অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০: বসন্ত-ভালোবাসার রঙে রঙিন দিন

  হক ফারুক আহমেদ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একুশে বইমেলা। ছবি: যুগান্তর

বসন্ত আর ভালোবাসার দিন মিলেমিশে একাকার। তাই দুই রঙে রঙিন হল একুশের গ্রন্থমেলা। বসন্তের হলুদ আর ভালোবাসার লাল রঙে ছেয়ে গেল পুরো প্রাঙ্গণ। তার ওপর ছিল ছুটির দিন শুক্রবার। সব মিলিয়ে অনন্য একটি দিন পার করল গ্রন্থমেলা। পুরো প্রাঙ্গণে ছিল কোলাহল। কেউবা বইয়ের টানে, কেউবা অন্যরকম একটি বিকাল কাটাবে বলে এসেছিল মানুষ। সন্ধ্যার পর মানুষের চাপে হাঁটতে রীতিমতো বেগ পেতে হয়েছে।

গ্রন্থমেলা ঘুরে দেখা যায়, সকালে শিশুপ্রহরে শিশুদের কলকাকলিতে ভরা। ওরা এসেছিল মা-বাবার হাত ধরে। সিসিমপুরের হালুম, ইকরি, টুকটুকির সঙ্গে চমৎকার একটা সময় কাটিয়ে ছুটেছে বই কিনতে। কেউবা কিনেছে ডাইনোসরের বই, কেউবা ছবি আঁকার। আবার কেউ কেউ গল্পের।

সকাল থেকেই মেলায় এসেছে যুগলরা। হাতে হাত রেখে ঘুরতে ঘুরতেই কেউ কেউ বই কিনেছেন। কেউবা আবার প্রিয় মানুষকে বই উপহার দিয়েছেন। দুপুরের পর থেকে মেলায় লোকসমাগম ছিল দেখার মতো। বিকাল এবং সন্ধ্যাটা বই আর আড্ডায় কাটিয়েছেন অনেকে। ছুটে বেড়িয়েছেন মেলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত। বই বিক্রিও ছিল বেশ। তবে সবার হাতে বই ছিল, এমনটা বলা যাবে না।

দনিয়া থেকে মেলায় আসা তরুণী আঁখি ও মেঘা অন্যপ্রকাশ থেকে হুমায়ূন আহমেদের লেখা বেশ কিছু বই কেনেন। তারা বলেন, হুমায়ূন আহমেদের অনেক বই পড়েছি। যেগুলো এখনও পড়া হয়নি সেখান থেকেই কিছু বই কিনলাম। দিনটিতে মেলায় এসেছিলেন দুই জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন ও আনিসুল হক। সকাল ১০টায় শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক-শাখায় ১০ জন এবং খ-শাখায় ১১ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আশরাফুল আলম।

মূলমঞ্চের আয়োজন : বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে ছিল আসাদ চৌধুরী রচিত সংগ্রামী নায়ক বঙ্গবন্ধু শীর্ষক গ্রন্থের আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শোয়াইব জিবরান। আলোচনায় অংশ নেন আনিসুর রহমান এবং নূরুন্নাহার মুক্তা। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক খুরশীদা বেগম।

প্রাবন্ধিক বলেন, নিজস্ব একটি ভূমির অর্জন ও রক্ষার দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস পৃথিবীতে অনেক রয়েছে। কিন্তু বাঙালি জাতির নিজস্ব স্বাধীন ভূখণ্ড লাভের ইতিহাস সবচেয়ে বিস্ময়কর। বাঙালি জাতি মাত্র নয় মাস সশস্ত্র যুদ্ধ করে তাদের স্বপ্নের একটি স্বাধীন ভূখণ্ড প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিল। কিন্তু এ অবিশ্বাস্য অর্জনের পেছনে একজন মানুষ বিনিয়োগ করেছিলেন তার সমগ্রজীবন। তিনি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অসংখ্য সাহিত্যকর্মের সৃষ্টি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কবি আসাদ চৌধুরীর রচিত সংগ্রামী নায়ক বঙ্গবন্ধু গ্রন্থটি অন্যতম। এখানে অত্যন্ত শিল্পদক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ইতিহাসের একজন মহানায়কের দীর্ঘ অভিযাত্রা।

আলোচকরা বলেন, সংগ্রামী নায়ক বঙ্গবন্ধু গ্রন্থটিতে কবি আসাদ চৌধুরী অত্যন্ত সচেতনভাবে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের কথা তুলে ধরেছেন। বঙ্গবন্ধুর কথা, কাজ ও সংগ্রাম সবই ছিল মানুষের জন্য নিবেদিত। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ ও জীবনদর্শন আমাদের জন্য চিরকালের আদর্শ। ‘সংগ্রাম’ শব্দটি বঙ্গবন্ধুর জীবনের সঙ্গে এতটাই ওতপ্রোতভাবে জড়িত যে, গ্রন্থের শিরোনাম আমাদের সামনে বজ কণ্ঠের এক মহানায়কের অবয়ব ফুটিয়ে তোলে। বাঙালি জাতি হিসেবে আমরা গর্ব অনুভব করতে পারি যে আমরা এ স্বাধীন বাংলাদেশে জন্মেছি এবং বঙ্গবন্ধুর মতো মহান নেতাকে আমাদের আদর্শ হিসেবে পেয়েছি।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক খুরশীদা বেগম বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতা মানবমুক্তির সংগ্রামে কীভাবে নিজেকে উৎসর্গ করতে পারে বঙ্গবন্ধু তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি ছিলেন একজন সহজাত রাজনীতিক। পৃথিবীতে মানুষের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন নেতা বিরল যাঁর ডাকে দুঃখ-দারিদ্র্যপীড়িত একটি দেশের সমগ্র জনগোষ্ঠী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় লিখিত সংগ্রামী নায়ক বঙ্গবন্ধুর গ্রন্থটি তরুণ প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শুক্রবার লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন ফরিদ কবির, মাহবুব আজীজ, আফরোজা সোমা এবং চৌধুরী শহীদ কাদের।

কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়, সাজ্জাদ আরেফিন, তারিক সুজাত এবং সুহিতা সুলতানা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী আহ্কাম উল্লাহ, সায়েরা হাবীব এবং নাজনীন নাজ। সঙ্গীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী খুরশিদ আলম, তানভীর সজীব আলম, তানজিনা করিম স্বরলিপি, মুর্শিদ আনোয়ার, রাজিয়া সুলতানা এবং শরণ বড়ুয়া।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এদিন মেলায় নতুন বই এসেছে ৩৬৯টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- বাংলা একাডেমি থেকে আসাদ চৌধুরীর গ্রন্থ ‘সংগ্রামী নায়ক বঙ্গবন্ধু’, শিশু গ্রন্থ কুটিরের ‘একে চন্দ্র দুয়ে পক্ষ’, অনুপম প্রকাশনী থেকে মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘ছোট একটা নেংটি ইঁদুর’, আনিসুল হকের ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’, কথা প্রকাশ থেকে ইমদাদুল হক মিলনের ‘বাড়িটায় কে যেন থাকে’, সালেক খোকনের ‘দেশে বেড়াই’, আগামী প্রকাশনী থেকে মোহাম্মদ হাননানের ‘শতাব্দীর বঙ্গবন্ধু’, দ্বৈ প্রকাশ থেকে সেলিনা হোসেনের ‘কাকতাড়ুয়া’, নির্মলেন্দু গুণের ‘নির্বাচিত ছড়া’, ফরিদুর রেজা সাগরের ‘মুক্তিযুদ্ধের কিশোর গল্প’, আলী ইমামের ‘বিজ্ঞানের কল্পকাহিনি’, পরিলেখ প্রকাশনা থেকে ড. মীর মো. নূরুল ইসলামের গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘চলনবিল অঞ্চলের লোকমেলা ও লোক উৎসব’।

ঘটনাপ্রবাহ : বইমেলা-২০২০

আরও
আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত