তাড়াইল শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ: স্কুলে মেশিন ক্রয়ে ৪ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জেলার তাড়াইল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিক্ষক হাজিরার জন্য বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন ক্রয়ের নামে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি মেশিন বাজারমূল্যের চেয়ে ৬ হাজার টাকার অধিক মূল্যে ক্রয় দেখিয়ে তিনি ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবি শিক্ষকদের।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে ডিজিটাল বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন ক্রয়ের স্পেসিফিকেশন উল্লেখ করে বলা হয়, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাজার থেকে যাচাই করে সাশ্রয়ী মূল্যে নিজেদের পছন্দের মেশিন কিনে স্কুলে স্থাপন করবেন। এ নির্দেশ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেন তাড়াইল উপজেলা শিক্ষা অফিসার।

এসব স্কুলের একাধিক প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, যে শিক্ষা কর্মকর্তা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম যোগাযোগের মাধ্যমে তার পছন্দসই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোপন চুক্তি করে এসব ডিজিটাল বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন ক্রয়ে বিদ্যালয়সমূহের কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করেছেন।

সূত্রমতে, তাড়াইল উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে মোট ৭০টি। প্রতিটি বিদ্যালয়ে সরকারের দেয়া স্লিপের ফান্ড থেকে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। তবে এসব মেশিনের বর্তমান বাজারমূল্য জানা নেই শিক্ষকদের।

এছাড়া শিক্ষা অফিসারের চলতি দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষা অফিসারের নির্দেশের বাইরে গিয়ে দরদাম করে মেশিন ক্রয়ে সুযোগও দেয়া হয়নি কোনো বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সহকারী শিক্ষা অফিসার তার সঙ্গে আগে থেকে গোপন চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান থেকে এ ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন সরবরাহের ব্যবস্থা করেছেন।

তাড়াইল উপজেলার এসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজিতে লেখা জেড-কে-টি, লোগো সংবলিত আই-ক্লক ৯০০০জি, মডেলের মেশিন লাগানো হয়েছে। মেশিনগুলোর বর্তমান দুই বছরের ওয়ারেন্টি এবং দুই বছরের সার্ভিসিং সুবিধাসহ ১১ হাজার টাকা বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ।

সূত্রমতে, এর ফলে প্রতিটি বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন ক্রয়ে ৬ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত ধার্য করে ৭০টি স্কুলের ৭০টি মেশিন ক্রয়ে সহকারী শিক্ষা অফিসার ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, বায়োমেট্রিক পদ্ধতির ডিজিটাল হাজিরা ফাঁকি দেয়ার জন্য প্রত্যেক স্কুলের প্রধান শিক্ষককে তিনি একটি করে ডিজিটাল কার্ড দিয়ে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে আরও ৫০০ টাকা করে মোট ৩৫ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে ডিজিটাল হাজিরা মেশিনের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকার ত্রিমাত্রিক মাল্টিমিডিয়া সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাড়াইল উপজেলার স্কুলগুলোতে সরবরাহ করা মডেলের বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিনগুলোর বাজারমূল্য ৭ হাজার টাকা মাত্র। এর সঙ্গে রয়েছে, সফটওয়ার ফি ২ হাজার টাকা এবং ইনস্টল ফি এক হাজার টাকা। পাইকারি কিংবা খুচরা যে কোনোভাবে এ মেশিন কেনা হলেও দামের তারতম্য হওয়ার কথা নয়।

অভিযুক্ত উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কাছে রোববার সন্ধ্যায় জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। বলেন, এসব বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন ক্রয়ে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই, তাই টাকা আত্মসাতেরও প্রশ্ন ওঠে না।

এ ব্যাপারে তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক মাহমুদ রোববার মুঠোফোনে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ শোনা গেছে। লিখিতভাবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত