নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মাতোয়ারা মেলা
jugantor
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০
নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মাতোয়ারা মেলা

  হক ফারুক আহমেদ  

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অমর একুশে গ্রন্থমেলা

বইমেলা এখন অনেকটাই পরিপূর্ণ। বেশিরভাগ প্রকাশনা থেকে চলে এসেছে নতুন বই। মেলা প্রাঙ্গণ নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মাতোয়ারা। শুধু নতুন বই-ই নয়, চলে এসেছে প্রিয় লেখকের বইও। তরুণ লেখকদের বইয়ের সংখ্যাও কম নয়।

তরুণ লেখকরা মেলায় বেশ সময়ও দিচ্ছেন। ফলে পাঠকের সঙ্গে তাদের একটা সংযোগও ঘটছে। মেলায় আগতদের অনেকেই নতুন বইয়ের খোঁজ করছেন। কিনছেনও। সব মিলিয়ে মেলা দারুণ একটা সময় পার করছে।

বইমেলা ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ প্যাভিলিয়ন ও স্টলেই নতুন বই থরে থরে সাজানো। অন্যপ্রকাশ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স, অনন্যা, অনুপম, প্রথমা, বাতিঘর, শোভা, অন্বেষা, পার্ল, জার্নিম্যান বুকস, তাম্রলিপি, অবসর, ঐতিহ্য, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, বাংলা প্রকাশ, অ্যাডর্ন, সময়সহ প্রায় সব প্রকাশনী ঘুরে দেখা গেছে তারা তাদের বেশিরভাগ নতুন বই ইতিমধ্যেই মেলায় নিয়ে এসেছে।

ঐতিহ্য প্রকাশনীর ম্যানেজার আমজাদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এবার প্রায় শতাধিক নতুন বই আসছে। অর্ধেকের বেশি ইতিমধ্যে মেলায় চলে এসেছে। বাকি বইগুলোও কয়েক দিনের মধ্যেই মেলায় আসবে।

কিছু খামতি এবারও রয়ে গেছে : এবারের মেলায় কিছু খামতি এখনও রয়ে গেছে। মেলার অঙ্গসজ্জা ও বিন্যাস নিয়ে সবাই প্রশংসা করলেও অনেকেই অভিযোগ করেছেন- সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলার পরিসর অনেক বেশি হয়ে গেছে। সেটা এতটাই বেশি যে, অনেকেরই পুরো মেলা ঘুরে দেখতে অসুবিধা হচ্ছে।

পর্যাপ্ত বসার জায়গার ব্যবস্থা করা হলেও হাঁটতে হাঁটতে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছেন। উদ্যানের অংশে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন মঞ্চ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। মঞ্চটি এক কোণায় ও খাবারের দোকানের সঙ্গে হওয়ায় অনেকেই বলেছেন জায়গাটা ঠিক হয়নি। অন্য কোথাও হতে পারত।

মূলমঞ্চের আয়োজন : বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় দিব্যদ্যুতি সরকার রচিত বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার ভিসি রাশিদ আসকারী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অ্যাডভোকেট সাহিদা বেগম ও ড. আশফাক হোসেন।

লেখকের বক্তব্য প্রদান করেন দিব্যদ্যুতি সরকার। সভাপতিত্ব করেন আবুল মোমেন। প্রাবন্ধিক বলেন, গণমানুষের মুক্তি-আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে পৃথিবীতে যে ক’জন হাতেগোনা মানুষ কায়েমি শোষকদের অধীনে দীর্ঘ কারাভোগ করেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের মধ্যে অন্যতম।

পাথরের দেয়াল এবং লোহার গারদ অতিক্রম করে তিনি একটি স্বাধীন দেশ স্থাপন করেছেন পৃথিবীর মানচিত্রে। লেখক দিব্যদ্যুতি সরকার বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ কারাজীবনের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময় বঙ্গবন্ধুর নানাবিধ সত্তা যেমন- মানুষ বঙ্গবন্ধু, রাজনীতিবিদ বঙ্গবন্ধু, লেখক বঙ্গবন্ধু ইত্যাদি বিষয় আবিষ্কারের প্রয়াস পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর বৈচিত্র্যময় কণ্টকাকীর্ণ জীবনের এক দুর্যোগপূর্ণ অধ্যায় তার কারাজীবন, সমকালীন ইতিহাসের আলোয় তার বয়ান এবং

অন্তর্বয়ান আলোচ্য গ্রন্থকে মুজিব জন্মশতবর্ষের এ সময়ে খুবই প্রাসঙ্গিক। আলোচকরা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার জীবনের এক-তৃতীয়াংশ সময়ই কারাগারে কাটিয়েছেন।

আত্মত্যাগী এই মহান নেতার আপসহীন সংগ্রামের কারণেই বাঙালি আত্মপরিচয়ের সংকটকে কাটিয়ে বিশ্বের বুকে একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

লেখক দিব্যদ্যুতি সরকার তার রচিত বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ বৈচিত্র্যময় কারাজীবনের অভিজ্ঞতাকে উপস্থাপন করেছেন। আমাদের তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের ইতিহাস তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ গ্রন্থটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গ্রন্থের লেখক বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো এমন মহান ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে গ্রন্থ প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তকে ভালোভাবে যাচাই করে নেয়ার প্রয়োজন আছে। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ কারাজীবন নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা ও তাত্ত্বিক বিচার-বিশ্লেষণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

সংলাপনির্ভর সাধারণ ভাষায় লিখিত এ গ্রন্থের উদ্দেশ্য- বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য উপস্থাপন করা নয় বরং মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের অভিজ্ঞতাকে তুলে ধরা।

সভাপতির বক্তব্যে আবুল মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন ইতিহাস পর্যালোচনা করতে হলে তার জেলজীবনের প্রেক্ষাপট ও অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় আনতে হবে। বারবার কারাবরণ ও আপসহীন সংগ্রামের মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের উত্তরণ ঘটে এবং তিনি গণমানুষের আশা-ভরসার প্রতীকে পরিণত হন।

বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের পটভূমিতে রচিত দিব্যদ্যুতি সরকারের বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন গ্রন্থটিতে জাতির পিতার জীবন ও ভাবনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে; যা এই মহান বাঙালির সামগ্রিক মূল্যায়নে ভূমিকা রাখবে।

এদিন কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি ওবায়েদ আকাশ, মতিন বৈরাগী, আলতাফ শাহ্নেওয়াজ এবং স্নিগ্ধা বাউল। আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী মাহিদুল ইসলাম, সুপ্রভা সেবতী, জিএম মোর্শেদ। নৃত্য পরিবেশন করেন লায়লা হাসানের পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন ‘নটরাজ’-এর নৃত্যশিল্পীরা।

সোমবার লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি টোকন ঠাকুর, কবি সৈয়দ তারিক, কথাশিল্পী সাগুফতা শারমীন তানিয়া এবং কবি আখতারুজ্জামান আজাদ।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সোমবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় নতুন বই এসেছে ১৭৯টি। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত দিবাদ্যুতি সরকারের বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বই ‘বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন’, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে হাবিবুর রহমানের সম্পাদনায় ‘নন্দিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান’, একই প্রকাশনা থেকে মিনার মনসুরের ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শত্রু-মিত্র’, সময় থেকে ফরিদুর রেজা সাগর সম্পাদিত ‘তোমার নেতা আমার নেতা’, অবসর থেকে আবদুল মান্নান সৈয়দের প্রবন্ধ ‘করতলে মহাদেশ’, অন্যধারা থেকে সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি’, অনন্যা থেকে মনি হায়দারের গল্পগ্রন্থ ‘ফ্যান্টাসি’, একই প্রকাশনী থেকে মহাদেব সাহার কবিতার বই ‘চোখ বুজে পাহাড় দেখেছি’, কথাপ্রকাশ থেকে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর গদ্যগ্রন্থ ‘আমার গদ্য-১’, একই প্রকাশনা থেকে সনৎকুমার সাহার বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বই ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ’, মুক্তধারা থেকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অজানা কাহিনী নিয়ে ব্রজেন্দ নাথ অর্জুনের ‘অগ্নিযুগের ইতিকথা’, অনিন্দ্য প্রকাশ থেকে মোশতাক আহমেদের ‘অভিশপ্ত আত্মা’, ঐতিহ্য প্রকাশ করেছে মিজান মালিকের কবিতার বই ‘গল্প ছাড়া মলাট’, হায়দার বসুনিয়ার ‘দিগ্বিজয়ীর কান্না’।

আজকের মেলা : আজ অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১০ম দিন। মেলা চলবে বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে মোহাম্মদ আলী খান রচিত ডাকটিকিট ও মুদ্রায় বঙ্গবন্ধু শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আতাউর রহমান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন শ্যামসুন্দর সিকদার ও ইকরাম আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ফজলে কবির।

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০

নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মাতোয়ারা মেলা

 হক ফারুক আহমেদ 
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
অমর একুশে গ্রন্থমেলা
অমর একুশে গ্রন্থমেলা। ফাইল ছবি

বইমেলা এখন অনেকটাই পরিপূর্ণ। বেশিরভাগ প্রকাশনা থেকে চলে এসেছে নতুন বই। মেলা প্রাঙ্গণ নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মাতোয়ারা। শুধু নতুন বই-ই নয়, চলে এসেছে প্রিয় লেখকের বইও। তরুণ লেখকদের বইয়ের সংখ্যাও কম নয়।

তরুণ লেখকরা মেলায় বেশ সময়ও দিচ্ছেন। ফলে পাঠকের সঙ্গে তাদের একটা সংযোগও ঘটছে। মেলায় আগতদের অনেকেই নতুন বইয়ের খোঁজ করছেন। কিনছেনও। সব মিলিয়ে মেলা দারুণ একটা সময় পার করছে।

বইমেলা ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ প্যাভিলিয়ন ও স্টলেই নতুন বই থরে থরে সাজানো। অন্যপ্রকাশ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স, অনন্যা, অনুপম, প্রথমা, বাতিঘর, শোভা, অন্বেষা, পার্ল, জার্নিম্যান বুকস, তাম্রলিপি, অবসর, ঐতিহ্য, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, বাংলা প্রকাশ, অ্যাডর্ন, সময়সহ প্রায় সব প্রকাশনী ঘুরে দেখা গেছে তারা তাদের বেশিরভাগ নতুন বই ইতিমধ্যেই মেলায় নিয়ে এসেছে।

ঐতিহ্য প্রকাশনীর ম্যানেজার আমজাদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এবার প্রায় শতাধিক নতুন বই আসছে। অর্ধেকের বেশি ইতিমধ্যে মেলায় চলে এসেছে। বাকি বইগুলোও কয়েক দিনের মধ্যেই মেলায় আসবে।

কিছু খামতি এবারও রয়ে গেছে : এবারের মেলায় কিছু খামতি এখনও রয়ে গেছে। মেলার অঙ্গসজ্জা ও বিন্যাস নিয়ে সবাই প্রশংসা করলেও অনেকেই অভিযোগ করেছেন- সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলার পরিসর অনেক বেশি হয়ে গেছে। সেটা এতটাই বেশি যে, অনেকেরই পুরো মেলা ঘুরে দেখতে অসুবিধা হচ্ছে।

পর্যাপ্ত বসার জায়গার ব্যবস্থা করা হলেও হাঁটতে হাঁটতে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছেন। উদ্যানের অংশে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন মঞ্চ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। মঞ্চটি এক কোণায় ও খাবারের দোকানের সঙ্গে হওয়ায় অনেকেই বলেছেন জায়গাটা ঠিক হয়নি। অন্য কোথাও হতে পারত।

মূলমঞ্চের আয়োজন : বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় দিব্যদ্যুতি সরকার রচিত বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার ভিসি রাশিদ আসকারী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অ্যাডভোকেট সাহিদা বেগম ও ড. আশফাক হোসেন।

লেখকের বক্তব্য প্রদান করেন দিব্যদ্যুতি সরকার। সভাপতিত্ব করেন আবুল মোমেন। প্রাবন্ধিক বলেন, গণমানুষের মুক্তি-আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে পৃথিবীতে যে ক’জন হাতেগোনা মানুষ কায়েমি শোষকদের অধীনে দীর্ঘ কারাভোগ করেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের মধ্যে অন্যতম।

পাথরের দেয়াল এবং লোহার গারদ অতিক্রম করে তিনি একটি স্বাধীন দেশ স্থাপন করেছেন পৃথিবীর মানচিত্রে। লেখক দিব্যদ্যুতি সরকার বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ কারাজীবনের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময় বঙ্গবন্ধুর নানাবিধ সত্তা যেমন- মানুষ বঙ্গবন্ধু, রাজনীতিবিদ বঙ্গবন্ধু, লেখক বঙ্গবন্ধু ইত্যাদি বিষয় আবিষ্কারের প্রয়াস পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর বৈচিত্র্যময় কণ্টকাকীর্ণ জীবনের এক দুর্যোগপূর্ণ অধ্যায় তার কারাজীবন, সমকালীন ইতিহাসের আলোয় তার বয়ান এবং

অন্তর্বয়ান আলোচ্য গ্রন্থকে মুজিব জন্মশতবর্ষের এ সময়ে খুবই প্রাসঙ্গিক। আলোচকরা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার জীবনের এক-তৃতীয়াংশ সময়ই কারাগারে কাটিয়েছেন।

আত্মত্যাগী এই মহান নেতার আপসহীন সংগ্রামের কারণেই বাঙালি আত্মপরিচয়ের সংকটকে কাটিয়ে বিশ্বের বুকে একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

লেখক দিব্যদ্যুতি সরকার তার রচিত বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ বৈচিত্র্যময় কারাজীবনের অভিজ্ঞতাকে উপস্থাপন করেছেন। আমাদের তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের ইতিহাস তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ গ্রন্থটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গ্রন্থের লেখক বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো এমন মহান ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে গ্রন্থ প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তকে ভালোভাবে যাচাই করে নেয়ার প্রয়োজন আছে। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ কারাজীবন নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা ও তাত্ত্বিক বিচার-বিশ্লেষণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

সংলাপনির্ভর সাধারণ ভাষায় লিখিত এ গ্রন্থের উদ্দেশ্য- বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য উপস্থাপন করা নয় বরং মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের অভিজ্ঞতাকে তুলে ধরা।

সভাপতির বক্তব্যে আবুল মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন ইতিহাস পর্যালোচনা করতে হলে তার জেলজীবনের প্রেক্ষাপট ও অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় আনতে হবে। বারবার কারাবরণ ও আপসহীন সংগ্রামের মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের উত্তরণ ঘটে এবং তিনি গণমানুষের আশা-ভরসার প্রতীকে পরিণত হন।

বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের পটভূমিতে রচিত দিব্যদ্যুতি সরকারের বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন গ্রন্থটিতে জাতির পিতার জীবন ও ভাবনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে; যা এই মহান বাঙালির সামগ্রিক মূল্যায়নে ভূমিকা রাখবে।

এদিন কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি ওবায়েদ আকাশ, মতিন বৈরাগী, আলতাফ শাহ্নেওয়াজ এবং স্নিগ্ধা বাউল। আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী মাহিদুল ইসলাম, সুপ্রভা সেবতী, জিএম মোর্শেদ। নৃত্য পরিবেশন করেন লায়লা হাসানের পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন ‘নটরাজ’-এর নৃত্যশিল্পীরা।

সোমবার লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি টোকন ঠাকুর, কবি সৈয়দ তারিক, কথাশিল্পী সাগুফতা শারমীন তানিয়া এবং কবি আখতারুজ্জামান আজাদ।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সোমবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় নতুন বই এসেছে ১৭৯টি। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত দিবাদ্যুতি সরকারের বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বই ‘বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন’, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে হাবিবুর রহমানের সম্পাদনায় ‘নন্দিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান’, একই প্রকাশনা থেকে মিনার মনসুরের ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শত্রু-মিত্র’, সময় থেকে ফরিদুর রেজা সাগর সম্পাদিত ‘তোমার নেতা আমার নেতা’, অবসর থেকে আবদুল মান্নান সৈয়দের প্রবন্ধ ‘করতলে মহাদেশ’, অন্যধারা থেকে সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি’, অনন্যা থেকে মনি হায়দারের গল্পগ্রন্থ ‘ফ্যান্টাসি’, একই প্রকাশনী থেকে মহাদেব সাহার কবিতার বই ‘চোখ বুজে পাহাড় দেখেছি’, কথাপ্রকাশ থেকে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর গদ্যগ্রন্থ ‘আমার গদ্য-১’, একই প্রকাশনা থেকে সনৎকুমার সাহার বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বই ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ’, মুক্তধারা থেকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অজানা কাহিনী নিয়ে ব্রজেন্দ নাথ অর্জুনের ‘অগ্নিযুগের ইতিকথা’, অনিন্দ্য প্রকাশ থেকে মোশতাক আহমেদের ‘অভিশপ্ত আত্মা’, ঐতিহ্য প্রকাশ করেছে মিজান মালিকের কবিতার বই ‘গল্প ছাড়া মলাট’, হায়দার বসুনিয়ার ‘দিগ্বিজয়ীর কান্না’।

আজকের মেলা : আজ অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১০ম দিন। মেলা চলবে বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে মোহাম্মদ আলী খান রচিত ডাকটিকিট ও মুদ্রায় বঙ্গবন্ধু শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আতাউর রহমান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন শ্যামসুন্দর সিকদার ও ইকরাম আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ফজলে কবির।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : বইমেলা-২০২০