খুলনার স্বাস্থ্য বিভাগ: বেতন পান না আউট সোর্সিং কর্মচারীরা

  আহমদ মুসা রঞ্জু, খুলনা ব্যুরো ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনার স্বাস্থ্য বিভাগ: বেতন পান না আউট সোর্সিং কর্মচারীরা
ফাইল ছবি

খুলনা সিভিল সার্জনের আওতায় বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মচারীরা আট মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। নিয়োগের পর থেকেই তারা বেতন পান না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখন তাদের নিজ দায়িত্বে কাজ করতে বলছে। বেতন হবে কিনা তাও নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না তারা। এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন নীরব ভূমিকা পালন করছেন। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মচারী অসহায় ও জিম্মি হয়ে পড়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে।

জানা গেছে, খুলনা সিভিল সার্জন দফতর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২১১ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগের উদ্যোগ নেয়। গত বছর ১২ মে সংশ্লিষ্ট দফতর এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি দেয়। দরপত্রের মাধ্যমে ফুলতলা উপজেলার দামোদর এলাকার মেসার্স তাকবীর এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জনবল সরবরাহের কার্যাদেশ পায়। এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গত বছর জানুয়ারি মাসে এ নিয়োগের নির্দেশনা দেয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় অভিযোগ ওঠে- মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এসব কর্মচারী নিয়োগ দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। একাধিক কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত এক কর্মচারী বলেন, নিয়োগের সময় তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. ইখতিয়ার উদ্দিন। টাকা লেনদেনের মাধ্যম ছিল ওই কমপ্লেক্সের হিসাবরক্ষক। আট মাস ধরে তিনি নিয়মিত হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করলেও কোনো বেতন পান না। সম্প্রতি নগরীর মিরেরডাঙ্গার খুলনা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সেখানকার একজন কর্মচারী জানান, আউটসোর্সিং কর্মচারীদের দিয়ে কাজ হচ্ছে না। বেতন না পেয়ে তারা হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। বিনা বেতনে চাকরি করায় কাজের প্রতি তারা মনোযোগী হতে পারছেন না। ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, আউটসোর্সিং কর্মচারীদের কাজ শেখানো হচ্ছে। যাতে তারা দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। নিয়োগে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাকবির এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, দরপত্রের মাধ্যমে ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছি। তবে প্রথম পর্যায়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ থেকে ছাড়পত্র ছিল না। অনুমোদন পেলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফাইল আটকে আছে। এ কারণে কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন না। মানবিক কারণে ঈদের সময় প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছি। বিল পাস হলে সবাই একসঙ্গে সব বেতন পেয়ে যাবেন। তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কর্মচারীরা ১৪ হাজার ৪৫০ টাকা হারে বেতন পাবেন। আর সিটি কর্পোরেশন এলাকার কর্মচারীরা এর চেয়ে ৫০০ টাকা বেশি বেতন পাবে। বছরে ঈদ বোনাস পাবেন আট হাজার ২৪০ টাকা। আর বৈশাখী ভাতা পাবেন বোনাসের ২৫ ভাগ এক হাজার ৬৫০ টাকা।

গত বছর ২৬ মে খুলনা সিভিল সার্জন স্বাক্ষরিত পদায়নপত্রে বলা হয়- কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ জন, বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬ জন, বিভিন্ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১২ জন, রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ জন, দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জন, তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ জন, কপিলমুনি ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে তিনজন, পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮ জন এবং দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জন, নগরীর টুটপাড়া সদর আরবান ডিসপেনসারিতে ১১ জন, ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯ জন, খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ৩১ জন, তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ জন, ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জনকে পদায়ন করা হয়।

তবে বেতন না পেয়ে অনেকে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

নতুন সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। ফাইলটি প্রক্রিয়াগত ত্র“টির কারণে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। অনুমোদন না হলে কারও বেতন হবে না।

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৪৮ ১৫
বিশ্ব ৬,৫০,৫৬৭১,৩৯,৫৫২৩০,২৯৯
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×