ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল
jugantor
ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল
সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী * হাসপাতালে নেতাকর্মীদের ভিড় না করার নির্দেশ

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর তাকে পর্যবেক্ষণের জন্য করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রাখা হয়। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

এদিকে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের হাসপাতালে ভিড় না করতেও নির্দেশ দিয়েছেন।

তার সুস্থতায় দেশবাসীর কাছে দলের পক্ষ থেকে দোয়া চাওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ভিড় ঠেকাতে আজ তাকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিএসএমএমইউ’র ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া শুক্রবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, তার ইসিজি, ইকো, কার্ডিওগ্রাম পরীক্ষার রিপোর্ট ভালো এসেছে।

তবে আমরা আরও দু-একদিন উনাকে অবজারভেশনে রাখতে চাই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উনাকে (ওবায়দুল কাদের) সিএমএইচে নেয়া হবে- এমন কোনো নির্দেশনা আমি পাইনি।

তবে দর্শনার্থী কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এ কারণে সেখানে নেয়া হতে পারে, চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে নয়।

পূর্ব নির্ধারিত সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় যোগ দিতে সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আসেন ওবায়দুল কাদের।

এ সময় শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় কিছু সময় পরই তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে ধানমণ্ডির ৬/এ তার নিজ বাড়িতে যান। এরপর সেখান থেকে দ্রুত তাকে নেয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।

বিএসএমএমইউ’র কার্ডিওলজি বিভাগের একাধিক চিকিৎসক জানান, সকালে তার ‘একিউট হার্ট ফেইলিউর’ হয়েছিল। হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট-৩ (সিসিইউ) এর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ, বেড-২) রেখে চিকিৎসা প্রদানের ফলে তার হার্ট আবার সচল হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা সকালের চেয়ে ভালো।

তবে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর অবস্থা যখন-তখন খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কয়েক দিন ধরে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় তার হার্টে পানি জমে কার্যকারিতা কমে যায়। এছাড়া ডায়াবেটিসও বেড়ে গিয়েছিল। এসব কারণেই আজ তার একিউট হার্ট অ্যাটাক হয়।

বিএসএমএমইউ’র কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান এবং ওবায়দুল কাদেরের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক আলী আহসান বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

ওবায়দুল কাদেরের শ্বাসকষ্ট হয়েছিল, প্রেসার বেড়ে গিয়েছিল, ওষুধ দিয়ে এখন মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তিনি (ওবায়দুল কাদের) ভালো অবস্থায় ছিলেন। কর্ম অবস্থায় থাকলে স্ট্রেস হয়।

এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে স্ট্রেসের কারণে। তিনি আশঙ্কামুক্ত। বর্তমানে হার্টের অবস্থাও ভালো। তবে চিকিৎসার জন্য লম্বা সময় এখানে থাকতে হতে পারে।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, উনাকে বিদেশে নেয়ার অথরিটি আমরা না। উনার পরিবার আছে, প্রধানমন্ত্রী আছেন।

এ ব্যাপারে তিনি সব উদ্যোগ নিয়ে রেখেছেন। যখন যা প্রয়োজন সে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তবে তিনি যদি এখানে ভর্তি থাকেন তাহলে তাকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা আমরা দেব।

ব্রিফিংকালে বিএসএমএমইউ’র প্রো-ভিসি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ সিকদারসহ কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে হাসপাতালে দেখতে আসেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, দীপু মনি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. আবদুস সবুর, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামূল হক শামীম, দলের আইন সম্পাদক নজিবুল্লাহ হিরু, দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় সদস্য রিয়াজুল কবির কাওছার, আনিসুর রহমান, সানজিদা খানম, সাহাবুদ্দিন ফরাজি, ঢাকা উত্তর সিটির আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, এমপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

ওবায়দুল কাদেরকে দেখে এসে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, ওবায়দুল কাদেরের কফ, ফুসফুস পরীক্ষা, ইকোসহ বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়েছে। সব ঠিক আছে। তবে ফুসফুসে একটু ইনফেকশন ধরা পড়েছে। চিন্তার কোনো কারণ নেই।

এখন যে অবস্থা তাতে এখানেই চিকিৎসা হবে। তবে প্রয়োজনে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হবে। এর কিছুক্ষণ পরে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে অযথা ভিড় না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি।

অন্য রোগীদের যাতে সমস্যা না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে বলেছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সবার কাছে ওবায়দুল কাদেরের জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখানকার চিকিৎসক এবং আমরা যারা আছি, তাদের সবার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। এ বিষয়ে প্রতি মুহূর্তে রিপোর্ট তিনি পাচ্ছেন। কাদের ভাই সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত বলে আমাদের জানিয়েছেন চিকিৎসক।

এদিকে বিকালে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোস্তফা জামান গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ওবায়দুল কাদের কিছুটা সুস্থ। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়া তাকে দুই কাপ স্যুপও খাওয়ানো হয়েছে। প্রেসারও প্রায় স্বাভাবিক।

তিনি আরও জানান, খানিকটা সুস্থতাবোধ করার পর থেকেই ওবায়দুল কাদের বাসায় ফিরে যেতে উদগ্রীব হয়ে আছেন। হাসপাতালে না থেকে বাসায় গিয়ে বিশ্রামে থাকলে সমস্যা হবে কি-না জানতে চেয়েছেন।

অধিকতর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাবেন কি-না, চিকিৎসকরা তাকে এমন প্রশ্ন করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মাত্র কয়েক দিন আগেই সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেছি, এখনই আর সিঙ্গাপুরে যেতে চাই না।’ বিএসএমএমইউতে দর্শনার্থীদের ভিড়ের কারণে তাকে রোববার (আজ) রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হতে পারে।

ডা. মোস্তফা জামান জানান, সকালের দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে আসছেন বলা হয়েছিল। ওবায়দুল কাদের খানিকটা সুস্থতাবোধ করলে প্রধানমন্ত্রী তাকে দেখতে আসছেন শুনে বলেন, ‘আপা খোঁজখবর নিয়েছেন তাতেই আমি কৃতজ্ঞ।

আর আমি তো এখন ভালো আছি। আপার কষ্ট করে আসার দরকার নেই।’ ফলে প্রধানমন্ত্রীর বিএসএমএমইউতে আসার সিদ্ধান্ত বাতিল হয়েছে।

গত বছর ২ মার্চ সকালে শ্বাসকষ্ট নিয়েই বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে গিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। সেখানে এনজিওগ্রামে তার হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীতে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি ব্লক অপসারণ করেন চিকিৎসকরা।

অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে ৪ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়, ভর্তি করা হয় মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে। কয়েকদিন চিকিৎসার পর ২০ মার্চ কার্ডিও থোরাসিক সার্জন ডা. শিভাথাসান কুমারস্বামীর নেতৃত্বে কাদেরের বাইপাস সার্জারি হয়।

চিকিৎসার জন্য তখন আড়াই মাস তাকে সিঙ্গাপুরে থাকতে হয়। সর্বশেষ ১৪ জানুয়ারি ফলোআপ চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যান ওবায়দুল কাদের।

কোম্পানীগঞ্জে রোগমুক্তি কামনায় দোয়া : কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, ওবায়দুল কাদেরের সুস্থতা কামনায় তার নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাটে শুক্রবার দলীয় কার্যালয় এবং বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও মন্দিরে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। এসব দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশগ্রহণ করেন।

ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল

সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী * হাসপাতালে নেতাকর্মীদের ভিড় না করার নির্দেশ
 যুগান্তর রিপোর্ট 
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর তাকে পর্যবেক্ষণের জন্য করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রাখা হয়। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

এদিকে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের হাসপাতালে ভিড় না করতেও নির্দেশ দিয়েছেন।

তার সুস্থতায় দেশবাসীর কাছে দলের পক্ষ থেকে দোয়া চাওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ভিড় ঠেকাতে আজ তাকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিএসএমএমইউ’র ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া শুক্রবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, তার ইসিজি, ইকো, কার্ডিওগ্রাম পরীক্ষার রিপোর্ট ভালো এসেছে।

তবে আমরা আরও দু-একদিন উনাকে অবজারভেশনে রাখতে চাই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উনাকে (ওবায়দুল কাদের) সিএমএইচে নেয়া হবে- এমন কোনো নির্দেশনা আমি পাইনি।

তবে দর্শনার্থী কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এ কারণে সেখানে নেয়া হতে পারে, চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে নয়।

পূর্ব নির্ধারিত সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় যোগ দিতে সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আসেন ওবায়দুল কাদের।

এ সময় শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় কিছু সময় পরই তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে ধানমণ্ডির ৬/এ তার নিজ বাড়িতে যান। এরপর সেখান থেকে দ্রুত তাকে নেয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।

বিএসএমএমইউ’র কার্ডিওলজি বিভাগের একাধিক চিকিৎসক জানান, সকালে তার ‘একিউট হার্ট ফেইলিউর’ হয়েছিল। হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট-৩ (সিসিইউ) এর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ, বেড-২) রেখে চিকিৎসা প্রদানের ফলে তার হার্ট আবার সচল হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা সকালের চেয়ে ভালো।

তবে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর অবস্থা যখন-তখন খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কয়েক দিন ধরে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় তার হার্টে পানি জমে কার্যকারিতা কমে যায়। এছাড়া ডায়াবেটিসও বেড়ে গিয়েছিল। এসব কারণেই আজ তার একিউট হার্ট অ্যাটাক হয়।

বিএসএমএমইউ’র কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান এবং ওবায়দুল কাদেরের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক আলী আহসান বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

ওবায়দুল কাদেরের শ্বাসকষ্ট হয়েছিল, প্রেসার বেড়ে গিয়েছিল, ওষুধ দিয়ে এখন মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তিনি (ওবায়দুল কাদের) ভালো অবস্থায় ছিলেন। কর্ম অবস্থায় থাকলে স্ট্রেস হয়।

এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে স্ট্রেসের কারণে। তিনি আশঙ্কামুক্ত। বর্তমানে হার্টের অবস্থাও ভালো। তবে চিকিৎসার জন্য লম্বা সময় এখানে থাকতে হতে পারে।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, উনাকে বিদেশে নেয়ার অথরিটি আমরা না। উনার পরিবার আছে, প্রধানমন্ত্রী আছেন।

এ ব্যাপারে তিনি সব উদ্যোগ নিয়ে রেখেছেন। যখন যা প্রয়োজন সে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তবে তিনি যদি এখানে ভর্তি থাকেন তাহলে তাকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা আমরা দেব।

ব্রিফিংকালে বিএসএমএমইউ’র প্রো-ভিসি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ সিকদারসহ কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে হাসপাতালে দেখতে আসেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, দীপু মনি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. আবদুস সবুর, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামূল হক শামীম, দলের আইন সম্পাদক নজিবুল্লাহ হিরু, দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় সদস্য রিয়াজুল কবির কাওছার, আনিসুর রহমান, সানজিদা খানম, সাহাবুদ্দিন ফরাজি, ঢাকা উত্তর সিটির আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, এমপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

ওবায়দুল কাদেরকে দেখে এসে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, ওবায়দুল কাদেরের কফ, ফুসফুস পরীক্ষা, ইকোসহ বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়েছে। সব ঠিক আছে। তবে ফুসফুসে একটু ইনফেকশন ধরা পড়েছে। চিন্তার কোনো কারণ নেই।

এখন যে অবস্থা তাতে এখানেই চিকিৎসা হবে। তবে প্রয়োজনে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হবে। এর কিছুক্ষণ পরে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে অযথা ভিড় না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি।

অন্য রোগীদের যাতে সমস্যা না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে বলেছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সবার কাছে ওবায়দুল কাদেরের জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখানকার চিকিৎসক এবং আমরা যারা আছি, তাদের সবার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। এ বিষয়ে প্রতি মুহূর্তে রিপোর্ট তিনি পাচ্ছেন। কাদের ভাই সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত বলে আমাদের জানিয়েছেন চিকিৎসক।

এদিকে বিকালে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোস্তফা জামান গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ওবায়দুল কাদের কিছুটা সুস্থ। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়া তাকে দুই কাপ স্যুপও খাওয়ানো হয়েছে। প্রেসারও প্রায় স্বাভাবিক।

তিনি আরও জানান, খানিকটা সুস্থতাবোধ করার পর থেকেই ওবায়দুল কাদের বাসায় ফিরে যেতে উদগ্রীব হয়ে আছেন। হাসপাতালে না থেকে বাসায় গিয়ে বিশ্রামে থাকলে সমস্যা হবে কি-না জানতে চেয়েছেন।

অধিকতর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাবেন কি-না, চিকিৎসকরা তাকে এমন প্রশ্ন করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মাত্র কয়েক দিন আগেই সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেছি, এখনই আর সিঙ্গাপুরে যেতে চাই না।’ বিএসএমএমইউতে দর্শনার্থীদের ভিড়ের কারণে তাকে রোববার (আজ) রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হতে পারে।

ডা. মোস্তফা জামান জানান, সকালের দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে আসছেন বলা হয়েছিল। ওবায়দুল কাদের খানিকটা সুস্থতাবোধ করলে প্রধানমন্ত্রী তাকে দেখতে আসছেন শুনে বলেন, ‘আপা খোঁজখবর নিয়েছেন তাতেই আমি কৃতজ্ঞ।

আর আমি তো এখন ভালো আছি। আপার কষ্ট করে আসার দরকার নেই।’ ফলে প্রধানমন্ত্রীর বিএসএমএমইউতে আসার সিদ্ধান্ত বাতিল হয়েছে।

গত বছর ২ মার্চ সকালে শ্বাসকষ্ট নিয়েই বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে গিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। সেখানে এনজিওগ্রামে তার হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীতে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি ব্লক অপসারণ করেন চিকিৎসকরা।

অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে ৪ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়, ভর্তি করা হয় মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে। কয়েকদিন চিকিৎসার পর ২০ মার্চ কার্ডিও থোরাসিক সার্জন ডা. শিভাথাসান কুমারস্বামীর নেতৃত্বে কাদেরের বাইপাস সার্জারি হয়।

চিকিৎসার জন্য তখন আড়াই মাস তাকে সিঙ্গাপুরে থাকতে হয়। সর্বশেষ ১৪ জানুয়ারি ফলোআপ চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যান ওবায়দুল কাদের।

কোম্পানীগঞ্জে রোগমুক্তি কামনায় দোয়া : কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, ওবায়দুল কাদেরের সুস্থতা কামনায় তার নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাটে শুক্রবার দলীয় কার্যালয় এবং বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও মন্দিরে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। এসব দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশগ্রহণ করেন।