবকাঠামো সুবিধা রাখতে হবে।

লক্ষ্মীপুর ও বগুড়ায় একটি করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাবে সায় দিয়েছে সরকার। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত সম্মতির পরিপ্রেক্ষিতে লক্ষ্মীপুর জেলায় লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বগুড়া জেলায় বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য দুটি আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়।

উভয় আইনে ৫৫টি ধারা রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আচার্য, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, অর্থ কমিটিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আইনে বিস্তারিতভাবে বলা আছে। উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া আইনে ২১টি অনুচ্ছেদ সংবলিত প্রথম সংবিধির খসড়াও যুক্ত করা হয়েছে।

বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ র‌্যালি : বগুড়া ব্যুরো জানায়, বগুড়ায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে বগুড়ায় আনন্দ র‌্যালি ও সমাবেশ হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে র‌্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

র‌্যালি শেষে শহরের টেম্পল রোডের দলীয় কার্যালয়ের সামনে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাজেদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ডাবলুর সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে টি জামান নিকেতা, মঞ্জুরুল আলম মোহন, আসাদুর রহমান দুলু, সুলতান মাহমুদ খান রনি, তপন চক্রবর্তী, মাফুজুল ইসলাম রাজ, আবদুস সালাম, সামছুদ্দিন শেখ হেলাল, শুভাশীষ পোদ্দার লিটন, আলমগীর বাদশা, নাইমুর রাজ্জাক তিতাস, মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, অসীম কুমার রায়, ডালিয়া নাসরিন রিক্তা প্রমুখ বক্তব্য দেন।