কম শর্ত আরোপের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
jugantor
কম শর্ত আরোপের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  বাসস  

৩০ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি একে আরও টেকসই করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন।

এ ব্যাপারে বেশি শর্তারোপ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের আরও উন্নয়নে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। আশা করি, আমাদের উন্নয়ন সহযোগীরাও আমাদের খুব বেশি শর্ত না দিয়ে এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবেন। যাতে আমাদের অগ্রযাত্রা আরও ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারি।

বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম (বিডিএফ)-২০২০’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যে কাজগুলো শুরু করেছি সেগুলো আমরা টেকসই (সাসটেইনেবল) করতে চাই। আর সেটা করতে গেলে আর্থিক সংগতি দরকার। আর সেক্ষেত্রে আমি মনে করি, আমাদের যারা উন্নয়ন সহযোগী আছেন, তারাও এগিয়ে আসবেন। সহযোগিতা করবেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, একটা বিষয়ে কেউ যখন সফল হন, সেখানে সাহায্য করতে তো অন্য কারও দ্বিধা থাকে না। বরং আগ্রহ আরও বেশি হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) দুই দিনব্যাপী বিডিএফ সভার আয়োজন করে। যেখানে সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার খসড়ার পাশাপাশি উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকার খাতগুলো তুলে ধরা হবে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৈঠকের উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন।

বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ সেফার, জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জুনিচি ইয়ামাদা এবং এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট শিক্সিন চেন বক্তৃতা করেন। ইউএন রেসিডেন্ট কোঅর্ডিনেটর এবং লোকাল কনসালটেটিভ গ্র“পের কো-চেয়ার মিয়া সেপোও বক্তৃতা করেন।

ইআরডি সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি), জাইকা, ইউএসএইড, ইউকে এইড, ভারত, চীনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।

এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। ২০১০ সাল থেকে বিডিএফ’র সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার চতুর্থবারের মতো এ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, দেশকে গড়ে তোলার জন্য যেমন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন, তেমনি অঙ্গীকার ও পরিকল্পনা থাকা দরকার। তিনি বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের পরিকল্পনা থাকে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার। আর আমরা সে কাজটাই করছি। বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্র নিয়ে আলোচনা করায় আলোচকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। ভবিষ্যতের দিকে আরও এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা যে লক্ষ্য স্থির করেছি তাতে একজন মানুষও গৃহহারা থাকবে না, কেউ না খেয়ে কষ্ট পাবে না, বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না, নিরক্ষর থাকবে না, প্রতিটি মানুষ সুন্দর জীবন পাবে। ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের জন্য বাংলাদেশ দায়ী নয় কিন্তু সবচেয়ে নির্মম শিকার’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এ অবস্থার জন্য দায়ী তাদের সব থেকে বেশি অবদান রাখা দরকার।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য আমরা ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ প্রণয়ন করে সেটা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবেলায় আমরা নিজস্ব অর্থায়নে ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছি। নিজেদের টাকা দিয়ে এ ফান্ড গড়েছি। অবশ্য এতে সামান্য কিছু সহযোগিতা আমরা পেয়ে থাকি।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, উন্নত দেশগুলো এবং আমাদের উন্নয়ন সহযোগীদের আরও এগিয়ে আসা দরকার। আরও সহযোগিতা দরকার। ছোট ছোট দ্বীপরাষ্ট্র যেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সেগুলোকে সবার সহযোগিতা করা দরকার। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা এবং নদী থেকে ভূমি পুনরুদ্ধারে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা এবং গৃহীত পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগের ক্ষেত্রে মানুষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য সব নদী ড্রেজিং করে নাব্য বাড়াতে হবে। এতে বন্যার হাত থেকে দেশের মানুষ রক্ষা পাবে। এজন্য আমাদের সহযোগিতা দরকার।

‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্প চালু, ‘কর্মসংস্থান ব্যাংক’ থেকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে বিনা জামানতে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান এবং বিদেশে গমনেচ্ছুদের জন্য ‘প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা, গৃহহীনদের ঘরবাড়ি তৈরিতে ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’ বাস্তবায়নে সরকারের পদক্ষেপের কথা প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘরবাড়ি তৈরির জন্য ১০০ কোটি টাকা বাজেট রয়েছে। গৃহহীনদের খুঁজে খুঁজে তা দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সব থেকে বড় কথা হলো দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে। জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করে গেছেন এবং তার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ আরা গড়ে তুলব। আমরা সেই কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।

কম শর্ত আরোপের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

 বাসস 
৩০ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি একে আরও টেকসই করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন।

এ ব্যাপারে বেশি শর্তারোপ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের আরও উন্নয়নে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। আশা করি, আমাদের উন্নয়ন সহযোগীরাও আমাদের খুব বেশি শর্ত না দিয়ে এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবেন। যাতে আমাদের অগ্রযাত্রা আরও ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারি।

বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম (বিডিএফ)-২০২০’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যে কাজগুলো শুরু করেছি সেগুলো আমরা টেকসই (সাসটেইনেবল) করতে চাই। আর সেটা করতে গেলে আর্থিক সংগতি দরকার। আর সেক্ষেত্রে আমি মনে করি, আমাদের যারা উন্নয়ন সহযোগী আছেন, তারাও এগিয়ে আসবেন। সহযোগিতা করবেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, একটা বিষয়ে কেউ যখন সফল হন, সেখানে সাহায্য করতে তো অন্য কারও দ্বিধা থাকে না। বরং আগ্রহ আরও বেশি হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) দুই দিনব্যাপী বিডিএফ সভার আয়োজন করে। যেখানে সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার খসড়ার পাশাপাশি উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকার খাতগুলো তুলে ধরা হবে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৈঠকের উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন।

বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ সেফার, জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জুনিচি ইয়ামাদা এবং এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট শিক্সিন চেন বক্তৃতা করেন। ইউএন রেসিডেন্ট কোঅর্ডিনেটর এবং লোকাল কনসালটেটিভ গ্র“পের কো-চেয়ার মিয়া সেপোও বক্তৃতা করেন।

ইআরডি সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি), জাইকা, ইউএসএইড, ইউকে এইড, ভারত, চীনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।

এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। ২০১০ সাল থেকে বিডিএফ’র সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার চতুর্থবারের মতো এ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, দেশকে গড়ে তোলার জন্য যেমন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন, তেমনি অঙ্গীকার ও পরিকল্পনা থাকা দরকার। তিনি বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের পরিকল্পনা থাকে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার। আর আমরা সে কাজটাই করছি। বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্র নিয়ে আলোচনা করায় আলোচকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। ভবিষ্যতের দিকে আরও এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা যে লক্ষ্য স্থির করেছি তাতে একজন মানুষও গৃহহারা থাকবে না, কেউ না খেয়ে কষ্ট পাবে না, বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না, নিরক্ষর থাকবে না, প্রতিটি মানুষ সুন্দর জীবন পাবে। ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের জন্য বাংলাদেশ দায়ী নয় কিন্তু সবচেয়ে নির্মম শিকার’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এ অবস্থার জন্য দায়ী তাদের সব থেকে বেশি অবদান রাখা দরকার।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য আমরা ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ প্রণয়ন করে সেটা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবেলায় আমরা নিজস্ব অর্থায়নে ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছি। নিজেদের টাকা দিয়ে এ ফান্ড গড়েছি। অবশ্য এতে সামান্য কিছু সহযোগিতা আমরা পেয়ে থাকি।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, উন্নত দেশগুলো এবং আমাদের উন্নয়ন সহযোগীদের আরও এগিয়ে আসা দরকার। আরও সহযোগিতা দরকার। ছোট ছোট দ্বীপরাষ্ট্র যেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সেগুলোকে সবার সহযোগিতা করা দরকার। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা এবং নদী থেকে ভূমি পুনরুদ্ধারে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা এবং গৃহীত পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগের ক্ষেত্রে মানুষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য সব নদী ড্রেজিং করে নাব্য বাড়াতে হবে। এতে বন্যার হাত থেকে দেশের মানুষ রক্ষা পাবে। এজন্য আমাদের সহযোগিতা দরকার।

‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্প চালু, ‘কর্মসংস্থান ব্যাংক’ থেকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে বিনা জামানতে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান এবং বিদেশে গমনেচ্ছুদের জন্য ‘প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা, গৃহহীনদের ঘরবাড়ি তৈরিতে ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’ বাস্তবায়নে সরকারের পদক্ষেপের কথা প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘরবাড়ি তৈরির জন্য ১০০ কোটি টাকা বাজেট রয়েছে। গৃহহীনদের খুঁজে খুঁজে তা দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সব থেকে বড় কথা হলো দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে। জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করে গেছেন এবং তার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ আরা গড়ে তুলব। আমরা সেই কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।