বন্ড সুবিধার অপব্যবহারকারীদের তালিকা করুন
jugantor
চট্টগ্রামে কাস্টমস দিবসের সেমিনারে এমপি লতিফ
বন্ড সুবিধার অপব্যবহারকারীদের তালিকা করুন
‘সার্ভার ও লোকবল সমস্যা আর মেনে নেয়া যায় না’

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২৮ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বন্ড

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারকারীদের তালিকা প্রকাশ করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য এমএ লতিফ।

রোববার রাতে আন্তর্জাতিক কাস্টম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অডিটোরিয়ামে সেমিনারের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উদযাপন আঞ্চলিক কমিটি।

এমএ লতিফ তার বক্তব্যে বলেন, ‘কাস্টমস বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের কারণে দেশের তৈরি পোশাক ও ফেব্রিক্স শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বন্ডের নামে অনেকে দেশের মানুষের সম্পদ লুট করছে। শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাপড় এনে খোলাবাজারে বিক্রি করায় সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি তৈরি পোশাক শিল্পের সৎ মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দেশে ফেব্রিক্স শিল্প গড়ে উঠছে না। কারণ বন্ড থেকে এ ধরনের পণ্য বাজারে চলে যাচ্ছে। আমি এনবিআর চেয়ারম্যানের প্রতি অনুরোধ জানাই, বন্ডের অপব্যবহার যারা করছে, তাদের তালিকা যেন প্রকাশ করা হয়। বন্দর-কাস্টমস দেশের ১৬ কোটি মানুষের। মুষ্টিমেয় কিছু লোক সুবিধা নেবে, এটা হতে দেয়া যাবে না। দেশে আমদানি ও রফতানিকারক বাড়ুক, এটা আমরা সবাই চাই। কিন্তু অসাধুদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই।’

কাস্টমসের সার্ভার সমস্যা এবং লোকবল সংকট মেনে নেয়া যায় না উল্লেখ করে এমএ লতিফ বলেন, এটা সরকার ও এনবিআরের জন্য লজ্জার বিষয়। আমি ২৫ বছর ধরে শুনছি কাস্টমসে প্রয়োজনীয় লোকবল নেই। সরকার এখন আর গরিব নয়। সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় লোকবল দ্বিগুণ করেছে। বেতন বাড়িয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেখানে ২০-২৫ জন লোক থাকে, সেখানে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ল্যাবে কেন ৩-৪ জন লোক থাকবে? লোকবল বাড়াতে সমস্যা কোথায়, তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। সার্ভার সমস্যা সমাধান করতে হবে। আমদানি-রফতানিকারকদের জন্য বিকল্প সার্ভার সব সময় প্রস্তুত রাখতে হবে। ঘরে ইন্টারনেট সমস্যা হলে আমরা বিরক্ত হই। কাস্টমস একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। সেখানে এ ধরনের সমস্যা হলে অর্থনীতির বিরাট ক্ষতি হয়, এটা মাথায় রাখতে হবে।

কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট চট্টগ্রামের কমিশনার এনামুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনবিআর সদস্য (মূসক নিরীক্ষা ও গোয়েন্দা) মাসুদ সাদিক, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, মেট্রোপলিটন চেম্বার সভাপতি খলিলুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার ফখরুল আলম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার আকবর হোসেন। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন চট্টগ্রাম সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপিত একেএম আকতার হোসেন, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুল ইসলাম মিজান, বিজিএমইএ’র সহসভাপতি এএম চৌধুরী সেলিম প্রমুখ। এনবিআর সদস্য মাসুদ সাদিক বলেন, কাস্টমসকে আরও ভালো সেবা দিতে হবে। পণ্যের শুল্কায়নে সময় কম লাগাতে হবে এবং একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরকারের পাওনা আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে। কাস্টমসের কাজের ধারা উন্নত করতে হবে। আর এটা করতে হলে অটোমেশনের বিকল্প নেই। কাস্টমসকে আধুনিক করতে অটোমেশনে যেতে হবে। তবে শুধু কাস্টমসকে একা অটোমেশন করলে হবে না, বন্দরসহ আমদানি-রফতানি সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে একযোগে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। কাস্টমস ও স্টেকহোল্ডার প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে স্বচ্ছতা বজায় রাখলে হয়রানি কমে যাবে।

চট্টগ্রামে কাস্টমস দিবসের সেমিনারে এমপি লতিফ

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারকারীদের তালিকা করুন

‘সার্ভার ও লোকবল সমস্যা আর মেনে নেয়া যায় না’
 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বন্ড
বন্ড। ছবি: সংগৃহীত

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারকারীদের তালিকা প্রকাশ করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য এমএ লতিফ।

রোববার রাতে আন্তর্জাতিক কাস্টম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অডিটোরিয়ামে সেমিনারের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উদযাপন আঞ্চলিক কমিটি।

এমএ লতিফ তার বক্তব্যে বলেন, ‘কাস্টমস বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের কারণে দেশের তৈরি পোশাক ও ফেব্রিক্স শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বন্ডের নামে অনেকে দেশের মানুষের সম্পদ লুট করছে। শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাপড় এনে খোলাবাজারে বিক্রি করায় সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি তৈরি পোশাক শিল্পের সৎ মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দেশে ফেব্রিক্স শিল্প গড়ে উঠছে না। কারণ বন্ড থেকে এ ধরনের পণ্য বাজারে চলে যাচ্ছে। আমি এনবিআর চেয়ারম্যানের প্রতি অনুরোধ জানাই, বন্ডের অপব্যবহার যারা করছে, তাদের তালিকা যেন প্রকাশ করা হয়। বন্দর-কাস্টমস দেশের ১৬ কোটি মানুষের। মুষ্টিমেয় কিছু লোক সুবিধা নেবে, এটা হতে দেয়া যাবে না। দেশে আমদানি ও রফতানিকারক বাড়ুক, এটা আমরা সবাই চাই। কিন্তু অসাধুদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই।’

কাস্টমসের সার্ভার সমস্যা এবং লোকবল সংকট মেনে নেয়া যায় না উল্লেখ করে এমএ লতিফ বলেন, এটা সরকার ও এনবিআরের জন্য লজ্জার বিষয়। আমি ২৫ বছর ধরে শুনছি কাস্টমসে প্রয়োজনীয় লোকবল নেই। সরকার এখন আর গরিব নয়। সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় লোকবল দ্বিগুণ করেছে। বেতন বাড়িয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেখানে ২০-২৫ জন লোক থাকে, সেখানে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ল্যাবে কেন ৩-৪ জন লোক থাকবে? লোকবল বাড়াতে সমস্যা কোথায়, তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। সার্ভার সমস্যা সমাধান করতে হবে। আমদানি-রফতানিকারকদের জন্য বিকল্প সার্ভার সব সময় প্রস্তুত রাখতে হবে। ঘরে ইন্টারনেট সমস্যা হলে আমরা বিরক্ত হই। কাস্টমস একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। সেখানে এ ধরনের সমস্যা হলে অর্থনীতির বিরাট ক্ষতি হয়, এটা মাথায় রাখতে হবে।

কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট চট্টগ্রামের কমিশনার এনামুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনবিআর সদস্য (মূসক নিরীক্ষা ও গোয়েন্দা) মাসুদ সাদিক, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, মেট্রোপলিটন চেম্বার সভাপতি খলিলুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার ফখরুল আলম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার আকবর হোসেন। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন চট্টগ্রাম সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপিত একেএম আকতার হোসেন, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুল ইসলাম মিজান, বিজিএমইএ’র সহসভাপতি এএম চৌধুরী সেলিম প্রমুখ। এনবিআর সদস্য মাসুদ সাদিক বলেন, কাস্টমসকে আরও ভালো সেবা দিতে হবে। পণ্যের শুল্কায়নে সময় কম লাগাতে হবে এবং একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরকারের পাওনা আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে। কাস্টমসের কাজের ধারা উন্নত করতে হবে। আর এটা করতে হলে অটোমেশনের বিকল্প নেই। কাস্টমসকে আধুনিক করতে অটোমেশনে যেতে হবে। তবে শুধু কাস্টমসকে একা অটোমেশন করলে হবে না, বন্দরসহ আমদানি-রফতানি সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে একযোগে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। কাস্টমস ও স্টেকহোল্ডার প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে স্বচ্ছতা বজায় রাখলে হয়রানি কমে যাবে।