কূটনীতিকরা যেন বাড়াবাড়ি না করে: এইচটি ইমাম
jugantor
ইসিতে আ’লীগের প্রতিনিধি দল
কূটনীতিকরা যেন বাড়াবাড়ি না করে: এইচটি ইমাম

  যুগান্তর রিপোর্ট  

৩১ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইসির সঙ্গে বৈঠকে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা যেন আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট পর্যবেক্ষণ করেন, তা মনিটরিং করতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

বিশেষ কোনো দেশ যেন মাতব্বরি না করে, তা মনিটরিং করতেও অনুরোধ জানিয়েছে দলটি। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম এসব কথা বলেন। নির্বাচনের পরিবেশ ভালো আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এইচটি ইমামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্য কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের বিষয়ে এইচটি ইমাম বলেন, দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষকরা যেন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় নিয়মকানুন মেনে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন, এ বিষয়ে কথা হয়েছে। বিশেষ বিশেষ কোনো দেশের কূটনীতিকরা যেন মাতব্বরি না করেন। আমরা চাই, তারা যেন সুষ্ঠুভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। ইসির নির্ধারিত নিয়মকানুন, সংবিধান ও আন্তর্জাতিক কোড অব কন্ডাক্ট মেনে চলুক। তবে তিনি কোনো দেশের বা কূটনীতিকের নাম উল্লেখ করেননি।

এইচটি ইমাম বলেন, গতবারের নির্বাচনে একটি দূতাবাসের কর্মকর্তা অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য দিয়েছিলেন। এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে। আমরা কূটনীতিকদের অনেক আদর-আপ্যায়ন করি। তার মানে এই নয় যে, যে কেউ সুযোগ নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে।

বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশে পর্যবেক্ষণে গেলে কূটনীতিকদের ওপর বিধিনিষেধ থাকে, অনেক নিয়ম মানতে হয়। আমাদের দেশে অনেক সময় কূটনীতিকরা অনেক কথা বলে ফেলেন, যা সার্বভৌমত্বের ওপর কটাক্ষ করার মতো মনে হয়। আজকের বাংলাদেশ আগেরকার বাংলাদেশ নেই। আজকের বাংলাদেশে গণতন্ত্র সুসংহত। আজকের বাংলাদেশ উন্নত বাংলাদেশ।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদেশি দূতাবাসের কূটনীতিকদের জন্য যে নিয়মকানুন আছে, তা ওই দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য নয়। কারণ তারা বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের জন্য বিদ্যমান আইন যেন মানা হয়। তারা যেন মনে না করেন, তারাই অনেক কিছু করতে পারবেন।

নির্বাচনে বিএনপির ভূমিকা প্রসঙ্গে এইচটি ইমাম বলেন, বিএনপির বিষয়ে দুটো কথা আগেও বলেছি, এখনও বলছি। প্রথমত, এই সরকারের আমলে এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন ভালো হবে না-এই প্রচার চালাবে। দ্বিতীয়ত, তারা যতভাবে পারে নির্বাচন কমিশনকে হেয় করছে। সেগুলো নির্বাচন কমিশনকে বলেছি।

তিনি বলেন, আমাদের তথ্য আছে, ২০১৪ ও ১৫ সালে অগ্নিসন্ত্রাসের হোতারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঢাকায় আশ্রয় নিয়েছে। তাদের ওপর কড়া নজর রাখতে হবে। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। কোনোভাবে যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে। এখন যে সুন্দর পরিস্থিতি আছে, তা বজায় রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে দেখেছি, নির্বাচনে যখনই তারা পরাজয়ের ভাব দেখে তখন বলে, নির্বাচন থেকে সরে যাই, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। আর তা না হলে বলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে। তাদেরকে এ ধরনের সুযোগ দেয়া ঠিক হবে না।

ছাত্রলীগকে কেন্দ্র পাহারা দিতে আওয়ামী লীগের এক নেতার বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে এইচটি ইমাম বলেন, এ বক্তব্য মোটেও ঠিক না। বরং বিএনপি ভোটকেন্দ্র পাহারার কথা বলেছে। তাদের এই অধিকার কে দিয়েছে? এটা কি আইনসিদ্ধ কাজ? তাহলে কোন অধিকারে তারা এ কথা বলবে।

আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল, প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাম, দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য রিয়াজুল কবির কাওসার প্রমুখ।

ইসিতে আ’লীগের প্রতিনিধি দল

কূটনীতিকরা যেন বাড়াবাড়ি না করে: এইচটি ইমাম

 যুগান্তর রিপোর্ট 
৩১ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ইসির সঙ্গে বৈঠকে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। ছবি: সংগৃহীত
ইসির সঙ্গে বৈঠকে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা যেন আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট পর্যবেক্ষণ করেন, তা মনিটরিং করতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

বিশেষ কোনো দেশ যেন মাতব্বরি না করে, তা মনিটরিং করতেও অনুরোধ জানিয়েছে দলটি। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম এসব কথা বলেন। নির্বাচনের পরিবেশ ভালো আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এইচটি ইমামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্য কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের বিষয়ে এইচটি ইমাম বলেন, দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষকরা যেন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় নিয়মকানুন মেনে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন, এ বিষয়ে কথা হয়েছে। বিশেষ বিশেষ কোনো দেশের কূটনীতিকরা যেন মাতব্বরি না করেন। আমরা চাই, তারা যেন সুষ্ঠুভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। ইসির নির্ধারিত নিয়মকানুন, সংবিধান ও আন্তর্জাতিক কোড অব কন্ডাক্ট মেনে চলুক। তবে তিনি কোনো দেশের বা কূটনীতিকের নাম উল্লেখ করেননি।

এইচটি ইমাম বলেন, গতবারের নির্বাচনে একটি দূতাবাসের কর্মকর্তা অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য দিয়েছিলেন। এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে। আমরা কূটনীতিকদের অনেক আদর-আপ্যায়ন করি। তার মানে এই নয় যে, যে কেউ সুযোগ নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে।

বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশে পর্যবেক্ষণে গেলে কূটনীতিকদের ওপর বিধিনিষেধ থাকে, অনেক নিয়ম মানতে হয়। আমাদের দেশে অনেক সময় কূটনীতিকরা অনেক কথা বলে ফেলেন, যা সার্বভৌমত্বের ওপর কটাক্ষ করার মতো মনে হয়। আজকের বাংলাদেশ আগেরকার বাংলাদেশ নেই। আজকের বাংলাদেশে গণতন্ত্র সুসংহত। আজকের বাংলাদেশ উন্নত বাংলাদেশ।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদেশি দূতাবাসের কূটনীতিকদের জন্য যে নিয়মকানুন আছে, তা ওই দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য নয়। কারণ তারা বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের জন্য বিদ্যমান আইন যেন মানা হয়। তারা যেন মনে না করেন, তারাই অনেক কিছু করতে পারবেন।

নির্বাচনে বিএনপির ভূমিকা প্রসঙ্গে এইচটি ইমাম বলেন, বিএনপির বিষয়ে দুটো কথা আগেও বলেছি, এখনও বলছি। প্রথমত, এই সরকারের আমলে এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন ভালো হবে না-এই প্রচার চালাবে। দ্বিতীয়ত, তারা যতভাবে পারে নির্বাচন কমিশনকে হেয় করছে। সেগুলো নির্বাচন কমিশনকে বলেছি।

তিনি বলেন, আমাদের তথ্য আছে, ২০১৪ ও ১৫ সালে অগ্নিসন্ত্রাসের হোতারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঢাকায় আশ্রয় নিয়েছে। তাদের ওপর কড়া নজর রাখতে হবে। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। কোনোভাবে যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে। এখন যে সুন্দর পরিস্থিতি আছে, তা বজায় রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে দেখেছি, নির্বাচনে যখনই তারা পরাজয়ের ভাব দেখে তখন বলে, নির্বাচন থেকে সরে যাই, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। আর তা না হলে বলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে। তাদেরকে এ ধরনের সুযোগ দেয়া ঠিক হবে না।

ছাত্রলীগকে কেন্দ্র পাহারা দিতে আওয়ামী লীগের এক নেতার বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে এইচটি ইমাম বলেন, এ বক্তব্য মোটেও ঠিক না। বরং বিএনপি ভোটকেন্দ্র পাহারার কথা বলেছে। তাদের এই অধিকার কে দিয়েছে? এটা কি আইনসিদ্ধ কাজ? তাহলে কোন অধিকারে তারা এ কথা বলবে।

আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল, প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাম, দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য রিয়াজুল কবির কাওসার প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন