ডিআইজি মিজানের স্ত্রী ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে পরোয়ানা
jugantor
অবৈধ সম্পদের মামলা
ডিআইজি মিজানের স্ত্রী ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে পরোয়ানা
মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে দেয়া চার্জশিট গ্রহণ

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ডিআইজি মিজানের স্ত্রী ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচার মামলায় পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি (সাময়িক বরখাস্ত) মিজানুর রহমানের স্ত্রী ও ভাইয়ের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। রোববার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। একইসঙ্গে গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের বিষয়ে আগামী ৩ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে। মিজানের স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না ও ভাই মাহবুবুর রহমান মামলার শুরু থেকে পলাতক। এদিকে বিতর্কিত ডিআইজি মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে দেয়া চার্জশিট গ্রহণ করেছেন একই আদালত।

৩০ জানুয়ারি আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ চার্জশিট দাখিল করেন। এদিন মামলার ধার্য তারিখে আদালতে তা উপস্থাপন করা হয়। আদালত চার আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করে পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে ওই পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। মামলার অপর দুই আসামি মিজান ও তার ভাগ্নে এসআই (বরখাস্ত) মাহমুদুল হাসান কারাগারে আছেন।

এদিকে ঘুষ লেনদেনের মামলায় বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর রহমান ও দুদক পরিচালক (সাময়িক বরখাস্ত) খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ চার্জশিট (অভিযোগপত্র) গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে পরবর্তী বিচারের জন্য মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এ বদলির আদেশ দেন এবং চার্জ শুনানির জন্য আগামী ৪ মার্চ দিন ধার্য করেন। এদিন মিজান ও বাছিরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে ১৯ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় চার্জশিট দাখিল করেন। মামলার ধার্য তারিখে চার্জশিট আদালতে উপস্থাপন করা হয়। চার্জশিটে ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

চার্জশিটে বলা হয়, এনামুল বাছির দায়িত্ব পালনকালে অসৎ উদ্দেশ্যে, নিজে লাভবান হওয়ার আশায়, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিতর্কিত ডিআইজি মিজানকে অবৈধভাবে সুযোগ-সুবিধা দেয়ার হীনউদ্দেশ্যে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। অপরদিকে মিজান অসৎ উদ্দেশ্যে এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন। ঘুষ নিয়ে ও ঘুষ দিয়ে পরস্পর যোগসাজশে তারা শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মিজানের বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তান রেখে অপর এক নারীকে জোর করে বিয়ে ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া এক নারী সংবাদ পাঠিকাকেও হুমকি দেয়ার অভিযোগ আসে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ ওঠার পর তাকে ডিএমপি থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়। এর চার মাস পর তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। অনুসন্ধান শেষে ২৪ জুন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) কমিশনের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ বাদী হয়ে মামলা করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে তিন কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তিন কোটি সাত লাখ পাঁচ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। এ মামলায় ২ জুলাই মিজান ও ৪ জুলাই তার ভাগ্নে মাহমুদুল হাসানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

অবৈধ সম্পদের মামলা

ডিআইজি মিজানের স্ত্রী ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে দেয়া চার্জশিট গ্রহণ
 যুগান্তর রিপোর্ট 
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ডিআইজি মিজানের স্ত্রী ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে পরোয়ানা
ফাইল ছবি

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচার মামলায় পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি (সাময়িক বরখাস্ত) মিজানুর রহমানের স্ত্রী ও ভাইয়ের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। রোববার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। একইসঙ্গে গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের বিষয়ে আগামী ৩ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে। মিজানের স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না ও ভাই মাহবুবুর রহমান মামলার শুরু থেকে পলাতক। এদিকে বিতর্কিত ডিআইজি মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে দেয়া চার্জশিট গ্রহণ করেছেন একই আদালত।

৩০ জানুয়ারি আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ চার্জশিট দাখিল করেন। এদিন মামলার ধার্য তারিখে আদালতে তা উপস্থাপন করা হয়। আদালত চার আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করে পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে ওই পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। মামলার অপর দুই আসামি মিজান ও তার ভাগ্নে এসআই (বরখাস্ত) মাহমুদুল হাসান কারাগারে আছেন।

এদিকে ঘুষ লেনদেনের মামলায় বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর রহমান ও দুদক পরিচালক (সাময়িক বরখাস্ত) খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ চার্জশিট (অভিযোগপত্র) গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে পরবর্তী বিচারের জন্য মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এ বদলির আদেশ দেন এবং চার্জ শুনানির জন্য আগামী ৪ মার্চ দিন ধার্য করেন। এদিন মিজান ও বাছিরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে ১৯ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় চার্জশিট দাখিল করেন। মামলার ধার্য তারিখে চার্জশিট আদালতে উপস্থাপন করা হয়। চার্জশিটে ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

চার্জশিটে বলা হয়, এনামুল বাছির দায়িত্ব পালনকালে অসৎ উদ্দেশ্যে, নিজে লাভবান হওয়ার আশায়, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিতর্কিত ডিআইজি মিজানকে অবৈধভাবে সুযোগ-সুবিধা দেয়ার হীনউদ্দেশ্যে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। অপরদিকে মিজান অসৎ উদ্দেশ্যে এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন। ঘুষ নিয়ে ও ঘুষ দিয়ে পরস্পর যোগসাজশে তারা শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মিজানের বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তান রেখে অপর এক নারীকে জোর করে বিয়ে ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া এক নারী সংবাদ পাঠিকাকেও হুমকি দেয়ার অভিযোগ আসে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ ওঠার পর তাকে ডিএমপি থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়। এর চার মাস পর তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। অনুসন্ধান শেষে ২৪ জুন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) কমিশনের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ বাদী হয়ে মামলা করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে তিন কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তিন কোটি সাত লাখ পাঁচ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। এ মামলায় ২ জুলাই মিজান ও ৪ জুলাই তার ভাগ্নে মাহমুদুল হাসানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।