চট্টগ্রাম বন্দরে আরও সিসি ক্যামেরা বসছে

নিরাপত্তার আওতায় ৬৩ শতাংশ এলাকা

  মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় আরও ২০৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। এসব ক্যামেরা লাগানো হলে বন্দরের প্রায় ৬৩ শতাংশ এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আসবে।

এতে পণ্য চুরিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে বন্দরে ৩০৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে।

দেশের প্রধান এ সমুদ্র বন্দরের সংরক্ষিত এলাকা পুরোপুরি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে কয়েক বছর ধরে কাজও করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০০৭ সালে ১২৮টি ক্যামেরা লাগানো হয়। এরপর আরও কয়েক দফায় ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি নতুন করে ২০৮টি ক্যামেরা স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রকল্পটির ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়। ঠিকাদার এরইমধ্যে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে।

জানতে চাইলে বন্দরের পরিচালক (নিরাপত্তা) লে. কর্নেল আহমেদ জুনাইদ আলম খান যুগান্তরকে বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাই ও ডিজাইন শেষ হয়েছে। কোথায় কোথায় ক্যামেরা বসবে সেসব স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। অপটিক্যাল ক্যাবল ও ক্যামেরা লাগানোর খুঁটি স্থাপন করতে হবে। এরপর ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হবে। এপ্রিলের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় ২০৮টি ক্যামেরা লাগানোর পরও বন্দরের সংরক্ষিত এলাকার শতভাগ ক্যামেরার আওতায় আসবে না। আরও কিছু এলাকা এর বাইরে থেকে যাবে। তবে স্পর্শকাতর প্রায় সব এলাকা ক্যামেরার আওতায় চলে আসবে। বন্দরের বেশিরভাগ এলাকাই রাতের বেলা আলোকিত থাকে।

তাই এসব ক্যামেরা রাতেও কাজ করবে। বর্তমানে যেসব স্থানে দু’টি বা তিনটি ক্যামেরা রয়েছে সেখানে চারটি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। যাতে কোনো দিকের ভিডিও ফুটেজ বাদ না যায়। আবার কিছু নতুন এলাকায়ও ক্যামেরা বসানো হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পণ্য আনা-নেয়ার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় প্রতিদিন প্রায় সাত হাজার ট্রাক-কাভার্ডভ্যান প্রবেশ করে। একটি ট্রাকে একজন চালক ও একজন সহকারী হিসেবে ধরলেও প্রতিদিন প্রায় ১৪ হাজার পরিবহন শ্রমিক যাতায়াত করে। এর বাইরে জাহাজে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরাও রয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ১৫-১৬ হাজার মানুষ বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করেন।

এত অধিক সংখ্যক যানবাহন ও লোকজনের যাতায়াতকে বন্দরের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের ভেতর থেকে আমদানি করা মোটরগাড়ির যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য পণ্য চুরি এক সময় ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। গোটা কনটেইনার হাওয়া হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে সম্প্রতি চুরির ঘটনা কমলেও এখনও মাঝেমধ্যে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য আমদানি করা কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য চুরির অভিযোগ ওঠে।

বন্দরে দু’ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। একটি হল পোর্ট অ্যাক্টের আওতায় আর অন্যটি হল আইএসপিএস (ইন্টারন্যাশনাল শিপ অ্যান্ড পোর্ট ফ্যাসিলিটি সিকিউরিটি) কোড। আইএসপিএস কোড অনুযায়ী বন্দরে সিসিটিভি ক্যামেরা বাড়ানোর শর্ত রয়েছে। এছাড়া ক্যামেরার আওতা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

এরই অংশ হিসেবে ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে ২০১৪ সালে একটি সমীক্ষা চালানো হয়। বন্দরকে শতভাগ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনতে ৮০০ ক্যামেরার প্রয়োজন হবে বলে ওই সমীক্ষায় বলা হয়। মূলত এরপরই শতভাগ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। অবশ্য শতভাগ এলাকা ক্যামেরার আওতায় আনতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।

লে. কর্নেল আহমেদ জুনাইদ আলম খান বলেন, ২০৮টি ক্যামেরা স্থাপন করলে বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ক্যামেরার সংখ্যা ৫০০টির কিছু বেশি হবে। যেসব এলাকা ক্যামেরার আওতার বাইরে থাকবে সেসব এলাকায় পরবর্তী ধাপে আরও ক্যামেরা লাগানো হবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত