সামাজিক অভিশাপের প্রতি মনোযোগ দিন: সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী

জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

  বাসস ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সামাজিক অভিশাপের প্রতি মনোযোগ দিন: সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী

রুটিন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিদ্যমান কিছু সামাজিক অভিশাপের বিরুদ্ধে সতর্ক নজর রাখার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সমাজে মাদক, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির মতো কিছু সামাজিক অভিশাপ রয়েছে। আমি এসব বিষয়ে আপনাদের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী রোববার সকালে মিরপুর সেনানিবাসে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ’র (ডিএসসিএসসি) শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে ২০১৯-২০ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছি। অপরাধবিরোধী এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, সমাজকে রক্ষা করার জন্য এ ধরনের অভিশাপ নির্মূল করা জরুরি। কারণ, আমরা আমাদের সন্তানদের জীবন ধ্বংস করার কোনো সুযোগ দিতে চাই না। সরকার তরুণদের মেধা, জ্ঞান এবং শক্তি দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে চায়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে বিশ্বের সঙ্গে যেন তাল মিলিয়ে চলতে পারে তেমনই একটি আধুনিক ও সুসজ্জিত বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি সশস্ত্র বাহিনীকে এমন ভাবে উন্নত করতে চাই যাতে তারা যে কোনো দেশে যে কোনো পরিস্থিতিতে শান্তি রক্ষায় কাজ করে যেতে পারে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী পৃথিবীর যেখানে কাজ করেছে সেখানেই সুনাম অর্জন করেছে। মানবিক সেবা দিয়ে বিভিন্ন দেশে স্থানীয় মানুষের হৃদয় জয় করেছে।’

‘সশস্ত্র বাহিনীকে স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীক’ আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনা একটি আধুনিক সুশৃঙ্খল ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে ১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি কুমিল্লার সামরিক একাডেমিতে প্রথম শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানে বিদায়ী ক্যাডেটদের উদ্দেশে প্রদত্ত জাতির পিতার ভাষণের বিশেষ কিছু অংশ উদ্ধৃত করেন।

জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘পূর্ণ সুযোগ-সুবিধা পেলে আমাদের ছেলেরা যে কোনো দেশের যে কোনো সৈনিকের সঙ্গে মোকাবেলা করতে পারবে। আমার বিশ্বাস, আমরা এমন একটি একাডেমি সৃষ্টি করব, সারা দুনিয়ার মানুষ আমাদের এ একাডেমি দেখতে আসবে। আজকে এটা বাস্তবে রূপ নিয়েছে।’ ’৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর সরকার গঠন করে অনেকটা ছোট পরিসরে ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করলেও তা আজকে একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সরকার প্রধান বলেন, ‘শুরু করলে যে পারা যায়, আমরা তা প্রমাণ করেছি।’ প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলোর অনেকগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ওপর ন্যস্ত রয়েছে উল্লেখ করে কোর্স সমাপনী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার বিশ্বাস আপনাদের প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালনে এবং যে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সফল করে তুলবে। আর দেশের সার্বিক উন্নয়নের দিকেও আপনারা দৃষ্টি দেবেন, যাতে করে আমরা দেশটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।’ তিনি বলেন, ‘আমি চাই আমাদের উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে লক্ষ্য তা বাস্তবায়নে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা বিশেষ ভূমিকা রাখবেন।’

কোর্সে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়,’- এর উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আপনারাও (বিদেশি শিক্ষার্থীরা) আমাদের বন্ধু হিসেবে থাকবেন এবং সে দেশে বাংলাদেশের একজন গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা বাংলাদেশকে কখনও ভুলবেন না, সেটাই আমরা চাই।’ কোর্সে অংশগ্রহণকারী সব সদস্য এবং তাদের পরিবার-পরিজন এবং ডিএসসিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে কোনো কাজ করতে গেলে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। কাজেই এ প্রশিক্ষণের সময় যারা স্পাউস (সহধর্মিণী) এবং নারী প্রশিক্ষণার্থীদের স্বামীরাও বিশেষভাবে অবদান রেখেছেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জাতির পিতার শততম জন্মদিন ১৭ মার্চ ২০২০ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে উদযাপন করব। ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ১৭ মার্চ ২০২১ সময়কে আমরা ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করেছি। ইউনেস্কো আমাদের সঙ্গে যৌথভাবে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী সারা বিশ্বে উদযাপন করবে। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের জাতীয় আকাক্সক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে আজকের গ্র্যাজুয়েটরা যথাযথ ভূমিকা রাখবে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে বিশ্বের দরবারে আরও সমুন্নত ও সমুজ্জ্বল করবে।’

অনুষ্ঠানে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড ও স্টাফ কলেজের কম্যান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. এনায়েত উল্লাহ স্বাগত বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১২৫, নৌ বাহিনীর ৩৪ এবং বিমানবাহিনীর ২২ জন ছাড়াও ২১ দেশ থেকে আগত ৫৪ বিদেশি অফিসারসহ ২৩৫ শিক্ষার্থী এ বছর এ কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে গ্র্যাজুয়েশন করা অফিসারদের হাতে সনদ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, তিন বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসওসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যপর্যায়ের নির্বাচিত কর্মকর্তাদের কমান্ড স্টাফ হিসেবে ভবিষ্যতের গুরুদায়িত্ব পালনে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এ প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ‘ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড ও স্টাফ কলেজে’ সেনাবাহিনীর ৪৪টি, নৌবাহিনীর ৩৮টি এবং বিমানবাহিনীর ৪০টি স্টাফ কোর্সে ৫ হাজার ২৫৩ জন সাফল্যের সঙ্গে কোর্স সম্পন্ন করেছেন। এরই মধ্যে ৪২টি বন্ধুপ্রতিম দেশের ১ হাজার ১৬৫ জন অফিসারও এ কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফ্রান্সের এয়ার চিফের সাক্ষাৎ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। কারণ এটা (শান্তি) উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন। আমরা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে আরও অর্থ ব্যয় করতে চাই। রোববার ফ্রান্সের বিমানবাহিনী প্রধান জেনারেল ফিলিপ লাভিন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গ্র্যাজুয়েশন লাভ করেছে এবং আরও উন্নয়নের জন্য শান্তির প্রয়োজন। সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। আমরা এ সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্সের সমর্থনের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘তখন থেকেই দুই দেশের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে।’ এ সময় জেনারেল ফিলিপ বলেন- ফ্রান্স এবং বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিশ্বের সংঘাত পূর্ণ এলাকাগুলোতে শান্তি স্থাপনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান এবং পিএমও সচিব তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৪৮ ১৫
বিশ্ব ৬,৫০,৫৬৭১,৩৯,৫৫২৩০,২৯৯
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×