আ’লীগের ভোট সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করছে ইসি, ইসিতে বিএনপির প্রতিনিধি দল
jugantor
আ’লীগের ভোট সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করছে ইসি, ইসিতে বিএনপির প্রতিনিধি দল
বিএনপি

  যুগান্তর রিপোর্ট  

৩১ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফাইল ছবি

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট সুরক্ষার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন পালন করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধি বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এ অভিযোগ করে।

আমীর খসরু বলেন, সিটি নির্বাচন পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে আওয়ামী লীগ যে কথা বলেছে, এর পেছনে কারণ আছে। নির্বাচন কমিশন সৃষ্টি করা হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের ভোট সুরক্ষার জন্য। কিন্তু আওয়ামী লীগ যাতে তাদের ভোট সুরক্ষা করতে পারে সে দায়িত্ব বৃহৎ আকার পালন করছে নির্বাচন কমিশন। সে কারণে ওনারা বলছেন, পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে আছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনে যেসব আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সমাধানও হয়নি। উল্টো আচরণবিধি আরও বেশি আকারে লঙ্ঘিত হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভা হচ্ছে, যা সরাসরি আচরণবিধির লঙ্ঘন। নির্বাচনের দু’দিন আগে এ ধরনের জনসভা করার কোনো সুযোগ নেই।

নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে বলা হলে তারা বলছেন, এ বিষয়ে তারা অবগত নন। নির্বাচন কমিশন ওয়াচ ডগ হিসেবে জনসভা করার বিষয়টি না জানা দুঃখজনক। ওই জনসভায় দক্ষিণের আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর সমর্থক-কর্মীরা বড় বড় পোস্টার-ব্যানার নিয়ে মিছিল করছে।

আমীর খসরু বলেন, ফুটপাতের ওপর আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের ক্যাম্পের বিষয়ে অভিযোগ জানানো হলে নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হল, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব সরিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটি ক্যাম্পও ভেঙেছে বা সরানো হয়েছে বলে শুনতে পাইনি। এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসারও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, কিন্তু কেউ তা বাস্তবায়ন করছে না। রাস্তা-ফুটপাত দখল করে ক্যাম্প রয়ে গেছে। বড় আকারের পোস্টার নামিয়ে ফেলার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।

তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়েছে, দৃশ্যমান কিছু না হলে কাউকে গ্রেফতার করা হবে না। কিন্তু গ্রেফতার শুরু হয়ে গেছে। গতকাল (বুধবার) রাত থেকে গ্রেফতার চলছে। বিএনপির দুই প্রার্থীর ওপর হামলার বিষয়ে তারা প্রমাণ পাচ্ছে না। যেখানে টেলিভিশনে, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সবাই দেখেছে কীভাবে বিএনপির প্রার্থীদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ একা নির্বাচন করেও কেন্দ্র ও বুথ দখল করেছে। ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগের রাতে, নির্বাচনের দিনও কেন্দ্র দখল করেছে। গোটা দেশ তা দেখেছে। বিভিন্ন মেয়র নির্বাচন, চট্টগ্রামের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের লোকজন কীভাবে কেন্দ্র দখল করেছে সেটা পুরো দেশ দেখেছে। এ বিষয়গুলো তো তাদের মনে কাজ করে।

সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি জয়ী হবে জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, বিজয়ী হব বলেই নির্বাচনে এসেছি। যদি সুষ্ঠু ভোট হয় তাহলে বিএনপি বিশাল ভোটের ব্যবধানে জিতবে। এ জন্যই নির্বাচন ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে।

এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন, সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা অংশগ্রহণ করেছে। এখনো ৪৮ ঘণ্টা সময় আছে। যদি নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো চায় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, তাহলে পরিবর্তন সম্ভব। সদিচ্ছা থাকলে জনগণের ভোট জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার সময় আছে।

বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার প্রমুখ।

আ’লীগের ভোট সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করছে ইসি, ইসিতে বিএনপির প্রতিনিধি দল

বিএনপি
 যুগান্তর রিপোর্ট 
৩১ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফাইল ছবি
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফাইল ছবি

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট সুরক্ষার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন পালন করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধি বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এ অভিযোগ করে।

আমীর খসরু বলেন, সিটি নির্বাচন পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে আওয়ামী লীগ যে কথা বলেছে, এর পেছনে কারণ আছে। নির্বাচন কমিশন সৃষ্টি করা হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের ভোট সুরক্ষার জন্য। কিন্তু আওয়ামী লীগ যাতে তাদের ভোট সুরক্ষা করতে পারে সে দায়িত্ব বৃহৎ আকার পালন করছে নির্বাচন কমিশন। সে কারণে ওনারা বলছেন, পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে আছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনে যেসব আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সমাধানও হয়নি। উল্টো আচরণবিধি আরও বেশি আকারে লঙ্ঘিত হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভা হচ্ছে, যা সরাসরি আচরণবিধির লঙ্ঘন। নির্বাচনের দু’দিন আগে এ ধরনের জনসভা করার কোনো সুযোগ নেই।

নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে বলা হলে তারা বলছেন, এ বিষয়ে তারা অবগত নন। নির্বাচন কমিশন ওয়াচ ডগ হিসেবে জনসভা করার বিষয়টি না জানা দুঃখজনক। ওই জনসভায় দক্ষিণের আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর সমর্থক-কর্মীরা বড় বড় পোস্টার-ব্যানার নিয়ে মিছিল করছে।

আমীর খসরু বলেন, ফুটপাতের ওপর আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের ক্যাম্পের বিষয়ে অভিযোগ জানানো হলে নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হল, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব সরিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটি ক্যাম্পও ভেঙেছে বা সরানো হয়েছে বলে শুনতে পাইনি। এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসারও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, কিন্তু কেউ তা বাস্তবায়ন করছে না। রাস্তা-ফুটপাত দখল করে ক্যাম্প রয়ে গেছে। বড় আকারের পোস্টার নামিয়ে ফেলার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।

তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়েছে, দৃশ্যমান কিছু না হলে কাউকে গ্রেফতার করা হবে না। কিন্তু গ্রেফতার শুরু হয়ে গেছে। গতকাল (বুধবার) রাত থেকে গ্রেফতার চলছে। বিএনপির দুই প্রার্থীর ওপর হামলার বিষয়ে তারা প্রমাণ পাচ্ছে না। যেখানে টেলিভিশনে, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সবাই দেখেছে কীভাবে বিএনপির প্রার্থীদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ একা নির্বাচন করেও কেন্দ্র ও বুথ দখল করেছে। ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগের রাতে, নির্বাচনের দিনও কেন্দ্র দখল করেছে। গোটা দেশ তা দেখেছে। বিভিন্ন মেয়র নির্বাচন, চট্টগ্রামের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের লোকজন কীভাবে কেন্দ্র দখল করেছে সেটা পুরো দেশ দেখেছে। এ বিষয়গুলো তো তাদের মনে কাজ করে।

সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি জয়ী হবে জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, বিজয়ী হব বলেই নির্বাচনে এসেছি। যদি সুষ্ঠু ভোট হয় তাহলে বিএনপি বিশাল ভোটের ব্যবধানে জিতবে। এ জন্যই নির্বাচন ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে।

এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন, সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা অংশগ্রহণ করেছে। এখনো ৪৮ ঘণ্টা সময় আছে। যদি নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো চায় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, তাহলে পরিবর্তন সম্ভব। সদিচ্ছা থাকলে জনগণের ভোট জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার সময় আছে।

বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন